ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২ || ২১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্পে দেশীয় প্রযুক্তিতে গুরুত্বারোপ বাকৃবির

বাকৃবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২১, ১০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৮:২৭, ১০ মার্চ ২০২৬
রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্পে দেশীয় প্রযুক্তিতে গুরুত্বারোপ বাকৃবির

কৃষিতে রাসায়নিক বালাইনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে জৈব বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ‘একাডেমিয়া–শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য দেশীয় কীটরোগকারী ছত্রাক (এপিএফ) ভিত্তিক বাণিজ্যিক জৈব বালাইনাশক উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন:

হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT) কর্মসূচির আওতায় একাডেমিক ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (এটিএফ) প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মশালার লক্ষ্য ছিল দেশীয় ছত্রাক ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে জৈব বালাইনাশক তৈরির পথ সুগম করা। প্রকল্পটির মেয়াদ তিন বছর।

কর্মশালায় প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

তিনি জানান, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় এন্টোমোপ্যাথোজেনিক ছত্রাক (এপিএফ)-এর কার্যকর স্ট্রেইন শনাক্ত, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য জৈব বালাইনাশক উৎপাদন করা। এর ফলে একদিকে নিরাপদ সবজি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “কৃষিখাত নিয়ে তার দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই কৃষক ও কৃষির সংকটগুলো তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যেন গবেষণাগারের চার দেয়াল পেরিয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও বাণিজ্যিকীকরণ সম্ভব হলে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও র‍্যাংকিং বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প ও অ্যাকাডেমিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে লাল তীর সিড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, “অ্যাকাডেমিক গবেষণাকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে আসাই এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একটি টেস্টিং ল্যাব রয়েছে, যেখানে প্রথমে পণ্যটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এরপর বাজারজাতের আগে অধিকতর নিশ্চিত হতে এটি বাহ্যিক পরীক্ষাগারেও পাঠানো হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা রাণী দে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ও সহকারী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. মো. আমীর হোসেন।

ঢাকা/লিখন/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়