হাদি হত্যার ১০০ দিন: ঝালকাঠিতে বিচার দাবিতে মানববন্ধন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ১০০তম দিনে বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।
মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ, সদস্য আল তাওফিক লিখন, অন্দ্রিলা সরকার, আরিফ বিল্লাহ ও ফাহফুজ খান। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেয়।
বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি হত্যার ১০০ দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত বিচারের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্তর্বতী সরকার ৯০ দিনের মধ্যে বিচার করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে প্রতিফলন হয়নি।
তারা আরো বলেন, নতুন সরকার গঠনের পরও এই হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, কারা অর্থদাতা এবং হোতা কারা— এ সব বিষয় এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা বন্ধ করতে হবে। ইনসাফের স্বপ্নদ্রষ্টা হাদির জন্য প্রকৃত ইনসাফ নিশ্চিত করতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি বেশ কিছু দিন ধরে গণসংযোগ করে আসছিলেন। গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
আলোচিত এই হত্যার তদন্তে যুক্ত বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। সেই রাজনীতির কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করেছিলেন ফয়সাল করিম। তাঁকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। এ হত্যার পর ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলামও ভারতে পালিয়ে যান বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা।
সম্প্রতি হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
ঢাকা/অলোক/বকুল