মুন্সীগঞ্জে নানা কাণ্ডে সমালোচিত মিজানুর রহমান
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
মো. মিজানুর রহমান
বদলি আদেশ উপেক্ষা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতের মতো অভিযোগের পাশাপাশি সম্প্রতি ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
সম্প্রতি মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও রেকর্ড যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। উল্টো দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় দুই সাংবাদিক মো. মঈনউদ্দিন আহমেদ ও আবু সাঈদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন মিজানুর রহমান।
মো. মঈনউদ্দিন আহমেদ দৈনিক ‘মুন্সীগঞ্জের সময়’ পত্রিকার সম্পাদক ও আবু সাঈদ দেওয়ান ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র জেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ কাণ্ডের পরও যদি একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর রোষানলে পড়ে সাংবাদিকদের হয়রানি হতে হয় এটা দেশ ও জাতির জন্য লজ্জার। আর কত দুর্নীতি ও অনিয়ম হলে মিজানুর রহমানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওমরাহ পালনের জন্য ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে সৌদি আরব যান মিজানুর। কিন্তু নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার অনেক পরে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‘যুগান্তর’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আরিফ উল ইসলাম বলেন, ‘‘ঘুষের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও একজন কর্মচারী স্বপদে বহাল থাকে কীভাবে? উল্টো তিনি সাংবাদিকদের হয়রানি করছেন। এর দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’’
‘প্রথম আলো’ পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘‘নানা অনিয়ম ও ঘুষ কাণ্ডে ওই কর্মচারীর (মিজানুর রহমান) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এমন অপরাধের পরও যদি কেউ ছাড় পায়, তাহলে এ ধরনের অপরাধ বাড়তেই থাকবে। আমরা সবসময় আমাদের সহকর্মীদের পক্ষে আছি। সকল অসৎ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’’
একই দাবি করে ‘আর টিভি’র মুন্সীগঞ্জ পশ্চিম প্রতিনিধি হামিদুল ইসলাম লিংকন বলেন, ‘‘এতো স্বচ্ছ প্রমাণ থাকার পরও কিভাবে একজন ঘুষ গ্রহণকারী কর্মচারী স্বপদে বহাল থাকে? তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’’
এ দিকে ভিডিওতে প্রকাশিত টাকার উৎস সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান জানান, এটি তার বাড়ি ও দোকান ভাড়ার টাকা। পরে একই বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি ভিন্ন দাবি করেন। তিনি তখন ওই টাকা তার ঘনিষ্ঠ এক চিকিৎসকের বলে জানান। এভাবে একই বিষয়ে তার দুই ধরনের বক্তব্যে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘জেলা কোটায় চাকরি পেয়ে মুন্সীগঞ্জে কর্মরত আছি। তবুও আড়াই বছর ঢাকায় চাকরি করে পুনরায় মুন্সীগঞ্জে বদলী হয়ে এসেছি।’’
সর্বশেষ মাদারীপুরে বদলী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছি। বর্তমানে রিট মামলা বিচারাধীন।’’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার বলেন, ‘‘ভিডিও ফুটেজটি দেখেছি। মিজানুর রহমানকে ভিডিও সংক্রান্ত বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছিল এবং তিনি ইতোমধ্যে তা জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি, ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে নতুন করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
ঢাকা/রতন//
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