ঢাকা     বুধবার   ২২ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩১

রুশ উপন্যাসের পথিকৃৎ নিকোলাই গোগোলের জন্ম ইউক্রেনে

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৫, ৪ মার্চ ২০২২   আপডেট: ১১:২৮, ৪ মার্চ ২০২২
রুশ উপন্যাসের পথিকৃৎ নিকোলাই গোগোলের জন্ম ইউক্রেনে

নিকোলাই গোগোল। পুরো নাম নিকোলাই ভাসিলিয়েভিচ গোগোল। বলা হয়, তিনি আধুনিক রুশ উপন্যাসের পথিকৃৎ, নাট্যকার ও ছোটগল্প লেখক।

ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত এই রুশ লেখকের প্রয়াণ দিবস আজ। ১৮৫২ সালের ৪ মার্চ মাত্র ৪২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। স্বল্প জীবনে সৃষ্ট সাহিত্য সম্ভার আজো তাকে অমর করে রেখেছে।

তার জন্ম হয়েছিলো ইউক্রেনের এক কসাক গ্রামে ১৮০৯ সালের ১ এপ্রিল। এ জন্য অনেক লেখাতেই তার ইউক্রেনীয় সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে। কিন্তু তিনি রুশ ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন। 

নিকোলাই গোগোল ১৮০৯ সালে ১ এপ্রিল ইউক্রেনের এক কসাক গ্রামে জম্মগ্রহণ করে। 

১৮২০ সাল থেকে ১৮২৮ সাল পর্যন্ত স্কুল জীবনে তার লেখালেখির শুরু। ১৮২৮ সালে তিনি সেন্ট পিটার্সবুর্গে চলে আসেন। এখানে ১৮২৯ সালে ভি এলোভ ছদ্মনামে জার্মান প্রভাবিত রোমান্টিক কবিতার বই হ্যান্স কুচেলগার্টেন প্রকাশিত হয়। তবে তিনি এর সবগুলো কপি নষ্ট করে ফেলেন। প্রতিজ্ঞা করেন আর কবিতা লিখবেন না। এরপর সাহিত্যের সেরাদের সংস্পর্শে আসেন। 

১৯৩১ সলে আন্তন ডেলভিগের ‘নর্থান ফ্লাওয়ার্স’ এ গল্প ছাপা হওয়ার পর পুশকিনের সঙ্গে পরিচিত হন। ওই বছর তিনি ইউক্রেনীয় গল্প সংকলনের প্রথম খণ্ড ‘ইভিনিং অন আ ফার্ম নেয়ার ডিকাঙ্কা’ প্রকাশ করেন। বইটি ব্যাপক সফলতা পায়। পরের বছর এর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করেন। ১৮৩৫ সালে প্রকাশ করেন দুই খণ্ডের মির্গারড। 

তার লেখাগুলোর মাধ্যমে প্রকাশিত হয় রাশিয়ান ও ইউক্রেনীয় জীবনের ভিন্নতা এবং ইউক্রেনের স্বাতন্ত্র্য জীবন পদ্ধতি ও চরিত্র। যা সাহিত্য সমালোচকদের নজর কাড়ে। এ সময়ে ইউক্রেনের ইতিহাসের প্রতি তার আগ্রহ জন্মে। চেষ্টা করেন কিয়েভ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে যোগদানের। পুশকিন ও সার্গেই ইউভারভের চেষ্টা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক বাধায় সফল হননি। ওই বছর ‘তারাস বুলবা’  নামে ইউক্রেনিয়ার ইতিহাসনির্ভর বিখ্যাত গল্পটি লিখেন। যেখানে স্থান পেয়েছে কসাক তরুণের জীবন কাহিনী। 

১৮৩৪ সালে সেন্ট পিটার্সবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যযুগের অধ্যাপক পদে যোগ দেন। অবশ্য পরের বছরই তিনি পদত্যাগ করেন।

১৮৩৬ সালে প্রকাশিত হয় রাশিয়ার প্রদেশগুলোতে চলমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নির্ভর কমেডি নাটক ‘দ্য গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর’। 

১৮৩৬ থেকে ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডে কাটান। এ সময়ে সে সব দেশের বিখ্যাত অনেক ব্যক্তিদের কাছাকাছি আসেন। 

১৮৩৭ সালে পুশকিনের মৃত্যু তার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এরপর লিখেন বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক উপন্যাস ‘ডেথ সোলস’ (১৮৪২), দ্বিতীয় কমেডি ‘ম্যারেজ’ (১৮৩৫) এবং বিখ্যাত ছোটগল্প ‘দ্য ওভারকোট’ (১৮৪২)। 

‘ডেথ সোলস’ ছিলো দান্তের বিখ্যাত ‘দ্য ডিভাইন কমেডি’র কাউন্টারপার্ট। তার ইচ্ছা ছিল এটি তিনখণ্ডে শেষ করবেন। সে হিসেবে ডেথ সোলস ছিল ইনফার্নোর কাউন্টারপার্ট। 

তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে- গদ্য : উইম্যান (১৮৩০) ও সিলেক্টেড প্যাসেজেস ফ্রম করসপন্ডেন্স উইথ ফ্রেন্ডস (১৮৪৭), ফিকশন : আরাবিস্কু (১৮৩৫), দ্য পোট্রেট (১৮৩৫), দ্য নোজ (১৮৩৫-৩৬) ও দ্য ক্যারিজ (১৮৩৬) এবং পদ্য : ওড টু ইতালি (১৮২৯)।

জেরুজালেমে তীর্থযাত্রা শেষে ১৮৪৮ সালে এপ্রিলে তিনি রাশিয়া ফিরেন। ফিরে এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন। ওই সময় কাল্পনিক গল্প লেখার জন্য নিজেকে পাপী ভাবতে থাকেন। ১৮৫২ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি কিছু পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন। যেখানে ছিল ডেথ সোলসের দ্বিতীয় খণ্ড। পরে তিনি বলেন, এটা ভুল ছিল। শয়তানের অনুপ্রেরণায় এই কাজ করেছেন। এরপর অসুস্থ হয়ে যান। সে বছরের মার্চেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাকা/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়