ঢাকা     সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

তাহসান-রোজার বিচ্ছেদের নেপথ্যে যা ছিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ১২ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:৫৮, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
তাহসান-রোজার বিচ্ছেদের নেপথ্যে যা ছিল

তাহসান খান ও রোজা আহমেদ

জনপ্রিয় গায়ক-অভিনয়শিল্পী তাহসান রহমান খান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদের বিয়ে একসময় বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তুমুল প্রেমের পর হঠাৎ বিয়ে এবং তার পরপরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা এই সম্পর্ক বছর না ঘুরতেই ভেঙে যাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। 

ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের কৌতূহল, প্রেমের পরিণতি যখন বিয়ে, তখন এত দ্রুত বিচ্ছেদ কীভাবে সম্ভব? ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, প্রেমের সময়ের তুলনায় দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে থাকার সময়টা ছিল খুবই সীমিত। 

আরো পড়ুন:

জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় সংগীতসফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকতে শুরু করেন। সে সময় মেলবোর্ন থেকে তাহসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন গান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথা। 

রোজা আহমেদ


পরবর্তীতে তাহসান নিজেই জানিয়েছেন, ওই সময়েরও আগে থেকেই তারা আলাদা ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে এরপর আর প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাকে। 

অন্যদিকে, রোজা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করায় অনেকের ধারণা ছিল, সম্পর্কটি এখনো টিকে আছে। কিন্তু ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহসান ও রোজার ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্যমতে, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার জায়গায় কিছু মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাহসান চেয়েছিলেন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি জীবনযাপন করতে। সে কারণেই বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষ্ক্রিয় রাখা—এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সংসারকেই দিতে চেয়েছিলেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। 

অন্যদিকে, বিয়ের পর রোজার পরিচিতি ও সামাজিক পরিসর আরো বিস্তৃত হয়। নতুন এই বাস্তবতাকে তিনি উপভোগ করছিলেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ভিন্ন ভিন্ন মানসিক অবস্থান ও জীবনযাপনের ধারা ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। 

ঘনিষ্ঠ মহলের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হলেও একসময় মতের অমিল প্রকট হয়ে ওঠে। কাউকে দোষারোপ না করে, পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন তারা। জানা গেছে, গেল বছরের শেষ দিকেই বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 

এটি তাহসানের দ্বিতীয় বিয়ে। আগের সংসারে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার সঙ্গে তিনি নিয়মিত সময় কাটান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাহসান বরাবরই সংযত। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি নীরবতাকেই বেছে নিয়েছেন। 

রোজা আহমেদ


ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, বিচ্ছেদ হলেও বিষয়টি দুজনই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সামলেছেন। সম্পর্ক জোড়া লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গেছে। তবে এটিকে কোনো অভিযোগ বা দ্বন্দ্ব নয়, বরং জীবন ও সম্পর্কের বাস্তবতায় ভিন্ন পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন তারা।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়