Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২২ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ১০ ১৪২৮ ||  ১০ জিলক্বদ ১৪৪২

চলচ্চিত্রে কপিরাইট: কারো মাথাব্যথা নেই

রাহাত সাইফুল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০২, ২৩ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৮:০৯, ২৩ এপ্রিল ২০২১
চলচ্চিত্রে কপিরাইট: কারো মাথাব্যথা নেই

মৌলিক সৃষ্টিকর্মের মালিকানা নিশ্চিত করতেই কপিরাইট করা হয়। যে কোনো লেখা, শিল্পকর্ম, সংগীত, চলচ্চিত্রসহ মৌলিকভাবে তৈরি সবকিছুই কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত। অথচ দেশের অধিকাংশ চলচ্চিত্রের কপিরাইট রেজিষ্ট্রেশন নেই।  সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টির গুরুত্বও কম। অনুসন্ধানে দেখা যায় নকল চলচ্চিত্র এর একটি বড় কারণ।

৯০ দশকে নির্মিত সুপারহিট চলচ্চিত্র ‘পিতা মাতা সন্তান’ ভারতের ‘অবতার’ থেকে নকল করা যা ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায়, ২০১৭ সালে মুক্তি পায় ‘অহঙ্কার’, এটিও ভারতীয় ‘অটো শঙ্কর’ সিনেমার নকল। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। দিন যত এগিয়েছে দেশের চলচ্চিত্রে নকল সিনেমা তৈরির প্রবণতা বেড়েছে।

অন্যদিকে কপিরাইট আইন মেনে ভারতীয় অনেক চলচ্চিত্র এ দেশে নির্মিত হয়েছে। এই তালিকায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দিল’, ‘স্বজন’ উল্লেখযোগ্য নাম। এর উল্টো ঘটনাও আছে। অর্থাৎ এ দেশের চলচ্চিত্র কলকাতায় কপিরাইট মেনেই নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও দেশে কপিরাইট নিয়ে আগ্রহ নেই কেন?

কপিরাইট রেজিষ্ট্রেশনে অনাগ্রহের একটি কারণ হলো, সিনেমা মুক্তি দিয়েই প্রযোজক, পরিচালক দায় মুক্ত হন। তারা সিনেমাটি থার্ড পার্টির কাছে বিক্রি করে দেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্মাতা মতিন রহমান বলেন, ‘মৌলিক কাজ ছাড়া কেউ কপিরাইট নিতে যাবে না। আসল প্রশ্ন- গল্পটা মৌলিক কিনা? আমাদের দেশে সবগুলো সিনেমার কপিরাইট হয় না। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে৷ কিন্তু বাংলাদেশের নির্মাতারা কপিরাইট নিয়ে ভাবছেন বলে আমার মনে হয় না।’

মৌলিক গল্পে সিনেমা হচ্ছে না। অর্থাৎ গল্পের সংকট; তাহলে চলচ্চিত্র কোন দিকে যাচ্ছে? উত্তরে এই নির্মাতা বলেন, ‘এটা ভালো লক্ষণ নয়। নিজস্ব সংস্কৃতি রেখে, অন্যের গল্প থেকে সিনেমা নির্মাণ করলে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়। অনেক সময় দেখেছি, টেলিভিশনের নাটকও সিনেমা হয়ে যাচ্ছে।’

প্রায় ৫০টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন পরিচালক সমিতির মহাসচিব নির্মাতা শাহীন সুমন। এর একটিও কপিরাইট করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে শাহীন সুমন বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বেশিরভাগ মানুষ কপিরাইট করেন না। কপিরাইট অফিসে যেতে হবে, বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হবে- এসব ঝামেলায় যেতে কেউ চান না৷ সিনেমা বানালাম, মুক্তি দিয়েই খালাস- এ নিয়ে ভাবেন না কেউ। তবে কপিরাইট করা উচিত। এতে আইনি জটিলতা থাকবে না।’

‘আয়নাবাজি’খ্যাত নির্মাতা অমিতাভ রেজা বলছেন ভিন্ন কথা। সেন্সর ছাড়পত্র থাকলে অন্য কেউ এই গল্পের সিনেমা নির্মাণ করতে পারবেন না। এই নির্মাতা বলেন, ‘সিনেমা নির্মাণ করে সেন্সর বোর্ডে পাস করালে সেটি অলরেডি নির্মাতার নামে কপিরাইট হয়ে যায়। আমার এই সিনেমা কেউ বানালে আমি মামলা করতে পারবো। আমার সিনেমাটি যখন তামিলরা বানালো তখন আমার স্ত্রিপ্টের কপিরাইট তারা নিয়েছে। যদিও স্ক্রিপ্টের কপিরাইট আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান করেছে কিনা তা আমি জানি না। আমি মনে করি সবার এটা করা উচিত।’

কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘পুরনো সিনেমাগুলো প্রযোজকগণ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে যারা কিনেছেন তারাই সিনেমাগুলোর কপিরাইট রেজিষ্ট্রেশন  করছেন। কিন্তু মূল প্রযোজকদের কপিরাইটে আগ্রহ নেই। তারা প্রয়োজনও মনে করছেন না।’

তবে আশার খবর হলো, প্রতি বছর কপিরাইট রেজিষ্ট্রেশনের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালে ৬৩১টি সিনেমা কপিরাইট রেজিষ্ট্রেশন করা হয়৷ সর্বশেষ ২০২০ সালে ৩৬২১টি সিনেমা রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে। তবে এসব সিনেমার অধিকাংশই পুরনো ও অনুদানের সিনেমা।

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়