হাইকোর্টের নির্দেশনায় এগোচ্ছে ওয়ালটন হাই-টেক ও ডিজি-টেক একীভূতকরণ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি || রাইজিংবিডি.কম
পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সঙ্গে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন গত ৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে কোম্পানি ম্যাটার নং ৩১৮/২০২৬-এ উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত নির্দেশনা প্রদান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ওয়ালটন হাই-টেকের পরিচালনা পর্ষদের ৫০তম সভায় একীভূতকরণ-সংক্রান্ত পরবর্তী সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) কোম্পানির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী ৪ মে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ মে (বৃহস্পতিবার) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হবে বিশেষ সাধারণ সভা বা ইজিএম। একইসঙ্গে ক্রেডিটরদের সম্মতির বিষয়টিও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনায় থাকবে। তবে, প্রস্তাবিত এই একীভূতকরণ কার্যকর হবে শেয়ারহোল্ডার ও ক্রেডিটরদের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে।
এই একীভূতকরণের ভিত্তি তৈরি হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে যখন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ও ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। একই দিনে ওয়ালটন হাই-টেকের ৪৬তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় একীভূতকরণ-সংক্রান্ত এমওইউ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই একীভূতকরণ বাস্তবায়িত হলে ওয়ালটন হাই-টেকের প্রোডাক্ট লাইন আরো শক্তিশালী হবে। বর্তমানে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি), ইলেকট্রিক বাইকসহ ১২৩ ধরনের হাই-টেক পণ্য ও এক্সেসরিজ উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের একমাত্র মোবাইল ফোন এবং পিসিবি ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপন করেছে।
একীভূতকরণের ফলে এসব পণ্য ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসায়িক পরিধিতে যুক্ত হবে, যা কোম্পানির বাজার সম্প্রসারণ, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে এই একীভূতকরণকে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ও উচ্চ প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন খাতে একটি কৌশলগত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর্থিক দিক থেকে উভয় প্রতিষ্ঠানই শক্তিশালী অবস্থানে আছে। ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছর অনুযায়ী ওয়ালটন ডিজি-টেকের পেইড-আপ ক্যাপিটাল ছিল ৩০ কোটি টাকা, নিট রেভিনিউ ৯১৫.৮০ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ৪.০৯ কোটি টাকা।
একই সময়ে ওয়ালটন হাই-টেকের পেইড-আপ ক্যাপিটাল ছিল ৩০২.৯৩ কোটি টাকা, নিট রেভিনিউ ৭,০৮২.২৫ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ১,০৩৬.৬২ কোটি টাকা। ওয়ালটন হাই-টেক বর্তমানে রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, এলিভেটর, ফ্যান, ক্যাবল ও ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন, বাজারজাত ও রপ্তানি করে আসছে।
ওয়ালটন ডিজি-টেক দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম অর্জন করেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হলে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসা আরো সম্প্রসারিত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবেন।
অন্যদিকে, ওয়ালটন হাই-টেক পুঁজিবাজারে একটি কমপ্লায়েন্সনির্ভর, মৌলভিত্তিসম্পন্ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে একীভূত হলে ব্যবসার ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।
ঢাকা/একরাম/সাহেল/রফিক
ভারতীয় উপ-মহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন