ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২ || ১৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তিন মাসে ৫ শতাংশের বেশি কমেছে খেলাপি ঋণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫৬, ৩ মার্চ ২০২৬  
তিন মাসে ৫ শতাংশের বেশি কমেছে খেলাপি ঋণ

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমলেও এখনো তা উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা, যা ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগের প্রান্তিক অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, ২৫ সালের তুলনায় খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশের বেশি। গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বা ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আরো পড়ুন:

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার প্রয়োজন ছিল ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯১ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা সঞ্চিতি রেখেছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। গত  নিরাপত্তা সঞ্চিতি ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে প্রভিশন ঘাটতি কমেছে এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নানা অনিয়ম ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত প্রভাবশালী অনেক ব্যবসায়ী পালিয়েছেন। কেউ কেউ জেলে আছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নীতি সহায়তার আড়ালে খেলাপি ঋণ লুকিয়ে রাখা হতো। আবার নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি রেখেও লভ্যাংশ ঘোষণা করা যেতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক কড়াকড়ি করা হয়। ফলে একদিকে খেলাপি ঋণের আসল চিত্র সামনে এসেছে, আরেক দিকে নিয়ম করা হয়েছে সঞ্চিতি ঘাটতি রেখে ২০২৫ সালের জন্য কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারবে না। যে কারণে বিশেষ সুবিধায় পুনঃতফশিল বা আদায় জোরদার করেছে ব্যাংকগুলো। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে খেলাপিদের বিষয়ে কঠোর হলে এ ঋণের পরিমাণ দিন দিন আরো কমবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেই খেলাপি ঋণের চাপ সবচেয়ে বেশি।

 রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৪৪.৪৪ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকে ২৮.২৫ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকে ৪.৫১ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৯.৭৪ শতাংশ।

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণই এই অবস্থার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, তিন মাসে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশই মন্দ বা ক্ষতিগ্রস্ত ঋণ, অর্থাৎ আদায়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তাই সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণ কমলেও টেকসই উন্নতির জন্য প্রয়োজন কঠোর ঋণ নজরদারি, সুশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা। যদিও নতুন গভর্নর এমডিদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানিয়েছেন, বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর নির্বাহীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।

ঢাকা/নাজমুল/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়