ঢাকা     রোববার   ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৬ ১৪৩৩ || ২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক ঘিরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, গ্রাহকরা আতঙ্কিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০০, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৭:০০, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক ঘিরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, গ্রাহকরা আতঙ্কিত

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে রবিবার চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীর মানববন্ধন করেন।

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুক্তভোগী সমন্বয় পরিষদ একই দিনে পরস্পরবিরোধী দুটি মানববন্ধ কর্মসূচি পালন করায় আতঙ্কি হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুরের পর পর্যন্ত দুই পক্ষের মানববন্ধন ও সমাবেশে ব্যাংকটির মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহাল নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে দাবি তোলা হয়।

আরো পড়ুন:

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ইসলামী ধারার ইসলামী ব্যাংক , ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক- এই ছয় ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারী মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন। 

মানববন্ধনে তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অন্যায়ভাবে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিতে তাদের দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে এস আলমের হাতে মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১৫ দিন পর কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক এই ব্যাংক কর্মকর্তাদের হাতে ‘দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত ধ্বংসকারী পালাতক মনসুরের বিচার চাই’, ‘রাজনীমুক্ত ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। 

এ ছাড়া তারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, বর্তমান ব্যবস্থাপনার অনিয়ম এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আফরাদ হোসেন বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর আমাকে বিনা কারণে চাকুরিচ্যুত করা হয়। আমার একটা অপরাধ আমার বাড়ি পটিয়া। শুধু আমি নই, আমার সঙ্গে পটিয়াবাসী অনেকেই ব্যাংক থেকে তখন চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা আমাদের চাকরিতে পুনর্বহাল চাই। আমাদের একটাই দাবি, আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

এদিকে, ইসলামী ধারার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানবন্ধন দুপুর ২টার দিকে শেষ হয়। এরপর একই স্থানে ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আরেকটি গ্রুপ তাদের দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেন। তাদের একটাই দাবি, ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংক যাতে পুনরায় এস আলমের হাতে তুলে না দেওয়া হয়।

তাদের দাবি, ব্যাংক লুটেরা এস আলম ও সকল শীর্ষ লুটেরাদের গ্রেপ্তার এবং দেশীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একই সাথে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে হবে। ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে সংযোজিত ১৮/ক ধারা বাতিল করতে হবে, ব্যাংকের সামনে অবৈধভাবে মব সৃষ্টিকারী এস আলমের দোসর, পটিয়া বাহিনীকে পুনরায় সুযোগ দেওয়া হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। 

মব সৃষ্টিকারী কোনো অবৈধ দখলদার বাহিনীকে ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ দিলে তা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধনে। সেখানে বলা হয়, ব্যাংকের প্রকৃত মালিক যাদের কাছ থেকে হাসিনার পেটোয়া বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক এস আলম মালিকানা দখল করেছিল, তাদের হাতে অতিসত্তর ব্যাংক তা ফেরত দিতে হবে।

তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিদেশ থেকে অর্থায়ন করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা ব্যাংক রক্ষায় গ্রাহক ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের এসব কর্মসূচির ফলে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে।

এসব ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানববন্ধন কর্মসূচির কারণে গ্রাহকরা ব্যাংকে আসলেও কেউ কেউ আতঙ্কে লেনদেন করতে পারেনি। ইসলামী ব্যাংক মতিঝিল শাখার গ্রাহক মতিউর রহমান জানান, আসছিলাম ব্যাংকে কিছু নগদ টাকা তুলতে। কিন্তু মতিঝিল এলাকার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে টাকা না তুলেই বেরিয়ে যাই।

আরেকজন গ্রাহক আরেফিন শুভ বলেন, “আমি একজন উদ্যোক্তা। ব্যবসায়িক কাজে টাকা উঠাতে আসছিলাম। কিন্তু পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির জন্য টাকা উঠাতে ভয়ে ছিলাম। আতঙ্কের কারণে আজ টাকা তোলা সম্ভব হয়নি। আর এ ধরনের কর্মসূচি চলতে থাকলে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করব না। অন্য বিকল্প ব্যাংকে লেনদেন করতে হবে।”

ঢাকা/নাজমুল/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়