কুমিল্লায় জামায়াতের প্রার্থীসহ ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল, বৈধ ৪৪
কুমিল্লা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৬টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে কাগজপত্রে ত্রুটি পাওয়ায় ৬০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ও ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিনব্যাপী কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা-১, কুমিল্লা-২, কুমিল্লা-৩, কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-৫, কুমিল্লা-৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই সেখানে প্রার্থী, তাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের উপস্থিতিতে নির্বাচন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলে।
যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।যাচাই-বাছাই চলাকালে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র, সমর্থনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়।
এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক যাচাইয়ে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের, কুমিল্লা-২ (হোমনা তিতাস) আসনের ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের ৯ জনের মধ্যে ২ জনের, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ৮ জনের মধ্যে ২ জনের, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে ১০ জনের মধ্যে ১ জনের ও কুমিল্লা-৬ আসনে ১১ জনের মধ্যে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন কুমিল্লা-১ আসনের জাতীয় পার্টি সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান, জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক, কাজী মো. ওবায়েদ ও আবু জায়েদ আল মাহমুদ। কুমিল্লা-২ আসনের ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. শাহাব উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রমিজ উদ্দিন ও মো. মনোয়ার হোসেন। কুমিল্লা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ইউসুফ সোহেল ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মনিরুজ্জামান। কুমিল্লা-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. করিম, খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন। কুমিল্লা-৫ আসনের বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল কাফি ও কুমিল্লা-৬ আসনের বাসদের কামরুন নাহার সাথী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হারুনুর রশিদ।
এদিকে, যাছাই-বাছাই এর সময়ে বেশ কিছু আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নের প্রতি আপত্তি জানিয়েছে একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বিশেষ করে কুমিল্লা-৪ ও কুমিল্লা-৬ আসনে। কুমিল্লা-৪ আসনের জামায়াত-এনসিপি জোট প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি মনোনয়ন পত্রে তথ্য লুকিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। যদিও যাছাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সে আপত্তিটি নাকোচ করে দিয়েছেন ও বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নটি বৈধ ঘোষণা করেছেন। আবার, কুমিল্লা-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনও একই আসনের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা যাছাই-বাছাই করে সেটিও নাকোচ করে দিয়েছেন ও মনিরুল হক চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলের সুযোগ পাবেন বলেও জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, “আমরা যাচাই-বাছাই এর প্রথম দিনে কুমিল্লার ৬টি আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। এর মধ্যে হলফনামায় ত্রুটি, স্বাক্ষর ত্রুটি ও আরো নানা কারণে ১৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। যাদের বাতিল করা হয়েছে তারা আগামী ৫ তারিখ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।”
ঢাকা/রুবেল/সাইফ