ঢাকা     বুধবার   ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ৩০ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

মিশার বাসায় ৩০ বক্স মিষ্টি নিয়ে হাজির হন হুমায়ুন ফরিদী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৬, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১১:০৯, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
মিশার বাসায় ৩০ বক্স মিষ্টি নিয়ে হাজির হন হুমায়ুন ফরিদী

হুমায়ুন ফরিদী, মিশা সওদাগর

বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা মিশা সওদাগর আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলেছেন বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবন। বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। অভিনয়জীবনে কাছ থেকে পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীর সংস্পর্শ ও স্নেহ। 

সম্প্রতি রাহাত সাইফুল সঞ্চালিত ‘রাইজিংবিডি স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে হুমায়ুন ফরিদীকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন মিশা সওদাগর। 

আরো পড়ুন:

এ অনুষ্ঠানে মিশা সওদাগর বলেন, “হুমায়ুন ফরিদীকে ‘খল’ একটা সেক্টরে বেঁধে রাখা যায় না। উনি একজন অভিনেতা। জগৎবিখ্যাত অভিনেতা। বিশ্বমানের শিল্পী। হয়তো ইন্ডিয়ার সিনেমায় কাজ করেননি, কিন্তু উনি ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের আর্টিস্ট।” 

হুমায়ুন ফরিদীকে নিজের অনুপ্রেরণা উল্লেখ করে মিশা সওদাগর বলেন, “আমি তো ভিলেনই করেছি তার কথায়, বা উনাকে ভালোবেসে। কারণ গল্পে উনাকে সবাই ভালোবাসে। অথচ তখন আমি নায়ক ছিলাম। কিন্তু যখনই আমার কাছে অফার আসত, বলা হতো—এন্ট্রি হিরো হবে, প্রেমিক চরিত্রে অভিনয় করবে, জোর করে প্রেম আদায় করবে। আমি স্পষ্ট বলতাম—না, আমি এসব করব না।” 

ঘটনা বর্ণনা করে মিশা সওদাগর বলেন, “সন্ত্রাস’ সিনেমায় শহীদুল ইসলাম খোকন ভাই যেভাবে উনাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন, সেটা আমার চোখ খুলে দেয়। ফিল্মের বাইরে লোকটাকে দেখেই বুঝতাম—আমরা দর্শক, আসলে অ্যাক্টর নই। উনি একজন আন্তর্জাতিক মানের পারফর্মার। স্টেজ নাটকের একটা প্যাটার্ন, টিভি নাটকের একটা প্যাটার্ন আছে, কিন্তু ফিল্ম একদম আলাদা। আমি তখনই ভাবি, এই লোকটা ফিল্মে আসলে পাগল করে দেবে। উনি যখন করছেন, আমিও করব—সেখান থেকেই শুরু।” 

হুমায়ুন ফরিদীর মানবিক দিক তুলে ধরে মিশা সওদাগর বলেন, “অসংখ্য স্মৃতি আছে। ছোট্ট একটা বলি—আমি তখন ফ্ল্যাট নিচ্ছিলাম। প্রথমে ছোট ফ্ল্যাট নিতে চেয়েছিলাম। উনি বললেন, ‘ছোট নিবি না, বড় নে। এখন কষ্ট কর, পরে শান্তি করবি।’ ওনার কথা শুনে ১৮ শ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট নিলাম। যেদিন বাসাটা হয়ে গেল, উনি নিজে এলেন। দিলু রোডের বাসা। কোথাও খান না, অথচ প্রায় ত্রিশটা মিষ্টির বাক্স নিয়ে এলেন—দোকানের সব আইটেম। আমার জন্য একটা সুন্দর পোর্ট্রেটও এনেছিলেন। স্মৃতিটা আজও চোখে ভাসে। দিস ইজ হুমায়ুন ফরিদী।” 

আরেকটি ঘটনা স্মরণ করে মিশা সওদাগর বলেন, “একবার কক্সবাজারে শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরতে হবে। সকালে শুটিং ছিল, কিন্তু ফ্লাইট ছিল না। বাসে রওনা দিলাম। উনি সারারাত ফলো করছিলেন—আমি কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি। এক ঘণ্টা পর পর ফোন। বাসায় ঢুকে বললাম, ‘ভাই, বাসায় আসছি।’ উনি শুধু বললেন, ‘এবার ঘুমা।’ এই মানুষটাই হুমায়ুন ফরিদী।” 

‘রাইজিংবিডি স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে অতিথি মিশা সওদাগর


হুমায়ুন ফরিদীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবন হয়ে পড়েন মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, “আরো অনেক স্মৃতি আছে, বলে শেষ করা যাবে না। আমি একবার আমার স্ত্রীকে বলেছি, ‘তোমাকে ছাড়া আমি আর একজনের সঙ্গে জীবন কাটাতে পারব। তাকে সেবা করে, তাকে দেখে, কথা বলে, তার কাছ থেকে শিখে। তিনি হলেন শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন ফরিদী।” 

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন মিশা সওদাগর। ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়