RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭ ||  ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে ত্রিপুরায় হরতাল

আগরতলা থেকে অভিজিৎ ঘোষ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৮, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে ত্রিপুরায় হরতাল

ভারতে সোমবার সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনে পেশ হবে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, তা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘোষণার পরই বিলের বিরোধীতা করে উত্তাল হয়ে উঠে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল।

দেশটির প্রান্তিক রাজ্য ত্রিপুরাও জ্বলে উঠে। প্রদুৎ কিশোরের নেতৃত্বে জন্ম নেওয়া জয়েন্ট মোভমেন্ট এগেইনস্ট সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল নামক সংগঠনটি সোমবার থেকে রাজ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য বনধের ঘোষণা দিয়েছিল। একই দিনে প্রাক্তন জঙ্গি নেতা রঞ্জিত দেববর্মাও ৫০ঘন্টার বনধের ডাক দিয়েছিল। তাছাড়া নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন বা নেসো বনধের ডাক দেয়া গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলে। ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফেডারেশন সমর্থন করে এই  বনধ।

রাজ্যের শাসক দল বিজেপি'র শরিক আইপিএফটিও এদিন ১২ঘন্টার  বনধের ঘোষণা দিয়েছিল। তারা রাজ্যের ৩৩টি জায়গায় সকাল থেকেই পথ অবরোধ শুরু করে। জিরানিয়া মহকুমার জাতীয় সড়কের কলা বাগান ও চম্পক নগরের সাধু পাড়াতে অবরোধে বসে।

জাতীয় সড়ক অবরোধের ফলে দূর পাল্লার সমস্ত রুটে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।রাজধানীর চন্দ্রপুর আইএসবিটি'তে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে দূরপাল্লার বাস।

দূরপাল্লার যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ আইএসবিতে দাঁড়িয়ে থাকার পর ফের ঘরমুখী হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকার অনেকেই যেতে পারে নি তাদের স্কুলে ।কিন্তু অধিকাংশ স্কুলেই ছিল পরীক্ষা। স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষক শিক্ষিকারা স্কুলে যেতে না পারায় ব্যাঘাত ঘটে পরীক্ষার ক্ষেত্রেও।সরকারি ভাবে উপজাতি দলগুলির ডাকা বনধ না মানলেও প্রকারান্তে সরকার বনধ সমর্থন করছে বলেই মনে করছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

ত্রিপুরা রাজ‌্যের রাজধানীর আগরতলা ছিল স্বাভাবিক ছন্দে। বনধের কোনো প্রভাব পড়েনি। বাজার,অফিস-আদালত খোলা ছিল। তবে আগরতলা থেকে বেরিয়ে গেলেই বনধ সমর্থকদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে। রাজধানীর সার্কিট হাউস সংলগ্ন ভিআইপি সড়ক অবরোধ করেছিল জয়েন্ট মোভমেন্ট এগেইনস্ট সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল নামক সংগঠনের নেতারা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক অবরোধ মুক্ত করে। সমঝোতার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ প্রশাসন নিজেদের মুখ রক্ষা করে।

সংগঠনের নেতা তথা প্রাক্তন জঙ্গি নেতা বিজয় রাংখল বলেন, ক্যাবের প্রতিবাদেই এই আন্দোলন। তবে আন্দোলন হয়েছে শান্তিপূর্ণ ভাবেই। তাদের সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত মানুষ যেন আন্দোলন সমর্থন করেন তার আহবান জানিয়েছেন বিজয় রাংখল।

সোমবার সকাল থেকে গোটা রাজ্যেই বনধ কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল শাসক দল বিজেপি'র শরিক আইপিএফটি। তারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করা সহ রাজ্যের ৩৩টি জায়গাতে পথ অবরোধ করে। জিরানিয়ার কলা বাগান,চম্পক নগরের সাধুপাড়া,সিধাই মোহন পুর,লেম্বুছড়া, খোয়াই,আমাবাসা, কৈলাসহর, অমরপুর ও লংতরাইভেলি ও গন্ডাছড়াতে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন করে আইপিএফটির কর্মী সমর্থকরা।

আই পিএফটি'র মুখপাত্র মঙ্গল দেববর্মা বলেন,পৃথকল্যান্ড  ও ক্যাবের বিরোধিতা করেই সারা রাজ্যে আন্দোলন শুরু হয়েছে।

আইপিএফটি গোটা রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করলেও কিছু কিছু জায়গাতে হিংসাত্মক আচরণ করেছে দলের কর্মী সমর্থকরা। খোয়াই মহকুমার রতনপুর স্কুল ও বীরচন্দ্র পুর  স্কুলে আইপিএফটি'র কর্মী সমর্থকরা অতর্কিতে হামলা চালায়। আইপিএফটির কর্মীদের আক্রমণে গুরুতর জখম হয়েছে নয় জন শিক্ষক। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অমরপুর মহকুমার নতুন বাজারের  খেদারনাল এলাকায়  পথ অবরোধ কেন্দ্র করে বিজেপি ও আইপিএফটি'র সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। আইপিএফটি'র কর্মীদের রোষানল থেকে রেহাই পায়নি পুলিশ।

আইপিএফটি'র কর্মী সামর্থকরা নিরীহ পুলিশকে মরধর করতেও দ্বিধা বোধ করে নি। অবাক করার মতো ঘটনা, পুলিশও ছিল নিশ্চুপ। অবশেষে গোটা রাজ্য থেকে সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ অবরোধ থেকে সরে এসে আইপিএফটি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ লোক দেখানো  গ্রেপ্তার করে আন্দোলনকারীদের।


ত্রিপুরা/অভিজিৎ/সাজেদ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়