ঢাকা     বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৮ ১৪৩২ || ১২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কাপ্তাই হ্রদে আজও বন্ধ স্পিডবোট চলাচল, তেল পেতে ভোগান্তি

রাঙামাটি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৫:৩০, ১ এপ্রিল ২০২৬
কাপ্তাই হ্রদে আজও বন্ধ স্পিডবোট চলাচল, তেল পেতে ভোগান্তি

রাঙামাটিতে প্রয়োজনীয় কাগজ যাছাই শেষে তেল নিতে পারছেন পরিবহন চালকরা।

রাঙামাটিতে জ্বালানি তেল সংকট দিনদিন তীব্র আকার ধারণ করছে। সীমিত সরবরাহের কারণে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে তেল বিতরণ করা হচ্ছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

এদিকে, বুধবার (১ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল। যে কোনো সময় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন:

বুধবার ভোর থেকেই জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যানবাহন চালকদের। চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিতে অকটেন সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

ক্রেতারা জানান, বর্তমানে তেল নিতে হলে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে হেলমেট বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে তিনদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অকটেন এবং অন্য তিনদিন ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সীমিত সময় ও স্বল্প পরিমাণ সরবরাহের কারণে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

শহরের মেসার্স মহসিন স্টোর্স ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক সুনয়ন খীসা বলেন, “দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। তার ওপর পর্যাপ্ত তেলও পাচ্ছি না। ৩০০ টাকার তেল দিয়ে আমাদের হয় না। আমি অনেক দূরে চাকরি করি, প্রতিদিন আসা-যাওয়ায় প্রায় দুই লিটার তেল লাগে।”

অপর চালক মানিক সুজা বলেন, “সব পাম্পে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না। আবার নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে গেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও আর তেল দিচ্ছে না। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে।”

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা শহরের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে কাজ করছি। গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স যাচাই করে তেল দেওয়া হচ্ছে। সব বৈধ যানবাহন যাতে জ্বালানি পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নৌপরিবহন খাতেও। তেলের অভাবে কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে মঙ্গলবার থেকে। যদিও যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো এখনো চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেলে যেকোনো সময় লঞ্চ চলাচলও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বরকল উপজেলায় চলাচলকারী এম এল বাগদাদ লঞ্চের সারেং মাসুম মিয়া বলেন, “আমাদের লঞ্চ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। আমরা পাচ্ছি মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ লিটার। এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাবে।”

রাঙামাটির ছয়টি উপজেলার ১০টি নৌরুটে প্রায় ৩০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করে।

ঢাকা/শংকর/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়