ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনে তামিমের যেসব উদ্যোগ
চলমান ক্রিকেট বর্ষে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের যে চ্যালেঞ্জ ছিল তা উতরে গেছে তামিম ইকবালের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্লাবগুলোকে রাজি করিয়ে দেশের ক্রিকেটের একমাত্র ৫০ ওভারের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরু করতে যাচ্ছে বোর্ড। আগামী ৪ মে ঢাকা ও আশেপাশের ৬টি মাঠে নামবে ১২টি ক্লাব। আয়োজন সব চূড়ান্ত। ঢাকা লিগের স্পন্সর হিসেবে এক বছর বিরতি দিয়ে ফিরেছে ওয়ালটন। পাওয়ার্ড স্পন্সর আছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এছাড়া প্রথমবারের মতো বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছে তামিমের বোর্ড।
ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বিসিবি এবার ৬টি মাঠে খেলোয়াড়দের খাবারের ব্যবস্থা করবে। প্রথমবারের মতো ঢাকা লিগে খেলোয়াড়দের খাবার দিতে যাচ্ছে বিসিবি। এছাড়াও এবারের লিগে প্রথমবারের মতো থাকছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়াও দুর্নীতি দমন বিভাগের (এসিইউ) তৎপরতা ও বিভিন্ন নিয়ম-কানুন থাকবে বিপিএলের মতো করেই। এই ব্যবস্থাও ঢাকা লিগে নেওয়া হচ্ছে প্রথমবার।
এতে বিসিবির কোষাগার থেকে প্রচুর অর্থ খরচ হলেও তামিম বিষয়গুলোকে দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তার মতে, এটা ক্রিকেটের জন্যই ইনভেস্টমেন্ট।
মাঠে ফিটনেস নিয়ে কাজ করার পর ম্যাচে গিয়ে ক্রিকেটাররা যে খাবার পান সেগুলো নিয়ে অভিযোগ ছিল অনেক সময়ই। ক্লাব সংস্কৃতির কারণে সেসবে পরিবর্তন আসেনি বছরের পর পর। বোর্ড থেকে এবার তামিমরা মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করছে, ‘‘ফিটনেস নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি, চিন্তা করি। ফিটনেস পরীক্ষায় ন্যূনতম স্কোর না পেলে টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হয় না। কিন্তু ফিটনেস পরীক্ষা শেষ করার পর দেখা যায়, লাঞ্চে আলু ভর্তা, গরুর মাংস আর ভাতই থাকে। ফিটনেস নিয়ে এত ভাবনা যদি থাকে বা মানদণ্ড সেট করতে চান, সব দিক থেকেই চেষ্টা করতে হবে। এবার আমরা বিসিবির তরফ থেকে প্রত্যেকটা দলকে লাঞ্চও প্রোভাইড করছি।”
“এটা জানি যে হুট করে ওই ভাতের অভ্যাস থেকে গ্রিলড চিকেনে নিয়ে আসা… আমাদের জাতীয় দল বা ‘এ’ দল কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা এই খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত… কিন্তু যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন, তাদের জন্য পুরো বদল করে দেওয়া কঠিন… তবে অন্তত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না হবে বা একটা ভালো মেন্যু সেট করে দেওয়া হবে। খাবারের মান তাই এবার অনেক ভালো হবে।”
এছাড়া এসিইউর তৎপরতা নিয়ে তামিমের ব্যাখ্যা, “যদি গত দুই বছরে ফিরে তাকান, চার থেকে পাঁচজনের ঘটনা (গুরুতর অসুস্থতা) আছে মাঠে। কেউ প্রাণ হারিয়েছে, আমি সৌভাগ্যবশত বেঁচে গেছি। এটা বিসিবির দায়িত্ব যে, যতটুকু করতে পারি অতটুকু ব্যবস্থা করে রাখি। আমাদের প্রতিটা মাঠেই কম-বেশি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জ, তারপরও চারটা থেকে পাঁচটা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকেএসপির দুই মাঠে একটা থাকবে। এ ধরনের ঘটনা যদি আবার কারও সঙ্গে ঘটে, তাহলে আমরা আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত।”
মাঠের দুর্নীতি রোধেও তৎপর বিসিবি, ‘‘অ্যান্টি করাপশনের যে রুলস এন্ড রেগুলেশনস আছে, বিপিএলে আমরা যখন মাঠে আসি, বাস থেকে নামার পরই আমাদের ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। কেবল ম্যানেজারের ফোন থাকে। এটা আইসিসির অ্যান্টি-করাপশনের অনেকগুলো নিয়মের মধ্যে পড়ে।”
‘‘এই জিনিসগুলো আমরা এবার থেকেই বাস্তবায়ন করা শুরু করছি। প্রত্যেকটা দলের ম্যানেজমেন্টে যারা আছে, তাদের সঙ্গে এর মধ্যেই সভা করেছে অ্যান্টি করাপশন ইউনিট এবং যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, তা জানিয়ে দিয়েছেন।” – যোগ করেন তিনি।
মাঠে ক্রিকেট ফিরছে। এর চেয়ে আনন্দের খবর আর নেই। সেই আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছ বোর্ড। ১২ দলের প্রায় দুইশ ক্রিকেটার আগামী ৪ জুন পর্যন্ত ব্যাট-বলের প্রতিযোগিতায় মাতবে। নতুন কয়েকটি উদ্যোগে এই আসর হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
মেডিয়েশন কার্যক্রমে নতুন মামলা করার প্রবণতা কমবে: আইনমন্ত্রী