ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

ব্যাটিংয়ে কোনো পরিকল্পনাই ছিল না বাংলাদেশের!

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ৭ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:৪৫, ৭ ডিসেম্বর ২০২১
ব্যাটিংয়ে কোনো পরিকল্পনাই ছিল না বাংলাদেশের!

‘৪ উইকেটে ৩০০ রান করার মতো উইকেট এটা না। আমরা আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম।’– কথাগুলো বলছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭১ রান তুলতে ৭ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিংয়ে ভোগা দিনে নিজেদের ওপর কোনো দায় না নিয়ে বোলারদের ওপর সব দায় চাপালেন তিনি। অথচ পাকিস্তান ৪ উইকেটে ৩০০ রানে ইনিংস ঘোষণার পর ব্যাটিং নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই করেনি বাংলাদেশ।

৭ উইকেটে ৭৬ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলে যাওয়ার পরামর্শই দেওয়া হয়েছিল ড্রেসিংরুমে। সেভাবেই ব্যাটসম্যানরা নিজেদের ২২ গজে মেলে ধরেছেন। বল ঘুরছিল। পাকিস্তানের দুই স্পিনার সাজিদ খান ও নওমান আলী চেপে ধরেছিলেন ব্যাটসম্যানদের। তাদের থেকে ‘বাঁচার’ একটাই উপায় ‘আগ্রাসন’! এমন ভাবনাতেই এগিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। জয়, সাদমান, মুশফিক, মুমিনুল, শান্ত, লিটন যেভাবে আউট হয়েছেন তাতে স্রেফ একটা প্রশ্ন তোলা যায়, ম্যাচটা কি টেস্ট ছিল নাকি টি-টোয়েন্টি? মুমিনল ঝুঁকি নিয়ে রান নিতে গিয়ে রান আউট হন। বাকিরা নিজেদের বিপদ নিজেরা ডেকে আনেন। জয় যেমন এগিয়ে এসে স্লিপে ক্যাচ দেন। লিটনও এগিয়ে এসে ফিরতি ক্যাচ দেন। এছাড়া মুশফিক, মিরাজ সুইপ করতে গিয়ে আউট। সাদমান ও শান্ত স্রেফ এলোমেলো শটে নিজেদের হারিয়েছেন।

পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। দিনের খেলা শেষে শান্ত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সাফাই গাইলেন, ‘উইকেটটা অবশ্যই কঠিন, প্রথম দিন থেকেই দেখা যাচ্ছে সেটা। সবাই আক্রমণাত্মক থাকার কারণ উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না। রান করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখানে যত বেশি রক্ষণাত্মক মানসিকতায় থাকবেন তাহলে আউট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। যে ব্যাটসম্যান যে জায়গায় শক্তিশালী সেই শটটা খেলার চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয় শটগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়নি। যে উইকেট ছিল, যেরকম বল হচ্ছিল সেভাবে যদি আরো বেশি রক্ষণাত্মক থাকত তাহলে আরো বড় সমস্যা হতো। কারণ এই উইকেটে রানটাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্যাটিংয়ে আমাদের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। যার যেটা সহজাত খেলা সেভাবেই ব্যাটিং করেছে।’

নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে শান্ত আরো ওলটপালট ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘উইকেট আসলেই এত সহজ ছিল না। ডিফেন্সের ওপর আস্থা সবারই আছে। শুধু ডিফেন্স করে করে সারাদিন পার করা কঠিন। সঙ্গে শট খেললে ওদের অ্যাটাকিং ফিল সেটআপ ছড়িয়ে যেত। আমার মনে হয় না কেউ অতিরিক্ত আগ্রাসী ছিল।’

শান্ত আউট হয়েও একবার নো বলের কারণে বেঁচে গেছেন। এরপর সাজিদের বলেই এলবিডব্লিউ হয়েছেন ৩০ রানে। তবে তার সাজানো ইনিংস ছিল একেবারেই বাজে। শটগুলোতে কোনো আত্মবিশ্বাস ছিল না। বল মাঝব্যাটেও লাগছিল না। স্পিনে দুর্বলতা চোখে পড়েছে। বারবার সুইপ খেলছিলেন। কখনো সফল হয়েছেন কিন্তু বারবারেই বিপদ বাড়ছিল।

সুইপ খেলার কারণ ব্যাখ্যা করলেন শান্ত, ‘টার্নিং উইকেটে এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এমন উইকেটে সবাই সুইপের ওপরেই বেশি আস্থা রাখে। এজন্যই সবাই সুইপ খেলার পরিকল্পনা করেছে।’

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়