ঢাকা     বুধবার   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

ফয়সাল আহমেদ (ডিআইইউ সংবাদদাতা) || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

ফয়সাল আহমেদ, শিক্ষার্থী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আহমেদ জিনান, শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আনিসুর রহমান পিলু।

কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরই শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন তরুণ ভোটাররা, যারা সংখ্যায় বিশাল এবং শক্তিতে সম্ভাবনাময়। একই সঙ্গে তারা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে অংশ নেবেন বহুল আলোচিত গণভোটেও।

এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ঘিরে তরুণদের মনে কাজ করছে নানা প্রত্যাশা, ভাবনা ও দায়িত্ববোধ। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই সন্ধিক্ষণে নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে তাদের অনুভূতি, দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বপ্ন কেমন—তরুণদের পত্যাশা নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে সেটা তুলে আনার প্রয়াসে এই প্রতিবেদন।

আরো পড়ুন:

প্রথম ভোট, ইতিহাসের সাক্ষী তরুণরা

দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। আমি ফয়সাল আহমেদ; ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। আমি নিজেও সেই সৌভাগ্যবানদের একজন, প্রথমবার ভোট দেবো। এই ভাবনাটাই আমাকে ভীষণভাবে পুলকিত করে। কারণ এটা শুধু একটি ভোট দেওয়া নয়, এটা নিজের নাগরিক দায়িত্ব পালন করার প্রথম বড় পদক্ষেপ।

আর সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো—আমরা কেবল ভোটারই নই, আমরা ইতিহাসেরও সাক্ষী হতে যাচ্ছি। একটি গণভোটের সাক্ষী হওয়া মানে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরাসরি অংশ নেওয়া।

আমরা যারা প্রথমবার দেশের পরিবর্তনের জন্য ভোট দেবো, আমাদের কাঁধে একটি বড় দায়িত্ব। আমাদের ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশ—ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার কতটা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। তাই আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে; ভয় নয়, সাহস নিয়ে; লোভ নয়, আদর্শকে সামনে রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই প্রথম ভোট যেন শুধু একটি দিনের ঘটনা না হয়, বরং সারাজীবনের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার শপথ হয়—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

সচেতন ভোটেই বদলাবে ভবিষ্যৎ: আহমেদ জিনান, শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে ওঠে তখনই, যখন জনগণ সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়—এটাই আমার বিশ্বাস এবং প্রত্যাশা। নির্বাচন ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো যেন নাগরিকদের সেই অংশগ্রহণের সত্যিকারের প্রতিফলন হয়ে ওঠে, এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা। আমি চাই, প্রতিটি ভোট যেন কেবল মত প্রকাশের মাধ্যম না হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের দায়িত্বশীল অঙ্গীকার হয়ে দাঁড়ায়।

আমার প্রত্যাশা মানুষ যেন পরিবর্তনের কথা বলার পাশাপাশি সেই পরিবর্তন আনার সাহসও দেখায়। সচেতন সিদ্ধান্ত আর দৃঢ় অবস্থানই পারে দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে। আমি চাই এই উপলব্ধি সবার মাঝে জাগ্রত হোক। ভোটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও যে অসাধারণ প্রভাব রাখতে পারে, সেটা যেন সবাই উপলব্ধি করে।

সবচেয়ে বড় কথা, আমি আশা করি এই ঐতিহাসিক সুযোগ কেউ অবহেলায় হারিয়ে ফেলবে না। বরং আমরা সবাই মিলে প্রমাণ করতে পারব—সচেতন নাগরিকই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি। গণতন্ত্র যেন শুধু একটি শব্দ না থেকে বাস্তব শক্তিতে পরিণত হয়—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

শিকড়ের টানে ভোট দিতে গ্রামে ফেরা: আনিসুর রহমান পিলু

ঢাকা থেকে গ্রামের পথে ফিরতে ফিরতে আমার মনে একটাই আশা কাজ করেছে—আমি যেন আমার ভোটের মাধ্যমে নিজের শিকড়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে পারি। ছোটবেলার সেই পথ, সেই মাটির গন্ধ, পরিচিত মুখগুলো আজ যেন আমাকে নতুনভাবে ডাকছে। আমি চাই, এই ভোট শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে আমার গ্রামের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি অর্থবহ পদক্ষেপ হয়ে উঠুক।

আমার আকাঙ্ক্ষা, আমার মতো যারা দূর শহর থেকে গ্রামে ফিরে এসেছে, তারা যেন সবাই অনুভব করে নিজের জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা কতটা গভীর। আমি আশা করি, এই ভোটের মাধ্যমে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারব, যা আমাদের এলাকার মানুষদের জীবনকে আরো সুন্দর ও নিরাপদ করবে।

আমি বিশ্বাস করি, ভোটাধিকার একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই শক্তি যেন আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, সেটাই আমার প্রত্যাশা। আজ আমি শুধু ভোট দিতে আসিনি; আমি আশা নিয়ে এসেছি, আমার একটি সিদ্ধান্ত যেন আমার মানুষ, আমার গ্রাম আর আমার দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করে।

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়