ঢাকা     বুধবার   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

এক পায়ে তামান্নার জীবনযুদ্ধ

জয়নাল আবেদীন, ববি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৪, ২৯ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৩:৩৩, ২৯ জানুয়ারি ২০২২

ইচ্ছাশক্তি প্রবল থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা জয় করা সম্ভব। তার প্রমাণ দিয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছার শারীরিক প্রতিবন্ধী তামান্না আক্তার নূরা। এক পা-ই তার সম্বল। দুটি হাত ও একটি পা তার জন্ম থেকেই নেই। এক পায়ে লিখে পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ-৫। 

২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এবারও ফলাফল আশানুরূপ পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। স্বপ্ন দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন। বিসিএস ক্যাডার হওয়ারও স্বপ্ন দেখেন। পরিবারের আর্থিক অনটনে সেটি এখন স্তিমিত হয়ে যাওয়ার উপক্রম। তবুও যেনো থেমে নেই তামান্না। 

আরো পড়ুন:

তার গ্রামের বাড়ি ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে। বাবার নাম রওশন আলী, মা খাদিজা পারভীন শিল্পী। বাবা স্থানীয় ছোট পোদাউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার (নন এমপিও) বিএসসির শিক্ষক। মা গৃহিণী, তিনি বাড়ির কাজ দেখাশোনা করেন। তিন সন্তানের মধ্যে সেই সবার বড়।

তামান্নার পিতা রওশন আলী বলেন, ছোটবেলা থেকে তার মা খুব কষ্ট করেছেন। জন্মের পরেই বোঝা হিসেবে নয়, তাকে দেখিয়েছেন স্বপ্ন। হুইল চেয়ারে করে স্কুল-কলেজে নিয়ে যেতাম, আবার নিয়ে আসতাম। একজন জন্মপ্রতিবন্ধী হলেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমার মেয়ে। কিন্তু আমার স্বল্প আয়ে এখন পড়াশোনার খরচ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ শিক্ষাগ্রহণে ও অ্যাডমিশনে অনেক খরচ, যেটা আমার পক্ষে সম্ভব না। এখন আমার মেয়ের স্বপ্নপূরণে দরকার সহযোগিতা।

তামান্নার এক প্রতিবেশি বলেন, তামান্না ছোটোবেলা থেকেই অনেক মেধাবী। একটা পা দিয়ে সে পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাকে সবাই সাপোর্ট করলে দেশের সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে। সমাজে প্রতিবন্ধী বোঝা নয়, তা তামান্নাকে দেখলে বোঝা যাবে। তার ভেতরে একটি অদম্যশক্তি ও সাহস আছে।

বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সামছুর রহমান বলেন, তামান্না আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী। তার মেধার প্রশংসা আমাদের কলেজ শিক্ষকরা প্রায় করেন। শুধু পড়াশোনা নয়, তামান্না ভালো ছবিও আঁকে। এমনকি কম্পিউটার প্রযুক্তিতেও সে দক্ষ।  জন্ম থেকেই তার দুটি হাত ও একটা পা নেই। অথচ একটা পা দিয়েই তামান্নার যুদ্ধ থেমে নেই।আমি আশারাখি সে ভবিষ্যতে অনেক ভালো কিছু করবে। তবে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার বিত্তশালীদের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা।

তামান্না বলেন, আমি প্রতিবন্ধী, তবে কারো বোঝা নই। এটা প্রমাণ করার সুযোগ চাই। আমার বাবা অল্প বেতনভুক্ত শিক্ষক। তিনি আমার জন্য অনেক করেছেন। এখন তার কষ্ট হচ্ছে। আপনারা যদি আমার পাশে সাহায্যের হাত নিয়ে না দাঁড়ান, আমার পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। ভবিষ্যৎও বিলীন হয়ে যাবে। 

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়