ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২০ ১৪৩২ || ১৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঢামেক নিয়ে কিছু কথা

তৌফিক সুলতান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ৮ নভেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১১:৫৫, ৮ নভেম্বর ২০২৩
ঢামেক নিয়ে কিছু কথা

প্রতিদিন সকাল-দুপুর-রাতে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড় জমে থাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। সকাল থেকে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। পাশেই অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। ২১ ফেব্রুয়ারি আসলে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ। দিনের প্রথম প্রহর থেকে সবাই আসতে থাকে শ্রদ্ধা জানাতে। অন্য দিনগুলোতে সবাই শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আসে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে।

শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ আর ঢামেক পাশাপাশি থাকলেও কিন্তু তাদের চিত্র একরকম নয়। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন রূপে ফুটে উঠে। এসব সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে ওঠে ঢামেকের শিক্ষার্থী ও নার্সদের মন। ঢামেকের ভেতরে ছোট্ট একটি বাগানের মতো আছে। ক্লাসের ফাঁকে সেখানে শিক্ষার্থীদের অবসর সময় কাটে আড্ডায়। সঙ্গে বন্ধুদের নিয়ে ছবি তোলা তো আছেই।

ঢামেক হাসপাতাল মূলত তৈরি হয়েছে মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে। সেখানেও দালালের খপ্পরে পড়ে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছেন অনেক অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। চিকিৎসা সেবা আরও একটু সহজ করলে হয়তো অসহায় রোগীদের দালাল চক্রের খপ্পরে পড়তে হতো না। এ অবস্থার কি পরিবর্তন হবে না? জানি কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট চেষ্টা করছেন, তবুও কোথাও যেন একটা কমতি থেকে যাচ্ছে চিকিৎসা সেবার মান নিশ্চয়তায়।

ঢামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটি ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রোগী দেখা হয়। এদিনগুলোতে সকাল ৮টার আগে থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রোগী, ডাক্তার আর বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যস্ততা দেখা যায়। তবে বিভিন্ন দালাল চক্রের আনাগোনা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বাহির্বিভাগে (খোলা থাকা সাপেক্ষে) সব সময়ই দেখা যায়।

জরুরি বিভাগের ভিড় যেন শেষই হয় না; সব সময় লেগেই থাকে। ওয়ার্ডগুলোতে দেখা মিলে রোগী ও তার স্বজনদের আর্তনাদ। তখন বার বার মনে পড়ে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। এসব দেখে মন খারাপ হলে শিক্ষার্থীরা ঢামেকের পূর্ব পাশে একটু খোলামেলা যায়গায় কিছুটা সবুজ ও ফুলের মুগ্ধতায় হারিয়ে যায় এক স্বপ্নের জগতে। কিছু সময়ের জন্য ভুলে যায় সমস্ত দুঃখ-কষ্ট।

আমাদের দেশে কোনো ঘটনা ঘটার পর কিছুদিন আলোচনা থাকে। কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেজন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।  তাই আসুন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করি।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আবেদন, তারা যেন এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন করে। এ কথা বলার কারণ হলো- ঢামেকের আশপাশে দেখা মিলে মাদক সেবনকারীদের। অনেকটা পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। ঢামেকে সিকিউরিটি গার্ডকেও মাদকাসক্তদের ছুরির আঘাত সহ্য করতে হয়েছে। 

‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’- এর বাস্তবায়ন শুধু কথায় নয়, কাজেও হোক। আরও একটি বিষয়, শিক্ষার্থীদের মাঝে যদি এখন থেকেই ভালো কাজের আলো ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে মানুষ তাদের কাছ থেকে কিছুই আশা করতে পারবে না।

অনিয়ম বন্ধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যদি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তবে হাসপাতালে রোগী থেকে চিকিৎসক বেশি থাকবে বলে মনে করি। তাই বলছি- সচেতন থাকুন, সৎ থাকুন। সবাই মিলে সুস্থ থাকুন। সমস্যা বুঝে সমাধানের চেষ্টা করুন। মানুষের পাশে এগিয়ে যান।

লেখক: ইন্টার্ন শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

/মেহেদী/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়