বিশ্বকাপ ইস্যুতে ইউটার্ন: আগের বক্তব্যে টিকলেন না ক্রীড়া উপদেষ্টা
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
‘‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা—এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।” - কথা গুলো বলছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশের ক্রিকেটার, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর বেরিয়ে গণমাধ্যমে আসিফ নজরুল সরকারের সিদ্ধান্ত জানান।
কিন্তু ১৯ দিনের ব্যবধানে পাল্টে গেল তার বক্তব্য। তার এখনকার দাবি, বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের।
গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এক অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের ক্রিকেট… আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কোনো আক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, ‘‘কোনো রিগ্রেট? প্রশ্নই আসে না।’’
নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। গ্রুপ পর্বের বাংলাদেশের চার ম্যাচ ছিল ভারতে। তিনটি কলকাতায় ও একটি মুম্বাই। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় বাংলাদেশ আইসিসিকে ভেন্যু সরানোর অনুরোধ করে। আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। বিসিবিও তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যখন আইসিসিকে প্রথম ভেনু্য পরিবর্তনের অনুরোধ করে চিঠি পাঠায় সেখানেও উল্লেখ ছিল, সরকার থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও বারবার গণমাধ্যমে বলেছেন, সরকার থেকেই সাড়া পাওয়া যায়নি ভারত সফরের জন্য। দেশের বাইরে যেতে হলে দলগুলোকে জিও নিতে হয় সেসব নিয়মনীতির কথাও বলেছিলেন আমিনুল। কিন্তু যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা নিজের কার্য দিবসের শেষ দিনে বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের ওপরই সব ‘দায়’ চাপিয়ে দিলেন।
বিসিবি শুরু থেকে যখন ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়, তখন ক্রিকেটার কিংবা টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। ক্রিকেটাররা ছিলেন ধোঁয়াশায়। বিপিএলে রংপুর রাইডার্স বাদ পড়ার পর লিটন দাস সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘‘‘‘না, এই বিষয়ে (বিশ্বকাপ) আমার সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। নো কমেন্টস।’’ লিটন এই কথা বলেছিলেন ২০ জানুয়ারি। দুইদিন পর ক্রিকেটারদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ডেকে নেন আসিফ নজরুল।
যেখানে ‘আগে থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত’ তাদেরকে স্রেফ জানানো হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যখন সরকার থেকে চলেই এসেছিল তাই আলোচনায় বসার কারণ অনেকের কাছেই ছিল রহস্যময়ই। ক্রিকেটাররা ভেতরে ভেতরে ভেবেছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবেন কিংবা নিজেদের মত জানাতে পারবেন। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি বলেই জানিয়েছেন জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র। এজন্য বিরক্তও হয়েছিলেন তারা।
এদিকে বিসিবি সভাপতি এই সপ্তাহে পাকিস্তান গিয়ে আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠকের একদিন পরই আইসিসি জানায়, বিশ্বকাপে না খেলার জন্য কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করা হবে না বিসিবিকে। বিসিবির এই কূটনৈতিক দক্ষতাকে জয় হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, “তারা (বিসিবি) যে ক্রিকেট কূটনীতিটা করেছে, আল্টিমেটলি এখন আইসিসি বলছে, আমাদেরকে কোনোরকম শাস্তি-টাস্তি তারা দেবে না, বরং একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক তারা করবে। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট, স্যালুট টু দা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এরকম সিদ্ধান্ত ১০ বার নেওয়ার সুযোগ এলে ১০ বারই এটিই নেওয়া উচিত।”
ঢাকা/ইয়াসিন