ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ভাগ্যক্রমে জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি: খায়রুল বাসার

আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৭, ২৮ মে ২০২৬   আপডেট: ১৮:৫০, ২৮ মে ২০২৬
ভাগ্যক্রমে জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি: খায়রুল বাসার

জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বনলতা সেন’ সেলুলয়েডের পর্দায় এঁকেছেন চলচ্চিত্রকার মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। ঈদুল আজহায় চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে। এখানে জীবনানন্দ দাশের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার। জীবনানন্দ দাশ হয়ে ওঠার গল্প শুনিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির সহকারী বার্তা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শান্ত।

রাইজিংবিডি: জীবনানন্দ দাশ হয়ে কেমন লাগছে?

খায়রুল বাসার: এই অনুভূতি সংজ্ঞায়িত করা মুশকিল! জীবনানন্দ দাশ কার না প্রিয়? অনেকের অনুপ্রেরণা তো বটেই। তিনি কালজয়ী। তাঁর চরিত্র রূপায়ন করতে পারা বড় একটি পাওয়া। ‘জীবনানন্দ দাশ চরিত্র কে করেছেন, বাসার করেছেন’—এই কথাটা হয়তো একসময় আসবে। এই চরিত্র পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের, হয়তো লাকিলি আমি এটা পেয়ে গেছি। আমি সবসময়ই চাইতাম—এমন কিছু চরিত্র যেন পাই, যে চরিত্রগুলো মানুষ মনে রাখবেন। সুতরাং এই অনুভূতি কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, তার ভাষা আমার জানা নাই। তবে এটুকু বলছি, কাজটি করতে পেরে গর্বিত এবং সম্মানিত বোধ করছি। আমি খুব লাকি। 

রাইজিংবিডি: কাজের সুযোগ কীভাবে এলো?

খায়রুল বাসার: মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাই অডিশনের জন্য আমাকে একদিন ডাকেন। চরিত্রটি কার, কেমন, কোনো কিছুই আমাকে বলেননি তিনি। আমি গিয়ে একটি দৃশ্যে অডিশন দিই। পরে বললাম, চিত্রনাট্য পড়ে যদি চরিত্রের ব্যাপারে আরেকটু বুঝতে পারতাম, তাহলে উপলদ্ধি করতে পারতাম—চরিত্রটি কার বা পরিস্থিতি কী! মাসুদ ভাই বললেন, লাগবে না। অন্ধকারে থেকে তুমি যতটুকু করছ, সে অনুযায়ী আমি চিন্তা করব।

এরপর আবার অডিশনে ডাকলেন। দিলাম। তারপর আরেক দিন ডাকলেন। অডিশন দেওয়ার দু’তিন দিন পরে উজ্জ্বল ভাই বললেন, এটা জীবনানন্দ দাশের চরিত্র ছিল না, অন্য চরিত্র ছিল। তবে তুমি জীবনানন্দ দাশের চরিত্র করবে।

এ কথা শুনে আমার হকচকিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম—আমি জীবনানন্দ দাশ করব? বলাবাহুল্য আমি খুশি হয়েছিলাম। একইসঙ্গে  জীবনানন্দ দাশের মতো কবির চরিত্র রূপায়ন করা অনেক চ্যালেঞ্জিং—এই ভাবনাটাও মাথায় ছিল। কারণ তাঁকে যতটা জানি, তাঁর কবিতা পড়ে যতটা ভাবি, সেটা আমার কাছে বিচিত্রময় একজন মানুষ মনে হয়েছে। তারপরও লুকের সঙ্গে কতটা যাবে, তাঁর জীবন, তাঁর কবিতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা রয়েছে—এসব ভাবনাও ছিল। সবকিছু মিলিয়ে চরিত্রটি ধোঁয়াশার মতো। এ যাত্রায় সবচেয়ে বড় সহায় ছিল চিত্রনাট্য। উজ্জ্বল ভাই, এত চমৎকার চিত্রনাট্য করেছেন, পড়ার পর মনে হয়— কাজটি করতেই হবে।  

রাইজিংবিডি: জীবনানন্দ দাশ হয়ে ওঠার জন্য নিশ্চয়ই ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। নিজেকে কীভাবে তৈরি করেছেন?

খায়রুল বাসার: সামান্য একজন অভিনেতা হিসেবে জীবনানন্দ দাশকে বিশ্লেষণ ও প্লে করা খুবই কঠিন। আমার চেষ্টা ছিল, বাকিটা তাঁর প্রতি আমার প্রেম, ভালোবাসা। জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে আমার ভাবনা, তাঁর কবিতা পড়ে যেভাবে রিলেট করা যায়, সেখান থেকেও প্রচেষ্টার কমতি রাখিনি। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাই, অনেক বিশ্লেষণ করেছেন, চিত্রনাট্যে তাঁকে নিয়ে বড় বিশ্লেষণ ছিল। চরিত্রটি নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে বসা, চিত্রনাট্য পড়া, চিত্রনাট্যের ব্যাখ্যা কীভাবে অর্থপূর্ণ করা যায় সেদিকে মনোযোগী হই। দীর্ঘ সময় আমরা রিহার্সেল করি। ব্লকিং করে করে আগাই। কোন শটটা কোন লেন্সে নেবেন, দৃশ্য কীভাবে দেখাতে চান—পুরো ব্যাপারটি ব্লক করে করে শেষ করি। সবই ভিডিও করে রাখা হয়েছে। ঠিক এই অভিনয়টাই ফিল্মে দেখা যাবে। চরিত্রটি জাস্টিফাই করার জন্য এই প্রস্তুতি অনেক সহযোগিতা করেছে। 

রাইজিংবিডি: এখন এভাবে রিহার্সেল করতে খুব একটা দেখা যায় না। এভাবে কত দিন প্রস্তুতি নিতে হয়েছে?

