ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২০ ১৪৩২ || ১৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মতলব সেতুতে ফাটল, ঝুঁকি নেই বলছে কর্তৃপক্ষ

চাঁদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৮, ৭ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১১:৫০, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
মতলব সেতুতে ফাটল, ঝুঁকি নেই বলছে কর্তৃপক্ষ

মতলব সেতুর এক্সপানশন জয়েন্টের ফাটল

চাঁদপুরে ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিত মতলব সেতুর এক্সপানশন জয়েন্টে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে আছেন গাড়িচালক ও যাত্রীরা। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কোনো কাঠামোগত ফাটল নয়, তাই ঝুঁকি নেই।

স্থানীয়দের ধারণা, গত ২১ নভেম্বর সারাদেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মতলব সেতুটিও ক্ষতির কবলে পড়ে। সেতুর এক্সপানশন জয়েন্টে ফাটল দেখা যায়। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কাঁপতে থাকে। তাছাড়া, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুর দুপাশের রাস্তার মাটি-বালু সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত বলেও জানান তারা। 

আরো পড়ুন:

চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলা নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লার বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকায় নিয়মিত যোগাযোগের জন্য এ সেতু ব্যবহার করেন। প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন সেতুটিতে চলাচল করে।

সূত্র জানায়, মতলব উত্তর ও দক্ষিণের সরাসরি যোগাযোগ এবং চাঁদপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ধনাগোদা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয় চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। সেতু নির্মাণে ৫৬ কোটি টাকা ও জমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় ২৮ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আরো ৮ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ৯২ কোটি টাকায় ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব বাজারের পূর্বপাশে সেতুটি নির্মাণ করে সওজ। সেতুতে ১০.২৫ মিটার প্রস্থের সাতটি স্প্যান রয়েছে এবং দুপাশের অ্যাপ্রোচ সড়কটি ১.৮৬ কিলোমিটার।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয় সেতু নির্মাণের। ২০১৭ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্মাণ ও অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ ২০১৮ সালের জুন মাসে সম্পন্ন হয় এবং সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, “গত বছরের ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পের পর সেতুর মাঝ দিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের আগে ফাটল ছিল না।সেতুটি পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।” 

রিপন হোসেন বলেন, “জরুরি সেবা, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে প্রতিদিন সেতুটির ওপর দিয়ে।”

পথচারী হাসান বলেন, “সেতুর উত্তর পাশের রাস্তার বেহাল দশা। এই রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে সেতু থেকেও কোনো লাভ নেই। অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনে পড়বে নেতিবাচক প্রভাব।” 

গাড়ি চালক চালক আশরাফ আলী বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে ব্রিজটি ফাইটা গেছে। ব্রিজে উঠার রাস্তাও অনেক খারাপ। মেরামত করা জরুরি।”

কলেজ শিক্ষক মো. জয়নাল বলেন, “সেতুর অবস্থা খারাপ, আমরা জানি না কখন কী ঘটে। তারপরও জীবন হাতে নিয়ে প্রতিদিন পার হতে হচ্ছে।” 

স্থানীয় সবুজ বেপারী বলেন, “সেতুর মাঝখানে ফাটল এবং দু-পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে বড় খর্ত হয়েছে। মানুষের জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষায় অবিলম্বে সেতুটি মেরামত করা প্রয়োজন।”

ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম নবী খোকন বলেন, “এই সেতু বন্ধ হলে আমাদের ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় যাতায়াত পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সেতুর দু'পাশের সড়ক এবং মাঝখানের ফাটল সংস্কার করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

নিরাপদ সড়ক চাই মতলব দক্ষিণ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বাবু বলেন, “মতলব সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষ এই সেতুটি ব্যবহার করেন। সেতুর দু'পাশের রাস্তার বেহাল দশা। সেতুর মাঝখানে জয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আহ্বান জানাচ্ছি।” 

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো হবে।”

চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, “এটি কোনো কাঠামোগত ফাটল নয়। তাই ঝুঁকি নেই। সেতু নির্মাণের নিয়ম অনুযায়ী দুটি স্প্যানের মাঝখানে এক্সপানশন জয়েন্ট রাখা হয়। তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে এই ফাঁকা জায়গা ছোট বা বড় হতে পারে, যা শীতকালে বেশি দৃশ্যমান হয়। আমাদের এক্সপার্ট টিম পরিদর্শন করেছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/অমরেশ/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়