ঢাকা     রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

৩ উইকেটের হারে বাংলাদেশের সিরিজ শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩১, ১ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১৯:৫৮, ১ মার্চ ২০২৩
৩ উইকেটের হারে বাংলাদেশের সিরিজ শুরু

স্কোর:  বাংলাদেশ: ২০৯/১০ (৪৭.২ ওভার)
            ইংল্যান্ড: ২১২/৭ (৪৮.৪ ওভার)

            ফল: ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে জয়ী 

আরো পড়ুন:

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হার দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডেবিড মালানের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩ উইকেট জিতে সিরিজে এগিয়ে গেলো ইংল্যান্ড। জয়ের জন্য যখন ২ রান প্রয়োজন তখন শান্তকে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন মালান। বলতে গেলে তার ব্যাটেই বাংলাদেশ হারে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি দলকে জিতিয়ে তবে মাঠ ছাড়েন।   ১৪৫ বলে ১১৪ রান করেন এই বাঁহাতি। তার সঙ্গে আদিল রশিদ ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন মঈন আলী। আর কেউ ২০ রানের ঘর পার হতে পারেননি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। ২ উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ১টি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। 

মালানের সেঞ্চুরিতে জয়ের পথে ইংল্যান্ড

মিডউইকেটে তাসকিন আহমেদকে দারুণ চারে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন মালান। বাটলার-রয়রা ব্যর্থ হলেও মালান ছিলেন অবিচল। ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারানো ইংলিশরা জয়ের ভিত পায় তার ব্যাটে। ১৩৪ বলে সেঞ্চুরি করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬টি চার ও ৪টি ছয়ে তার ইনিংসটি সাজানো ছিল। এর আগে ফিফটি করেছিলেন ৯২ বলে। তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন আদিল রশিদ (১৬)। 

মিরাজ-তাইজুলে চাপে ইংল্যান্ড

মিরাজের পর এবার তাইজুলের আঘাত। মালানের সঙ্গে জুটি গড়া ওকসকে ফিরিয়েছেন সাজঘরে। মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন ওকস। দৌড়ে এসে তালুবন্দি করেন তামিম। ১১ বলে ৭ রান করেন ওকস। তবে ক্রিজে এখনো পথের কাঁটা মালান আছেন (৮১)। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩ উইকেট আর ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ৬০ বলে ৪৪ রান। 

মঈনকে বোল্ড করে মিরাজের প্রতিশোধ

তেত্রিশতম ওভারে মিরাজকে টানা দুই বলে চার-ছয় মেরেছিলেন মঈন আলী। আর ৩৫তম ওভারের শেষ বলে তাকে বোল্ড করে যেন প্রতিশোধ নিলেন মিরাজ। মঈন ফেরায় বাংলাদেশ শিবিরে ফিরে এসেছে স্বস্তি। মালানের সঙ্গে জুটিতে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভয়ঙ্কর হচ্ছিলেন তিনি। ১৪১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারালো ইংল্যান্ড। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৪ উইকেট, আর ইংল্যান্ডের ১৫ ওভারে ৬৯ রান। 

মালানের ধীরগতির ফিফটিতে এগোচ্ছে ইংল্যান্ড

সল্ট-বাটলাররা দ্রুত ফিরলেও মালান এক প্রান্তে আঁকড়ে ধরে খেলে যাচ্ছেন। জ্যাকসকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার পর এখন লড়ছেন মঈন আলীকে নিয়ে। হাঁকিয়েছেন ৯২ বলে ধীরগতির ফিফটি। তার ফিফটি সাজানো ছিল ১ চার ও ২ ছক্কায়। দুজনের জুটি থেকে আসে ২৮ রান। 

জ্যাকসকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দিলেন মিরাজ

মালানের সঙ্গে জুটি গড়ে উইল জ্যাকসের ব্যাট চওড়া হচ্ছিল। ঘুরে দাঁড়িয়ে পালটা প্রতিরোধের আভাস দিচ্ছিলেন। অবশেষে মিরাজের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে ফিরলেন সাজঘরে। পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন আফিফের হাতে। ৩১ বলে ২৬ রান করেন তিনি। ১০৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারালো ইংল্যান্ড। এখনো পথের কাঁটা হয়ে আছেন মালান (৪৪)। 

ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংলিশদের পালটা প্রতিরোধ

৬৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। এখন মালান-জ্যাকসের ব্যাটে উলটো প্রতিরোধ গড়েছে ইংল্যান্ড। দুজনের ৩৬ রানের জুটিতে ইতিমধ্যে ইংলিশদের স্কোর ১০০ ছাড়িয়েছে। মালান ৪২ ও জ্যাকস ২৮ বলে ২৬ রান করেন। জ্যাকস শুরুতে ধরে খেললেও এখন হাত খুলে খেলার চেষ্টা করছেন। 