খায়রুল বাসার: আমরা রিহার্সেল করেছি তিন মাস; শুটিং হওয়ার কথা ছিল দেড় মাসের মতো। কিন্তু এটা দেড় বছরে গড়ায়। কারণ চিত্রনাট্য অনুযায়ী, যে লোকেশন দরকার ছিল তা পাওয়া যাচ্ছিল না। উজ্জ্বল ভাই কোথাও ছাড় দিতে চাননি। পরে সিলেট, নাটোর, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, পদ্মার চরসহ অনেক লোকেশনে শুট করি। তারপরও কিছু পারফেক্ট লোকেশন পাইনি। এটা একটা থিওরিটিক্যাল ফিল্ম। অনেক পুরাতন কাঠামোর ভবন প্রয়োজন ছিল। যেগুলো পেয়েছি, সেগুলোর জন্য আবেদন করা, অনুমতি পাওয়া, আর্টের কিছু বিষয় ছিল। দেখা গেছে, আর্টের ব্যাপারটি একভাবে করার পর উজ্জ্বল ভাইয়ের মনে হয়েছে, এটা ঠিকঠাক হয় নাই। ফলে আবার সেটাকে নতুন করে তৈরি করা হয়। এসব কারণে আরো বেশি সময় লেগে যায়।

রাইজিংবিডি: শুটিংয়ে জীবনানন্দ দাশ এবং স্বপ্নের বনলতা সেনকে কতটা পেয়েছেন?

খায়রুল বাসার: বনলতা সেন কে—এটা সবারই প্রশ্ন। বনলতা সেনকে খোঁজাই এই সিনেমার গল্পের বড় একটি জায়গা। এই সিনেমায়ও বনলতা সেনকে নিয়ে আমরা বিভ্রান্ত হবো। আমি বনলতা সেনকে কীভাবে পেলাম, কীভাবে দেখছি, এই প্রশ্নের যথাযথ  উত্তর এখন দেওয়া যাবে না। সিনেমাটি দেখেই উত্তরটা নিতে হবে।          

রাইজিংবিডি: মাসুদ হাসান উজ্জ্বল যতগুলো কাজ করেছেন, সবই নিরীক্ষাধর্মী। নির্মাতার সঙ্গে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাই। 

খায়রুল বাসার: ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমা থেকে উজ্জ্বল ভাইয়ের সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সূচনা। এটা রোমান্টিক কাজ ছিল। কাজ দিয়েই উজ্জ্বল ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। আমরা যখন ‘জয়ধ্বনি’ সংগঠন করতাম, সেখানে আমরা তাঁর ‘যে জীবন ফড়িংয়ের’ নাটকটি প্রদর্শন করি। তাঁর কাজ সেখানেই আমি প্রথম দেখি। দেখে মুগ্ধ এবং অবাক হয়েছিলাম! পরে সংগঠনের বড় ভাইয়েরা বললেন, তিনি  একসময় আমাদের সংগঠনে ছিলেন। পরে উজ্জ্বল ভাইকে একদিন আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসা হলো; সেই আমাদের প্রথম দেখা। তখন অভিনয় নিয়ে কোনো কিছু ভাইকে বলিনি। পরে আমার কাজ দেখে অডিশনের জন্য উজ্জ্বল ভাই ডাকেন ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমার জন্য। 

ভাই খুবই খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি পইপই করে সবটা তুলে নেন। তাঁর মুন্সিয়ানা দারুণ! আলাদা একটি জনরা তৈরি করে ফেলেছেন—এটা তাঁর স্বাতন্ত্র। 

রাইজিংবিডি: ‘বনলতা সেন’ নিয়ে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?

খায়রুল বাসার: আমি কাজটির প্রিভিউ দেখেছি। সাধারণত কোনো কাজ নিয়ে এতটা আত্মবিশ্বাসী হই না, সংশয় থাকে। কাজ দেখার পরে মনে হয়, এটা আরো ভালো হতে পারত। যদিও ভালোর শেষ নাই। কিন্তু এই কাজ দেখার পর সেভাবে আফসোস হয় নাই। একজন পরিচালক বিশেষ কিছু সিনেমার জন্য দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। আমার মনে হয়, উজ্জ্বল ভাই সেই সিনেমাটা বানিয়ে ফেলেছেন; সামনে যা করবেন তা বোনাস! 

সিনেমার সংগীতায়োজন করেছেন বাপ্পা মজুমদার। তিনবার মিউজিক পরিবর্তন করেছেন। সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, ভিজ্যুয়াল, গল্প বলার ধরন—সবকিছু মিলিয়ে একজন দর্শক হিসেবে এটি চমৎকার একটি কাজ হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। সবারই চেষ্টা ছিল, সবাই চমৎকার অভিনয় করেছেন, সবার ডেডিকেশনে দুর্দান্ত একটি ফিল্ম হয়েছে। দর্শক নিশ্চয়ই উপভোগ করবেন। 

ঢাকাতারা//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়