রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ডাবল সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারাল দ. আফ্রিকা
ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ উপভোগ করল ক্রিকেটপ্রেমিরা। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আহমেদাবাদে ডাবল সুপার ওভারের মাচে ৪ রানে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা।
এদিন টস হেরে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান করে। জবাব দিতে নেমে ১৯.৪ ওভারে ১৮৬ রান তুলে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। তাতে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে আফগানিস্তান আগে ব্যাট করতে নেমে ১৭ রান তোলে। জবাবে ১ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাও তোলে ১৭ রান। তাতে আবারও সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ।
সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করে ৩ ছক্কায় ২৩ রান করে। জবাব দিতে নেমে আফগানিস্তান দুই উইকেট হারিয়ে ১৯ রানের বেশি করতে পারে না। তাতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ডাবল সুপার ওভার শেষে ৪ রানের দারুণ এক জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
তার আগে ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষদিকে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু টানা উইকেট পতনে তাদের ব্যাটিং ছন্দপতন ঘটে। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, হাতে মাত্র একটি উইকেট।
বল হাতে ছিলেন অভিজ্ঞ পেসার কাগিসো রাবাদা। চাপের সেই মুহূর্তে প্রথম বলই করেন নো বল, পরের ডেলিভারি ওয়াইড। এরপর আবারও নো বল। উত্তেজনা চরমে ওঠে। চতুর্থ বৈধ বলে ফজলহক ফারুকি রান আউট হলে স্কোর সমতায় পৌঁছে যায়। ১৯ দশমিক ৪ ওভারে ১৮৭ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। ফলে ম্যাচ টাই হয়।
প্রথম সুপার ওভার: পাল্টাপাল্টি আঘাত
সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজকে নিয়ে ইনিংস শুরু হয়। বল করেন লুঙ্গি এনগিডি। ওমরজাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। প্রথম দুই বলেই মারেন দুটি বাউন্ডারি। একটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে চার, পরের বলেই ছক্কা। এরপর দুই বলে দুটি এক রান। পঞ্চম বলে আবারও চার। শেষ বলে এক রানের বেশি নিতে না পারলেও তারা মোট ১৭ রান তোলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জবাবে ব্যাট হাতে নামেন ডেভিড মিলার ও ডেওয়ার্ল্ড ব্রেভিস। বল করেন ফজলহক ফারুকি। প্রথম বলে মিলার নেন এক রান। দ্বিতীয় বলে ব্রেভিস ছক্কা মারলেও পরের বলেই আউট হন। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭ রান। ট্রিস্টান স্টাবস ছক্কা হাঁকিয়ে আবারও সমতায় ফেরান ম্যাচ।
দ্বিতীয় সুপার ওভার: তিন ছক্কায় বড় সংগ্রহ
দ্বিতীয় সুপার ওভারে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মিলার ও স্টাবস। তিনটি ছক্কায় তারা গড়ে তোলেন ২৩ রানের বড় পুঁজি। ফলে আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪। জবাবে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানরা। মোহাম্মদ নবী দুই বল খেলে আউট হলে ম্যাচ অনেকটাই দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে গুরবাজ হাল ছাড়েননি। পরের তিন বলে টানা তিন ছক্কা মেরে লড়াই ফের জমিয়ে তোলেন।
শেষ বলে দরকার ছিল ৬ রান। এর আগে কেশব মহারাজ একটি ওয়াইড করায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। কিন্তু নির্ধারিত শেষ বলেই গুরবাজ ক্যাচ আউট হলে আফগানদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। ৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস: রিকেলটন-ডি ককের ঝড়
এর আগে টসে জিতে আফগানিস্তান দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাট করতে পাঠায়। শুরুতেই সাফল্য এনে দেন ফজলহক ফারুকি, ফেরান অধিনায়ক এইডেন মার্করামকে। তবে রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি কক দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৩ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর এই দুই ব্যাটার ৬১ বলে গড়েন ১১৪ রানের দারুণ জুটি।
৪১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৯ রান করে রশিদ খানের বলে আউট হন ডি কক। একই ওভারে রশিদ ফেরান ২৩ বলে ফিফটি করা রিকেলটনকেও। ২৮ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি মারেন ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা।
শেষদিকে ডেভিড মিলার ১৫ বলে ২০ ও মার্কো জানসেন ৬ বলে ১৬ রানের কার্যকর ক্যামিও খেলেন। আফগানদের হয়ে আজমতউল্লাহ ওমরজাই নেন ৩টি এবং রশিদ খান ২টি উইকেট।
আফগানিস্তানের জবাব: গুরবাজের লড়াই
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আফগানিস্তান। ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ খেলেন ৪২ বলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৭টি ছক্কা। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় রুদ্ধশ্বাস পরিণতিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লুঙ্গি এনগিডি ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট।
শেষ পর্যন্ত দুই সুপার ওভারের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে হাসি ফোটে দক্ষিণ আফ্রিকার শিবিরে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি হয়ে থাকে স্মরণীয় এক ম্যাচ।
এই জয়ে দুই ম্যাচ খেলে দুটিই জিতে পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেল তারা।
ঢাকা/আমিনুল
২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৪৭