ঢাকা     বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৮ ১৪৩২ || ১২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঝিনাইদহের পাম্পে ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩৮, ১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৩:১৪, ১ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহের পাম্পে ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গ্রাম পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে নিজের মোটরসাইকেলের জন্য তেল নেন ট্যাগ অফিসার সোহাগ আলী

জ্বালানি তেল বিক্রির সময় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের একটি পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার সোহাগ আলীর বিরুদ্ধে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের আয়েশা ফিলিং স্টেশনে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন তেলের জন্য পাম্পে আসা গ্রাহকরা। 

আরো পড়ুন:

ট্যাগ অফিসার সোহাগ আলী উপজেলার ৩ নম্বর কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে কর্মরত।

পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকরা জানান, শহরের আয়েশা তেল পাম্পে দুইজন ট্যাগ অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন- উপ সহকারী পাট কর্মকর্তা ফারুক হোসেন ও কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সোহাগ আলী। বুধবার সকাল ৭টা থেকে আয়েশা পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়।

তাদের অভিযোগ, সোহাগ আলী পাম্পে আসেন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। এরপর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ দিয়ে নিজের মোটরসাইকেলের ট্যাংকি পূর্ণ করেন। তিনি প্রত্যেককে ৫০০ টাকার বেশি তেল না দেওয়ার কথা বললেও নিজের পরিচিত ও আত্মীয়দের ইচ্ছামতো তেল দিতে বলেন পাম্প কর্তৃপক্ষকে। এ নিয়ে উপস্থিত মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।

আয়েশা পাম্পে তেল নিতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, “ভোর থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকার তেল দিলেন। আর ট্যাগ অফিসারের নিজের গাড়ির ট্যাংকি পূর্ণ করে নিলেন। ট্যাগ অফিসার তার পরিচিত অনেকের কাছে ইচ্ছামতো তেল দিতে বলেছেন পাম্পের কর্মচারীদের।”

আরেক মোটরসাইকেল চালক মনির হোসেন জানান, সকাল থেকে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই পাম্পে ট্যাগ অফিসার সিরিয়াল ভঙ্গ করে নিজের পরিচিত লোকজনদের আগে তেল দিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো কোনভাবেই কাম্য নয়।

আয়েশা ফিলিং স্টেশনের মালিক সাহেদ কবির লিমন বলেন, “তেল আমরা ভোক্তাদের দেওয়ার জন্য আনছি। সঠিকভাবে সবাইকে তেল দেওয়ার চেষ্টা করছি। তেল সঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে কিনা এটা দেখভাল করেছেন ট্যাগ অফিসার।”

ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির যে অভিযোগ উঠেছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সোহাগ আলী বলেন, “আমি প্রত্যেককে ৫০০ টাকার তেল দিতে বললেও কাউকে বেশি দিতে বলিনি।” 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার গাড়িতেও তো তেল নিতে হবে। তাই আমি গ্রাম পুলিশ দিয়ে আমার গাড়িতে তেল নিয়েছি।”

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, “কে কত টাকার তেল নিতে পারবে এটা পাম্প মালিক নির্ধারণ করবে। নিয়ম-কানুন ও আইনশৃঙ্খলা দেখার জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহক তার চাহিদা মতো জ্বালানি তেল নিতে পারবেন।”

ঢাকা/শাহরিয়ার/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়