তাসকিনের গতিতে পরাস্ত বাটলার

তাসকিনের ব্যাক অব লেন্থের বাউন্স করা বলে জায়গা করে পয়েন্টে খেলতে চেয়েছিলেন জস বাটলার। বল ব্যাট স্পর্শ করে চলে যায় স্লিপে থাকা শান্তর হাতে। বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন তাসকিন। ১০ বলে ৯ রান করেন বাটলার। ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ক্রিজে ডেবিড মালানের সঙ্গী উইল জ্যাকস। 

তাইজুলের শিকার ভিন্স

তাইজুলের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বড় ভুল করে বসলেন জেমস ভিন্স। বল ব্যাট ফাঁকি দিয়ে চলে যায় উইকেটের পেছনে, দ্রুত উইকেট ভেঙে দেন মুশফিক। ৯ বলে ৬ রান করেন ভিন্স। ৪৫ রানে তৃতীয় উইকেট হারালো ইংল্যান্ড।

তাইজুলের ঘূর্ণিতে বোল্ড সল্ট

তাইজুলের স্কিড করা বলে জায়গা করে অফসাইডে খেলতে চেয়েছিলেন ফিল সল্ট। কিন্তু বল ব্যাট ফাঁকি দিয়ে ভেঙে দেয় স্লটের স্ট্যাম্প। ১৯ বলে ১২ রান করেন সল্ট। ৩৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

সাকিবের বল তামিমের ক্যাচ, বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুরু:

প্রথম ওভারেই সাকিবকে বল দেন তামিম। অধিনায়ককে হতাশ করেননি সাকিব, শেষ বলেই নিলেন জেসন রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সাকিবের মাথার উপর দিয়ে মারতে গিয়ে টাইমিং মিস করেন রয়, বল উঠে যায় আকাশে। মিড অফে থাকা তামিম সহজেই তালুবন্দি করেন। ক্যাচ ধরেই উল্লাসে মেতে ওঠে তামিম, এরপর সাকিবদের নিয়ে উদযাপন করেন। রয় ৬ বলে ৪ রান করেন। 

ইংল্যান্ডকে ২১০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ:

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৭.২ ওভারে ২০৯ রানে অলআউট হয়।

শুরুতে পেস আক্রমণ দারুণভাবে সামলানোর আভাস দিয়েছিলেন তামিম-লিটন। ছক্কা মেরে মাত্র ৭ রানে লিটন আউট হলে ভাঙে ৩৩ রানের ওপেনিং জুটি। তামিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩২ বলে ২৩ রানে থামে অধিনায়কের ইনিংস। এক প্রান্ত তখনো আগলে রাখেন শান্ত। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি হাঁকিয়ে এগিয়ে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশকে। কিন্ত বেশিদূর যেতে পারেননি ফিফটির পর। ৫৮ রানে ফিরলে আবারও ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসে। শান্তকে সঙ্গ দেওয়া মাহমুদউল্লাহও ফেরেন ৩১ রানে। মুশফিক (১৬), সাকিব (৮) আফিফ (৯) মিরাজরা (৭) ছিলেন ব্যর্থ। শেষ দিকে তাসকিনের ১৪ ও তাইজুলের ১০ রানে দুইশ পার করে বাংলাদেশ।

ইংলিশদের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন জোফরা আর্চার, মার্ক উড, মঈন আলী ও আদিল রশিদ। ১টি করে উইকেট নেন ক্রিস ওকস ও উইল জ্যাকস।

দুইশ পার করে ফিরলেন তাসকিন-তাইজুল 

আদিল রশিদকে পরপর ছয়-চার হাঁকিয়ে শের-ই-বাংলায় কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন তাসকিন। তাইজুলের সঙ্গে জুটি গড়ে দিচ্ছিলেন ভালো কিছুর আভাস। দুজনের ২৫ বলে ২৬ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ২০০ পার করে। তাসকিন ১৪ রানে আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। তাসকিনের আউটের চার বল পর ফেরেন তাইজুলও। ১৩ বলে ১০ রান করেন তিনি। তার আউটে ইতি ঘটে বাংলাদেশ। 

তাসকিন-তাইজুলের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

আফিফের পর বিদায় নিলেন মিরাজ। আর্চারের বলে উইকেটের পেছনে বাটলারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৮২ রানে ৮ উইকেট হারালো লাল সবুজের দল। ক্রিজে তাসকিনের সঙ্গী তাইজুল। তাসকিন রশিদ ছয়-চার মেরে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন। এখন এই দুজনের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। 

