চীন ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের (সিইএবি) উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও পুঁজিবাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সিইএবি’র ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে ডিএসই’র পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং সিইএবি’র পক্ষে সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন নেতৃত্ব দেন।
ডিএসইর প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও রূপান্তরে চলমান উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেছেন, দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কার্যকর রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারের ভবিষ্যত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে কৌশল প্রণয়ন চলছে এবং চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যৌথ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে৷ এই প্রক্রিয়ায় সিইএবি’র সহযোগিতা এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি দেশের মতো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেরও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীদের এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া আজকের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হবে এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়নে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ডিএসই আগ্রহী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে তাদের বিনিয়োগ ও তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করবে।
এদিকে সিইএবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন তাৎপর্যপূর্ণ সূচনার বৈঠক উল্লেখ করে বলেছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বর্তমানে সিইএবি’র সদস্য সংখ্যা ২৫০-এর বেশি এবং তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সক্রিয়। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেতু, টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা কোম্পানিগুলোর অবদান উল্লেখযোগ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিইএবি’র পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে সিইএবি বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করে যাবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে সিইএবি’র অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- চায়না বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, হুয়াওয়ে, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেংফেই’স সাপ্লাই চেইন, জিংসু কনস্ট্রাকশন, হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট, চেন হুইমিন, হুইসি দা অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ল’ ফার্ম, চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো, বাংলাদেশ সিনো-সোর্স কনস্ট্রাকশন, সিকেডি লেজার, ডংজিং গ্রুপ, কোকো ফ্যাশন, জিয়াংসু গুয়োতাই হুয়াশেং, শিন গাও টেক্সটাইল, জিংতাই রোড অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি, বিওএফ, ভিভো এবং শেনজেন কিংডমমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বৈঠকে ডিএসইর পক্ষে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মোঃ আসিফুর রহমান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আদিব হোসেন খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদল ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হল ও ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শন করেন৷
ঢাকা/এনটি/বকুল
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল জয়ী