ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১১ ১৪৩২ || ৫ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাগেরহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট 

বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ২৪ মার্চ ২০২৬  
বাগেরহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট 

বাগেরহাটে পাম্পে তেলের জন্য মোটরসাইকেলের ভিড়।

বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার-পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না যানবাহন চালকরা। ঈদের তিন দিন আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে বাগেরহাটের পেট্রোল পাম্পের এই অবস্থা। 

ঈদের পরে সরকারি অফিস খুললে সংকট কেটে যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশিরভাগ পাম্পে তেল পাওয়া যায়নি। সকালে শহরের খারদ্বার এলাকায় খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশন ও বরকত ফিলিং স্টেশন ঘুরে পেট্রোল না পেয়ে ইউনুস শেখ নামে এক মোটরসাইকেল চালক ছুটে শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনে। সেখানে ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরতে হয় তাকে। 

আরো পড়ুন:

এভাবে জ্বালানি তেলের হাহাকার শুরু হয়েছে বাগেরহাটে। জেলার বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলায় ২৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। অন্য চারটি উপজেলার মানুষকেও নির্ভর করতে হয় এসব ফিলিং স্টেশনের উপর। ২৩টি ফিলিং স্টেশনে তীব্র তেল সংকট রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে দাবি পাম্প মালিকদের। 

ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করা রোকনুজ্জামান বলেন, পেশাগত কারণে প্রতিদিন একশত কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালাতে হয়। এক সপ্তাহের মতো হলো, তেলের খুব সংকট যাচ্ছে। খুবই চিন্তায় আছি, কখন যেন পুরোপুরি গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। 

সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করা নুরুজ্জামান বলেন, ‘‘গত রাতে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ২০০ টাকার তেল নিয়েছি। সকাল থেকে আবারও মার্কেটে আছি। সুযোগ পেলে পাম্পে ঢু মারি, যদি তেল আসে নিয়ে নেবো। চাকরি বাঁচাতে হলে তো মোটরসাইকেল লাগবে।’’  এভাবেই অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন মোটরসাইকেল চালকরা। 

গণপরিবহনের চাহিদার তুলনায় কম তেল দিয়ে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন পাম্প মালিকরা। কারণ ডিজেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া ধান ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গণপরিবহন চালকদের দাবি পর্যাপ্ত তেল না দেওয়ায় অতিরিক্ত চাপের মধ্যে গাড়ি চালাতে হচ্ছে তাদের।

রায়েন্দা-ঢাকা রুটের বাস চালক আনসার মুসল্লী বলেন, ‘‘ডিজেলের সংকটের কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মাঝপথে একাধিক পাম্পে তেল নিতে সিরিয়ালে দাঁড়াতে হচ্ছে। যার কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না যাত্রীরা। এতে অনেক সময় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন।’’ 

পেট্রোল মালিকদের দাবি ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ তেল দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ সময় পুরোপুরি পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। 

খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের নজেল ম্যান আছাদ বলেন, ‘‘উপর থেকে যদি আমাদের তেল না দেয়, আমরা কোন জায়গা থেকে গাড়িতে তেল দেবো। প্রতিদিন ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও আড়াই হাজার লিটার অকটেন দরকার, সেখানে দুই দিন পরে দেড় হাজার লিটার অকটেন দিচ্ছে। অকটেন দিলে পেট্রোল দিচ্ছে না। এভাবে চলা খুব কষ্ট। অনেক গাড়ি চালক আামাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করে। কিন্তু আমাদের কী করার আছে?’’ 

কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী বদিউজ্জামান খোকন বলেন, ‘‘ডিপো থেকে তেল পাইলেই আমরা যানবাহনে তেল সরবরাহ করছি। প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল পাওয়ায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সকালে যতক্ষণ তেল ছিল, আমরা তেল দিয়েছি।’’ 

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘‘তেলের সংকটের জন্য আমরা সাধারণ মানুষও অনেকটা দায়ী। অনেকে তেল কিনে অবৈধভাবে মজুদ করছেন বাড়তি লাভে বিক্রির আশায়। এছাড়া প্রয়োজন না থাকলেও কেউ কেউ গাড়ির ট্যাংকি পূর্ণ করে রাখছেন, যার কারণে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।’’ 

তিনি বলেন, ‘‘ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছি। যারা অবৈধভাবে তেল মজুদ করছে, তাদের চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হবে।’’
 

ঢাকা/আমিনুল/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়