এবার ফিরলেন আফিফ, ধুঁকছে বাংলাদেশ

মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে আফিফ প্রতিরোধ গড়তে পারলেন না। উইল জ্যাকসের বলে মিড অনের ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন রশিদের হাতে। ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেটের দেখা পেলেন জ্যাকস। আফিফ ১২ বলে ৯ রান করেন। ক্রিজে মিরাজের সঙ্গী তাসকিন। ১৭৫ রানে রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে 

শান্ত-মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে বিপাকে বাংলাদেশ

ফিফটির পরও দারুণ ছন্দ দেখা যাচ্ছিল শান্তর ব্যাটে। তবে বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি দলকে। আদিল রশিদের গুগলিতে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ দেন শট মিডউইকেটে। দারুণ ক্যাচ নেন জেসব রয়। ৮২ বলে ৬টি চারে ৫৮ রান করেন তিনি। শান্তর আউটের রেশ না কাটতেই সাজঘরে ফেরেন মাহমুউল্লাহ রিয়াদও। মুশফিক-সাকিব আউট হলে দুজনে খেলার হাল ধরেছিলেন। দুজনে ৮০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। শান্তর আউটের পরের ওভারে উডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দয়ে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ৩১ রান। ক্রিজে আফিফের সঙ্গী মিরাজ।  

শান্তর প্রথম ফিফটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বাংলাদেশ

আর্চারকে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিলেন শান্ত। উল্লাসে মেতে ওঠেন দর্শকরা। ৬৭ বলে শান্ত দেখা পেলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাটে ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বাংলাদেশ। পরপর মুশফিক-সাকিব আউট হলে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় স্বাগতিক দল। মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে শান্ত এগিয়ে নিচ্ছেন দল। তার ফিফটির ইনিংস সাজানো ছিল ৫টি চারে। দুজনের জুটি থেকে এখন পর্যন্ত আসে ৩০ রান। 

মুশফিকের পর সাকিবকেও হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

মুশফিক আউট হওয়ার পর দ্রুতই ফিরলেন সাকিব আল হাসানও। ১১ রানের ব‌্যবধানে বাংলাদেশ হারাল দুই নির্ভরযোগ‌্য ব‌্যাটসম‌্যানকে।  দলীয় ১০৬ রানের মাথায় মঈন আলীর বলে অ্যাক্রোস দ্য লাইনে খেলতে গিয়ে মিস করে বোল্ড হন সাকিব। ১২ বলে ১ চারে ৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ২৯ ইনিংস পর ওয়ানডেতে প্রথম পাঁচ নম্বরে খেলতে নেমেছিলেন বাঁহাতি ব‌্যাটসম‌্যান। কিন্তু বড় কিছু করতে পারলেন না। 

উইকেট বিলিয়ে ফিরলেন মুশফিক

তামিম ইকবালের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে টানছিলেন মুশফিকুর রহিম। পেসারদের বিপক্ষে সাবলীল ব্যাটিং করলেও স্পিনারদের খেলতে পারছিলেন না ভালোমতো।

মঈন আলীর করা ১৯তম ওভারে মুশফিক পাঁচ বল খেলে কোনো রান নিতে পারেননি। এরপর লেগ স্পিনার আদিল রশিদকেও খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। তার করা ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে অযথাই স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে মার্ক উডের হাতে ধরা পরেন। সহজ ক্যাচ লুফে নেন উড। ৩৪ বল খেলে ১ ছক্কায় ১৭ রান করে যান অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

উডের বলে ফিরলেন তামিম

ভালো শুরু পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। ক্রিস ওকস ও জফরা আর্চারকে বেশ ভালোভাবে সামলে সাবলীল ব্যাটিং করেছেন। ৪টি বাউন্ডারিতে ভালো কিছুর আশাও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু মার্ক উডের বিপক্ষে টিকতে পারলেন না বাঁহাতি ওপেনার। 

ডানহাতি পেসারের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই বোল্ড তামিম। বাড়তি গতির সঙ্গে শরীরের ওপর তাক করা শর্ট বল। তামিম লাফিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন। বল তার বাঁহাতের পেছনে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। ৩২ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৩ রানে আউট বাংলাদেশের অধিনায়ক। বাংলাদেশ হারাল দ্বিতীয় উইকেট। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।  

ছক্কার পর ‘অক্কা’ লিটন

ব‌্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ব‌্যাটিং করছেন। জফরা আর্চারের দ্বিতীয় ওভার থেকে দুটি বাউন্ডারি মারেন তামিম। পরের ওভারে ফ্রি হিটে হাঁকান আরেকটি চার।

