ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৮ ১৪৩১

বরিশাল-৫: নৌকা হারাতে মাঠে আওয়ামী লীগের একাংশ

বরিশাল সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২৪, ২ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৭:৫৭, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
বরিশাল-৫: নৌকা হারাতে মাঠে আওয়ামী লীগের একাংশ

স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে সদর আসন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে নৌকাকর্মীরা। নৌকাকে হারাতে একাট্টা হয়েছেন আওয়ামী লীগের একটি অংশ। তারা সাবেক সিটি মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী করতে প্রকাশ্যে নৌকার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। করছেন সভা, সমাবেশ, মিছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে আওয়ামী লীগে বড় ভাঙনের সূচনা করতে পারে।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমান সংসদ সদস্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমকে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন দেন। তবে সেই মনোনয়ন মানতে পারেননি আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি গত জুনে অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রার্থী থাকলেও দলীয় সভাপতি তাকে মনোনয়ন দেননি। তখন তিনি নির্বাচন না করলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজও করেননি। এমনকি তার অনুসারীরাও নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। এবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বরিশাল-৫ আসন থেকে মনোনয়ন চান। তবে এবারও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি। 

সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেনে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাংশ। বিশেষ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু, গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না, মহানগর শ্রমিকলীগ সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক রঈজ আহমেদ মান্না, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেনরিয়াবাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খান, সহ সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতসহ যুবলীগের জেলা নেতাদের একাংশ। 

সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ শুধু প্রার্থী হয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি, এরই মধ্যে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট চেয়ে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা তারই নেতৃত্বে নগরীতে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের নামে সভা করেছেন। সেখানে প্রকাশ্যে নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে ও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষে জনসমর্থন চাওয়া হয়। এমনকি সিটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। 

সমাবেশে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমাদের পাকা ফসল কেটে আর একজনে ঘরে তুলবে, তা হতে দেওয়া হবে না। আমরা কোনো বহিরাগতকে সুযোগ দেব না। সিটি নির্বাচনে আমাদের গাঁধা বানিয়েছে। ওই নির্বাচনের মতো আর খালি মাঠে গোল দিতে দেব না। এবার খেলা হবে। জনগন ভোট কেন্দ্রে যাবে।’ 

তার এই বক্তব্যে দলের মধ্যে সমালোচনা হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার (০২ ডিসেম্বর) নগরীতে ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। 

নৌকার প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম একাধিক বক্তব্যে বলেছেন, সিটি নির্বাচনেও সাদিক আব্দুল্লাহ দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। তারপরও জনগণ উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। এবারও জনগণ ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে নৌকার প্রার্থীকেই বিজয়ী করবেন বলে আশা করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল (অব.) শামীম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। আর সাদিক আব্দুল্লাহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়েছেন। সভাপতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়া মানে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।’ সাদিক আব্দুল্লাহর এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলীয় হাই কমান্ড ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করেন তিনি। 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সদ্য নির্বাচিত মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, সাদিক আব্দুল্লাহ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা দায়িত্বহীন। দলীয় পদে থেকে দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি এ কাজ করতে পারেন না। তবে তার এই প্রার্থিতা নৌকার উপর প্রভাব ফেলতে পারবে না। কারণ জনগণ উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকেই বিজয়ী করবেন। আর যারা সত্যিকারের দল করেন, তারা সবাই নৌকার সঙ্গে থাকবেন বলে মনে করেন তিনি। 

জাহাঙ্গীর সাহেব (এ কে এম জাহাঙ্গীর) আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে সংগঠন তথা আওয়ামী বিরোধী এ রকম বক্তব্য দেয়ায় নিন্দা জানান মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। তিনি বলেন, ‘দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে আবেদন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমাদের কাছে সভাপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ 

এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি শান্তি সমাবেশে যা বলেছি সঠিক বলেছি। সেই বক্তব্য শুনলে বোঝা যাবে কী বলতে চেয়েছি। এটি নিয়ে যারা হেয়প্রতিপন্য করতে চান, তারা কারা?’

আরিফুর/বকুল

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়