ঢাকা     সোমবার   ২৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩৩ || ৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কক্সবাজারে অপহৃত ৬ জন উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার  

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৪, ২৪ মে ২০২৬  
কক্সবাজারে অপহৃত ৬ জন উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার  

পাচারকারী চক্রের আস্তানা থেকে এক বাংলাদেশি এবং পাঁচ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে এক বাংলাদেশি ও পাঁচ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ সময় চক্রের এক নারী সদস্যকে বিপুল পরিমাণ মিয়ানমারের মুদ্রাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার (২৪ মে) বিকেলে র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক এ তথ্য জানান। 

আরো পড়ুন:

সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক জানান, শনিবার (২৩ মে) দিবাগত রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গোদারবিল এলাকার একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, ওই এলাকার মো. আলী আজগরের বাড়িতে মানবপাচারকারী চক্র কিছু নারী, পুরুষ ও শিশুকে জিম্মি করে রেখেছে। 

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, উখিয়ার যুগল বড়ুয়া এবং বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হুসাইন আহম্মেদ, কামাল হোসেন, আয়েসা, শুভ তারা ও সাদেক।

তিনি আরও জানান, চক্রটি ভুক্তভোগীদের সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের পাশাপাশি তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আটকে রাখে। অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে চক্রের সক্রিয় এক নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ মিয়ানমারের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া যুগল বড়ুয়া জানান, গত ২২ মে সকালে উখিয়ার কুতুপালং এলাকা থেকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে অপহরণ করে ওই আস্তানায় নেওয়া হয়। পরে অন্যান্য ভুক্তভোগীদেরও বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ করে সেখানে আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগীর বরাতে আ ম ফারুক জানান, পাচারকারী চক্রটি ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে তাদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করার হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কামাল হোসেন নামে এক ভুক্তভোগীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। গ্রেপ্তার নারী সদস্য এবং পলাতক অন্যদের বিরুদ্ধে মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন-২০১২ অনুযায়ী টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা/তারেকুর/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়