ক্রিস ওকসের করা পঞ্চম ওভারে পুল করে ছক্কা মারেন লিটন। কিন্তু পরের বলেই আউট ডানহাতি ব‌্যাটসম‌্যান। ওকসের ভেতরে ঢোকানো বল মিস করে এলবিডব্লিউ হন ১৫ বলে ৭ রান করা লিটন। উইকেটে নতুন ব‌্যাটসম‌্যান নাজমুল হোসেন শান্ত।    

টস

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর ১২টায় ম্যাচটি শুরু হবে। এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা একাদশ সাজিয়েছে তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে।

বাংলাদেশ একাদশ 

তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম।

ইংল্যান্ড একাদশ

জেসন রয়, ফিল সল্ট, ডেভিড মালান, জেমস ভিন্স, জস বাটলার (অধিনায়ক), উইল জ্যাকস, মঈন আলী, ক্রিস ওকস, আদিল রশিদ, জোফরা আর্চার, ও মার্ক উড। 

বাংলাদেশ প্রস্তুত, বলছেন হাথুরুসিংহে 

দ্বিতীয় মেয়াদে হাথুরুসিংহে ফেরার পর প্রথম সিরিজই পড়ছে ইংলিশদের বিপক্ষে। সপ্তাহখানেক ধরে শিষ্যদের নিয়ে কাজ করে গুরুর হাথুরুসিংহে জানাচ্ছেন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে প্রস্তুত বাংলাদেশ। হাথুরুসিংহে বলেন, ‘আমি মনে করি গত কয়েক দিন ধরে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। আমাদের একটি অনুশীলন ম্যাচ এবং ম্যাচের আদলে অনুশীলন সেশন ছিল। খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতিতে আমি খুবই মুগ্ধ। আমি মনে করি তারা খুব প্রস্তুত।’

হাথুরুসিংহের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু 

দুই বছরের চুক্তিতে তিন সংস্করণের কোচ হয়ে এসেছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। হাথুরুসিংহের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সিরিজ। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট তিন বছর জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ৫৪ বছর বয়সী এ কোচ দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাকায় থাকবেন আরও দুই বছর। প্রথম মেয়াদে হাথুরুসিংহের অধীনে বাংলাদেশ বেশ কিছু বড় সাফল্য পেয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছে। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছিল সেমিফাইনাল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল।

মঈন আলীর হুংকার 

ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী বলেন, ‘কে ফেভারিট বিষয়টা এতো গুরুত্বপূর্ণ না। নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশ বরাবরই ভালো। আমরা শেষ ১০ ম্যাচে ৮টা হেরেছি। কিন্তু আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। লম্বা সময়ে আমরা আমাদের সেরা দলটা পাইনি। কিন্তু এখন উড আছে, জোফরা আছে। উইল জ্যাকসও দলে জয়েন করেছে।’ 

ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ে মরিয়া বাংলাদেশ   

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে সীমিত পরিসরের ক্রিকেটে নতুন পথ চলা শুরু হয় বাংলাদেশের। এ সময়ে ১৩ ওয়ানডে সিরিজের ১২টি জিতেছে বাংলাদেশ। কেবল একটি হেরেছে ২০১৬ সালে। তাও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে। লম্বা এ সময়ে ৩৯ ম্যাচের ৩০টি জিতেছে। হেরেছে ৯টি। ইংল্যান্ড বাদে সবগুলো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ কোনও না কোনও সংস্করণে সিরিজ জিতেছে। এবার ইংল্যান্ডকে হারালে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের বৃত্ত ভরাট হবে।

বিশ্বকাপ বছরে প্রথম ওয়ানডে 

বিশ্বকাপ বছরে এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগের অংশ এই দ্বিপক্ষীয় সিরিজেও থাকছে ৩০ পয়েন্ট। যদিও দুই দলই এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে সিরিজ। তাই ১০ পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা অনেকটাই নেই।

২৩ বছরে ১৭ ম্যাচ, জয় ৪টি

২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২৩ বছরে ইংলিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশ ১৭টি ওয়ানডে খেলেছে। জয় মাত্র ৪টিতে। সবশেষ জয় ঘরের মাঠে ২০১৬ সালে, মিরপুর শের-ই-বাংলায়। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের অধীনে পাওয়া সেই জয়ের পর তিনবারের দেখায় প্রত্যেকবার হেরেছে বাংলাদেশ।

ঢাকা/রিয়াদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়