ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

‘কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ে আগে থেকেই অনিরাপদ ছিল’

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:০৬, ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
‘কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ে আগে থেকেই অনিরাপদ ছিল’

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ভারতের কেরালার কোঝিকোড়ে বিমান দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৪০ জন। যা গেল ১০ বছরের মধ্যে ভারতে ঘটা বড় কোনো বাণিজ্যিক বিমান দুর্ঘটনা।

এই দুর্ঘটনার পর কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ে ওয়ান জিরোর (১০) নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রানওয়েটি বেশ ঢালু। রানওয়ের শেষ মাথায় রয়েছে প্রায় ২০০ মিটার গভীর উপত্যকা। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে পৌঁছনোও কষ্টকর।

১০ বছর আগে কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়েকে অনিরাপদ বলে উল্লেখ করেছিলেন বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় গঠিত নিরাপত্তা উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ক্যাপ্টেন মোহন রঙ্গনাথন। কিন্তু তার সেই কথার কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ১০ বছরের মাথায় আবার ঘটলো দুর্ঘটনা। আবর ঘটলো প্রাণহানি।

এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন মোহন বলেছেন, ‘২০১০ সালে ম্যাঙ্গালোর বিমান দুর্ঘটনার পর কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়েকে অনিরাপদ বলে উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু সে বিষয়টিকে আমলেই নেওয়া হয়নি। রানওয়েটি বেশ ঢালু। শেষে রয়েছে বাফার জোন।’ 

তার ওপর রানওয়েটি পর্যাপ্ত দৈর্ঘ্যেরও নয়। সাধারণত রানওয়ের শেষ প্রান্তের দৈর্ঘ্য থাকে ২৪০ মিটার। কিন্তু কোঝিকোড় বিমানবন্দরের শেষ প্রান্তের দৈর্ঘ্য মাত্র ৯০ মিটারের। তাছাড়া উভয় পাশের জায়গাও কম। যেখানে উভয় পাশের জায়গা থাকার কথা ১০০ মিটার, সেখানে কোঝিকোড়ের রয়েছে মাত্র ৭৫ মিটার।’ যোগ করেন তিনি।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৭টা ৪০ মিনিটে অবতরণের আগে বেশ কয়েকবার আকাশে চক্কর দিয়েছিল বিমানটি। আবহাওয়া রাডারের তথ্য অনুযায়ী বিমানটি অবতরণ করার কথা ছিল রানওয়ে টু এইট এ (২৮)। কিন্তু সেখানে নামতে সমস্যা হচ্ছিল। এ সময় প্রচুর বৃষ্টিও হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত বিমানটি ওয়ান জিরো (১০) রানওয়েতে অবতরণ করে। 

কিন্তু এ সময় বিমানটির গতি ছিল প্রচুর। সে কারণে রানওয়ের শেষ প্রান্ত দিয়ে এক সময় ছিটকে গিয়ে ৩৫ ফুট নিচু খাদে পড়ে যায় এবং সেখানে থাকা দেয়ালের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে বিমানটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।

১০ জন শিশুসহ বিমানটিতে ১৯১ জন যাত্রী ছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন ২ জন পাইলট এবং ৪ জন কেবিন ক্রু। সৌভাগ্যক্রমে বিমানটিতে আগুণ ধরেনি। তেমন কিছু হলে হতাহতের সংখ্যা আরো বেড়ে যেত।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়