কেরানীগঞ্জে রাতের আঁধারে মাটি চুরি
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে তিন ফসলি জমি ও সরকারি খাস জমি কেটে অবাধে মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। মাটিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি ও পরিবেশ।
উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর করেরগাঁও এলাকার কুমলির বনসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রাত নামলেই ভেকু মেশিন দিয়ে জমির মাটি কেটে ট্রাক ও ডাম্পারে তোলা হয়। পরে এসব মাটি আশপাশের বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি ট্রাক মাটি সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হয় এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০০ ট্রাক মাটি পাচার করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে বলেন, “গত বছরও একই চক্র বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে প্রায় দেড় কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা করেছিল। এবার আবারো নতুন করে মাটি কাটা শুরু হয়েছে।” প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি বলেও জানান তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন, “গত বছর মাটি চুরির সময় সেনাবাহিনীর অভিযানের আশঙ্কায় তারা একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল। করেরগাঁও এলাকায় রাতে যত মাটি কাটা হয়, সবই ইটভাটায় যায়। এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা গেলে মাটি চুরি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।”
শীতের রাতে কুয়াশার সুযোগ নিয়ে রাত ১০টার পর থেকে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। ট্রাক ও ভেকু মেশিনের বিকট শব্দে এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়লেও প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, “আগে এক দলের লোকজন মাটি কাটত, এখন অন্য দলের লোকজন কাটছে। কিন্তু, সাধারণ মানুষের জমি নষ্ট হওয়া বন্ধ হয়নি। গত বছর কোটি কোটি টাকার মাটি কাটা হলেও কেউ শাস্তি পায়নি। তাই এবারো তারা আবার শুরু করেছে।”
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: উমর ফারুক বলেন, “কোথাও অবৈধভাবে মাটি কাটার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে অবৈধ মাটি চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা/শিপন/জান্নাত