সাকিবের ‘নৈতিকতার প্রশ্ন’ ও বিসিবির ভাবনা...
কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট চলছিল। ম্যাচ চলাকালে ক্যামেরন ব্যানক্রফট বল টেম্পারিং করলে তার দায় পড়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও সহঅধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ঘাড়েও।
তাতে ম্যাচের চতুর্থ দিন সকালে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সংস্থাটির প্রধান জেমস সাদারল্যান্ড সেদিন বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আর অস্ট্রেলিয়ান ভক্তরা ক্রিকেটারদের আচরণে এমন মান আশা করে, যা অস্ট্রেলিয়াকেই প্রতিনিধিত্ব করবে। কিন্তু এই ঘটনায় সেই মান রক্ষা করা হয়নি।’
এরপর তাদের অভিযোগ তদন্ত করা হয়। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শাস্তিও হয়। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন তারা। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদেরকে নেতৃত্বে ফেরায়নি। নৈতিকতার প্রশ্ন নেতৃত্বে ফেরার পথে বাধা হয়েছিল স্মিথ ও ওয়ার্নারের। তাদেরকে পরবর্তীতে আর অধিনায়কও করেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তরুণদের প্রতি নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে এমন ভাবনা কাজ করেছে।
আইসিসি স্মিথ ও ওয়ার্নারকে যতটা না শাস্তি দিয়েছে, তার থেকেও বেশি কঠোর ছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ভালোমানের ক্রিকেট সংস্কৃতি যেন গড়ে ওঠে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্যই তারা কঠোর হয়েছিল।
অথচ ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব গোপন করে আইসিসির নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সাকিব আল হাসান আবারও বাংলাদেশের অধিনায়ক হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বছর নিষেধাজ্ঞা কাটানো এই অলরাউন্ডারকে টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছে। তাকে অধিনায়কত্বে ফেরানো নিয়ে নৈতিকতার প্রসঙ্গ বিসিবির কাছে কোনো গুরুত্ব পায়নি। জানা গেছে, আজকের বোর্ড সভায় সাকিবের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে কোনো টু শব্দও হয়নি। অধিনায়ক নির্বাচনে বিসিবির সব পরিচালকই সাকিবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং তার ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের কথা আলোচনাও হয়নি।
যদিও সভা থেকে বেরিয়ে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন উল্টো কথা। তার দাবি, ‘এগুলো (সাকিবের নৈতিকতা) নিয়ে সব আলোচনা করেই আমরা নিয়েছি। সবকিছু আলোচনা করেই নিয়েছি। ওর ব্যাপারটা একটু ভিন্ন ছিল, অন্যদের মতো ছিল না। এটা আমি আজকে এখানে বলতে চাই না, তবে ওর ব্যাপারটা একটু আলাদা ছিল।’
সাকিবের নিষেধাজ্ঞার কারণ ওয়ার্নার-স্মিথদের থেকে গুরুতর ছিল। যদিও শাস্তি পেয়েছেন সমানে সমান, ১২ মাস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব ফেরেন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর দেশের হয়ে সীমিত পরিসরে প্রায় সব খেলা খেললেও সাদা পোশাকে ছিলেন অনুপস্থিত। নানা কারণে তাকে পাওয়া যায়নি। তাই অধিনায়কত্বে ফেরানো নিয়ে আলোচনাও হয়নি।
তবে এবার মুমিনুল খুব বাজে করায় আবার সাকিবের নাম আলোচনায় আসে। তবে বিসিবির হাতে কোনো উপায় ছিল না, তা সভাপতির কথায় স্পষ্ট, ‘টেস্টে আমার কাছে এই মুহূর্তে যে বিকল্পগুলো ছিল, আমাদের মনে হয়েছে এটাই সেরা অপশন। এটা হলো প্রথম কথা। এবং আপনারা একটা ব্যাপার খেয়াল করবেন, আইসিসি থেকে যে বিবৃতি ও শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, অন্যদের সঙ্গে একটা বিরাট পার্থক্য আছে। ক্লিয়ার কাট পার্থক্য আছে। আপনারা একবার পড়ে দেখেন, নিজেরাই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন।’
সাকিবকে পাওয়া না পাওয়া নিয়ে অনেক দোলাচলে থাকতে হয়। কখন খেলবেন, কখন খেলবেন না সেই নিশ্চয়তা বিসিবির কাছেও থাকে না। তবে বোর্ড সভাপতি আশ্বস্ত করেছেন,‘আমার সঙ্গে যা কথা হয়েছে, অবশ্যই (খেলবে)। আমার আগে অন্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে। শুধু আমি নই, অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওর সঙ্গে কথা বলে যেটা জেনেছি… এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর আমাদের জিম্বাবুয়ে সিরিজ আছে, সেই সিরিজটা সে নিশ্চিত নয়। তবে এরপর যত সংস্করণে যত খেলা আছে, সব খেলবে ও। এই হচ্ছে ওর সঙ্গে কথা। টেস্ট তো অবশ্যই খেলবে বলে জানিয়েছে। এটা আমাদের একটা ক্রাইটেরিয়া ছিল যে খেলবে কি না।’
ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম