ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা, এমডি বাধ্যতামূলক ছুটিতে
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ইসলামী ব্যাংকে ফের অস্থিরতা চলছে। হঠাৎ করে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওমর ফারুক খানকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে । আগামী দেড় মাস তিনি ছুটিতে থাকবেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে তাঁর ছুটি কার্যকর হবে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
পর্ষদে থাকা ব্যাংকটির এক পরিচালক জানান, এমডি ব্যক্তিগত কারণে ছুটির আবেদন করেন। পর্ষদের আজ তার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। দেড় মাসের ছুটিতে তিনি বিদেশ যাবেন।
এমডি মূলত বিদেশ সফরের জন্য ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু পর্ষদ তাকে বাধ্যতামূলক আগামী ৩১ মে পর্যন্ত অর্থাৎ দেড় মাসের ছুটিতে পাঠিয়েছে। পর্ষদের চেয়ারম্যান মৌখিকভাবে এমডিকে বলেন, আপনি দেড়-দুই মাস ছুটি কাটান। সমস্যা নেই।
এ নিয়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এমডি ছুটিতে গেছেন নাকি তাকে কৌশলে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে— এ নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। কেউ কেউ বলছেন, ব্যাংকের লুটপাটের সঙ্গে জড়িত একটি মহল এমডি ওমর ফারুক খানকে সরিয়ে তাদের পছন্দের লোক বসাতে চাচ্ছে। ব্যাংকটির অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সাবেক দখলদার এস সালাম সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপ ওমর ফারুককে সরানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
বাধ্যতামূলক না ব্যক্তিগত কারণে ছুটির বিষয় জানতে এমডি ওমর ফারুক খানকে মুঠোফোন একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে জানতে চাইলেও তিনি উত্তর দেননি।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরাম।
তারা অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে লুটপাট ও অর্থ পাচারকারী এস আলমের ছায়ায় একটি চক্র সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যবহার করে আবারও ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা করছে। ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানান ব্যাংকের গ্রাহকরা।
ব্যাংকটির সাবেক এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় গতবছর মে মাসে তাকে অপসারণ করা হয়। পরে ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে ওমর ফারুক খানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওমর ফারুক খান ইসলামী ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ব্যাংকিং খাতে তার রয়েছে ৩৭ বছরের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। ইসলামী ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং উইং, প্রধান কার্যালয়, বিভিন্ন ডিভিশন, জোন অফিস ও শাখায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে তিনি সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও ক্রেডিট ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন।
ঢাকা/নাজমুল/বকুল
ভারতীয় উপ-মহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন