ঢাকা     শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩৩ || ৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘জামায়াত-শিবিরকে যারা গুপ্ত বলে, তারাই ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল’

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০৪, ২৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৫:০৭, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
‘জামায়াত-শিবিরকে যারা গুপ্ত বলে, তারাই ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল’

ঝিনাইদহ শহরে জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে শুক্রবার দুপুরে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আজকে যারা জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলে, ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির গুপ্ত উপদেষ্টারা ছিলেন, যারা এই সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। কাজেই জনগণ জানে আসল গুপ্ত কারা।”

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের একটি পার্কের মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে।

আরো পড়ুন:

সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে। আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। এই সরকার কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে ফিরে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হায়নার মতো লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণ কর্তৃত্ববাদী শাসন আর মেনে নেবে না।”

জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, “ঝিনাইদহের মাটি শহীদের রক্তে ভেজা জনপদ। বছরের পর বছর এ অঞ্চলের মানুষ কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। জীবনের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছে। আমাদের সামনে নতুন করে কর্তৃতবাদী শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। জনগণ আর কখনো সরকারকে কর্তৃতবাদী হওয়ার সুযোগ দেবে না।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বগুড়ায় একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জামায়াতের ওপরে নাকি স্বৈরাচারের আত্মা ভর করেছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপি সরকারকে ভূতে ধরেছে। কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের ভূতে ধরেছে এই সরকারকে। যে কারণে সরকার চাইলেও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারছে না। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার এখন ছলচাতুরী শুরু করেছে।”

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের আয়োজনে নির্বাচনের আগে চার মাস ধরে দফায় দফায় সংলাপ হয়েছে। ৩৩টি রাজনৈতিক দল সংবিধান সংস্কারে ঐক্যমতে পৌঁছায়। দুঃখের বিষয়, বিএনপি সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পয়েন্টে নোট অফ ডিসেন্ট দেয়। অধিকাংশ দল সংবিধান সংস্কারে ঐক্যে পৌঁছালেও বিএনপি তার বিরোধিতা করেছে। এখন তারা গণভোটের রায়কে বাতিল করতে চায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/শাহরিয়ার/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়