ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৫ ১৪৩১

পাবনা-৩: প্রচারণার অংশ নেয়ায় ৯ শিক্ষককে শোকজ

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩  
পাবনা-৩: প্রচারণার অংশ নেয়ায় ৯ শিক্ষককে শোকজ

নির্বাচনি প্রচারণা

পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর) আসনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৯ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। তাদের অধিকাংশই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে পাবনা-৩ আসনের জন্য গঠিত নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির প্রধান এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম শোকজের চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন সকালে প্রত্যেককে পৃথকভাবে চিঠি দেন তিনি। 

ওই শোকজ চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনি (আপনারা) একজন শিক্ষক হয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মকবুল হোসেনের পক্ষে নৌকা প্রতীকের সমর্থনে প্রকাশ্যে প্রচারণা করছেন। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীক) এর প্রধান এজেন্ট মো. আব্দুল ওয়াহিদ লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার প্রেক্ষিতে সরেজমিন অনুসন্ধান করে আপনার (আপনাদের) বিরুদ্ধে প্রচারাভিযানসহ ভোট প্রার্থনার বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা আপততদৃষ্টে প্রতীয়মান হয়েছে। যা নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম।’ 

এমন আইনভঙ্গের কারণে কেন আপনার (আপনাদের) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই মর্মে আগামী ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় আপনি নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হলো।

শোকজপ্রাপ্তরা হলেন, ভাঙ্গুড়ার মাদারবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন, সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসানুজ্জামান স্বপন, খানমরিচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল সোবাহান, চকদিগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান, সুলতানপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, পুকুরপাড় আইডিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান, একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আলী এবং মন্ডতোষ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ।

এ বিষয়ে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টার বলেন, ‘ভোট প্রভাবিত করতে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনের অনেকে কাজ করছেন। এর মধ্যে শিক্ষকরাও রয়েছেন। যারা ভোটের দিন বিভিন্নভাবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন। এ রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়ে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মকবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মেসেজ পাঠিয়েও তার সাড়া মেলেনি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের একজন নির্বাচনে তালিকাভুক্ত সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পুকুড়পাড় আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আলী বলেন, ‘আমি এমন কোনো চিঠি এখনও পাইনি। কেউ হয়ত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অভিযোগ দিতে পারেন। এ সব অভিযোগ সঠিক নয়। নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছি, কিন্তু কেন্দ্র এখনও বণ্টন করা হয়নি।’

শাহীন/বকুল 

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়