‘হর্ন বাজালে জরিমানা’
ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া
হর্ন বাজানোর ক্ষেত্রে কঠোর হচ্ছে সরকার। মোটরযান বা নৌযানে অনুমোদিত মাত্রার বেশি শব্দ উৎপন্নকারী হর্ন ব্যবহার করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করতে পারবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, গত ২৪ নভেম্বর ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বিধিমালার বিধি-৬ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অনুমোদিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী হর্ন মোটরযান বা নৌযানে স্থাপন কিংবা ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে নীরব এলাকা ও আবাসিক এলাকায় রাতের সময় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া বিধিমালার বিধি-২০ অনুযায়ী এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে পুলিশ কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অতিমাত্রায় শব্দদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে কানে কম শোনা, আংশিক বা সম্পূর্ণ বধিরতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মনোযোগে ব্যাঘাতসহ নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে শব্দদূষণের প্রভাব আরো ভয়াবহ। এতে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর বধিরতা বা প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু জন্ম নেওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শব্দদূষণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাসপাতালের রোগী, শিক্ষার্থী, ট্রাফিক পুলিশ, রিকশা ও গাড়িচালক, পথচারী এবং উচ্চ শব্দের উৎসের আশপাশে বসবাসকারী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। এর প্রভাব দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছে সরকার।
ঢাকা/আসাদ/সাইফ