ঢাকা     বুধবার   ১৩ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩০ ১৪৩৩ || ২৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মাহবুবুল খালিদের কথায় শ্রমিকের অধিকার-অগ্নিনিরাপত্তার দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৬:৪৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের সংগীত ও সাহিত্যাঙ্গনের স্বতন্ত্র সৃষ্টিশীল নাম মাহবুবুল খালিদ। সমাজ, মানুষের জীবনসংগ্রাম, অন্যায়-অবিচার, বেদনা আর সম্ভাবনার ভেতরেই খুঁজে নেন তার সৃষ্টির উপাদান। সেই অনুভূতিগুলোই কখনো কবিতায়, কখনো গানে রূপায়ন করে থাকেন। তার লেখায় বারবার ফিরে আসে গভীর জীবনবোধ, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং সমাজকে বদলে দেওয়ার নীরব আহ্বান। 

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের তৈরি পোশাক খাতে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার নির্মম বাস্তবতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সেই বেদনা থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘আর নয় অগ্নিশিখা ধ্বংসলীলা’ শিরোনামে প্রতিবাদী ও জনসচেতনতামূলক গান। এ গানের কথায় উঠে এসেছে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা, জীবনের অধিকার রক্ষার স্পষ্ট দাবি। 

আরো পড়ুন:

 “আর নয় অগ্নিশিখা ধ্বংসলীলা/ জীবনের আত্মাহুতি/ পুড়ে পুড়ে জীবন ক্ষয়/ আর নয় শেষ পরিণতি॥/ কারখানায় কাজের পরিবেশ কমপ্লায়ান্স/ নিশ্চিত করো গো ভাই/ কাজের সময় যেন সকল দরজা/ সদাই খোলা থাকে গো তাই।/ আমরা ফায়ার এসকেপ চাই/ লাগলে আগুন পালানোর পথ, বাঁচার উপায় চাই/ আর নয় আত্মাহুতি/ থামে না যেন জীবনের গতি॥/ আমরা পেয়েছি দেশ, হয়েছি স্বাধীন/ যুদ্ধ করেই ভাই/ দাও আমাদের সঠিক প্রশিক্ষণ/ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি তাই।/ আমরা হইনি ব্যর্থ হইনি পিছু পা/ আমরা এগিয়ে যেতে চাই/ আমরা মানি না পরাজয়/ জীবনের ধ্বংস দুর্গতি॥”—এমন কথামালায় গানটি সাজিয়েছেন মাহবুবুল খালিদ। 

গানটির সুর করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। কণ্ঠ দিয়েছেন সাব্বির জামান ও টিনা। জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এটি মুক্তি পেয়েছে গীতিকবির নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ও ‘খালিদ সংগীত’-এর ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে। 

মাহবুবুল খালিদের সৃষ্টির মূল শক্তি তার মানবিক অবস্থান। নির্যাতিত, অবহেলিত মানুষের পক্ষে কথা বলাই যেন তার শিল্পচর্চার প্রধান লক্ষ্য। দেশপ্রেম, প্রকৃতি, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, জনসচেতনতা কিংবা খেলাধুলা—বিভিন্ন বিষয় তার গানে ও কবিতায় জায়গা করে নেয় স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্যে। গণসংগীত থেকে লোকগীতি, হামদ-নাত, শিশুতোষ গান, দেশাত্মবোধক সুর, প্রেম-বিরহ কিংবা আধ্যাত্মিক ভাবনা—সব ক্ষেত্রেই তার বিচরণ সহজ ও সাবলীল। 

সমাজের বাস্তব ঘটনাগুলো তার সৃষ্টিকে বারবার তীক্ষ্ণ ও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। রাজধানীর মিরপুরে নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে নিয়ে লেখা ‘আদুরি’ যেমন এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, তেমনই সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ড নিয়ে লেখা ‘ফেলানীরে করল গুলি’ গানটি নাড়া দেয় মানুষের বিবেককে। মাগুরার শিশু আছিয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ‘মাগুরার ফুল’ গানে তিনি তুলে ধরেছেন সমাজের অন্ধকার মুখ।  

শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও ধরা দিয়েছে তার গানে। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে লেখা তার গান মানবতার পক্ষে শক্ত ও স্পষ্ট অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। সব মিলিয়ে, মাহবুবুল খালিদের সৃষ্টি শুধু বিনোদন নয়; এটি সময়ের দলিল, প্রতিবাদের ভাষা এবং মানুষের পক্ষে এক দৃঢ় শিল্পীস্বর।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়