ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

উইঘুরদের নির্যাতনে ‘সরাসরি সম্পৃক্ত’ চীনা প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪২, ৩০ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:৪৬, ৩০ নভেম্বর ২০২১
উইঘুরদের নির্যাতনে ‘সরাসরি সম্পৃক্ত’ চীনা প্রেসিডেন্ট

শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের নিপীড়নের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা। নতুন প্রকাশিত গোপনীয় নথিতে এ দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক উইঘুর ট্রাইব্যুনাল এসব নথি প্রকাশ করেছে।

এসব নথিতে ২০১৪ সালের এপ্রিলে শি জিনপিংয়ের দেওয়া তিনটি বক্তব্য অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। তাতে চীনের নিরাপত্তা, উইঘুর জনগোষ্ঠীর জন্মনিয়ন্ত্রণ ও তাদের শাস্তি দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। 

আরো পড়ুন:

২০১৪ সালের মার্চে কুনমিংয়ে ছুরি হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়। এর জন্য শিনজিয়াংয়ের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করে বেইজিং। হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ দেন শি জিনপিং।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ‘শিনজিয়াংয়ের সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যাতে চীনের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে’ সেজন্য সর্বাত্মক যুদ্ধ করতে হবে। ‘শিনজিয়াংজুড়ে এমনকি সমগ্র দেশজুড়ে স্থিতিশীলতা দক্ষিণ শিনজিয়াংয়ের উপর নির্ভর করে’ বিধায় ‘চূর্ণ করার মতো আঘাত’ হানতে হবে।

তিনি জানান, যেহেতু সহিংস কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে চীনের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, ‘তাই আমরা প্রস্তাব করছি, শিনজিয়াংয়ে বর্তমানে ... হস্তক্ষেপমূলক চিকিত্সার একটি বেদনাদায়ক সময়।’

ধর্মীয় চরমপন্থিদের সম্পর্কে জিনপিং বলেছেন, এর হলো সেই ‘শয়তান যারা চোখের পলক না ফেলেই হত্যা করবে।’

তিনি ধর্মীয় চরমপন্থাকে ‘ভ্রম সৃষ্টিকারী একটি শক্তিশালী  ওষুধ’ বলেও সতর্ক করেছেন। তাই গ্রেপ্তার ও মুক্তিরপরিবর্তে উইঘুরদের শিক্ষার মাধ্যমে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন । তার এই শিক্ষার মাধ্যমে সংস্কার হচ্ছে উইঘুরদের তথাকথিত পুনঃশিক্ষা ও বন্দিশিবিরে আটক রাখা।

প্রসঙ্গত, শিনজিয়াং প্রদেশের বন্দী শিবিরগুলোতে ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে আটকে রেখেছে চীন। এই শিবিরগুলোতে বন্দীদের ওপর নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বিভিন্ন সময় প্রকাশ পেয়েছে। চীন এগুলোকে ‘সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে পরিচালিত পুনঃশিক্ষা কেন্দ্র’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।

আরেকটি নথিতে দেখা গেছে,  ২০১৪ সালের আগে একাধিক সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে হান জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় অগ্রাধিকার পেতো উইঘুররা। জিনপিং সেই অগ্রাধিকারমূলক জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

তিনি বলেছিলেন,  উইঘুরদের কেন্দ্রস্থলে জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতিগুলোকে ‘সবজাতিগোষ্ঠীর জন্য সমান’ করতে হবে।
 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়