ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ১৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিক্ষোভের মধ্যেই মুদ্রা পরিবর্তন করল বুলগেরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৪, ১ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:১৭, ১ জানুয়ারি ২০২৬
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিক্ষোভের মধ্যেই মুদ্রা পরিবর্তন করল বুলগেরিয়া

নতুন বছরের প্রথম দিনে ইউরোজোনের নতুন সদস্য হলো ইউরোপের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ বুলগেরিয়া। এর ফলে প্রায় দেড় শতাব্দী পর নিজস্ব মুদ্রা লেভকে বিদায় জানিয়ে ইউরো চালু করেছে দেশটি। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

বালকান অঞ্চলের এই দেশটি ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেয় এবং ২০২০ সালে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ইউরোজোনের ‘অপেক্ষমাণ তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়। উল্লেখ্য, ক্রোয়েশিয়া ২০২৩ সালে ইউরো চালু করেছিল।

আরো পড়ুন:

ইউরো গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় চারটি ‘মাস্ট্রিচ মানদণ্ড’- মূল্য স্থিতিশীলতা, সুসংহত সরকারি অর্থব্যবস্থা, বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুদের হারের সামঞ্জস্য- বুলগেরিয়া পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ব্রাসেলস এবং সোফিয়া (বুলগেরিয়ার রাজধানী) এই পদক্ষেপকে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এটি বুলগেরিয়ার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করবে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে এবং দেশটির সঙ্গে ইইউ-এর বন্ধন আরো দৃঢ় করবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের মতে,  ইউরো বুলগেরিয়ায় ‘অধিকতর বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান’ নিয়ে আসবে।

তবে এই পরিবর্তনটি এমন এক সময়ে এলো যখন দেশটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত চার বছরে সেখানে সাতবার সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির ক্রমাগত অভিযোগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা কমে যাওয়া দেশটিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

বিভক্ত জনমত

ইউরো চালু নিয়ে দেশটির জনমত ব্যাপকভাবে বিভক্ত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, ৫১ শতাংশ বুলগেরীয় নাগরিক একক এই মুদ্রা গ্রহণের পক্ষে থাকলেও ৪৫ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।

কট্টর ডানপন্থি দল ‘রিভাইভাল পার্টি’র নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ এই বিরোধিতাকে আরো উসকে দিয়েছে। দলটি সতর্ক করে বলেছে, ইউরো গ্রহণ ‘মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করবে।’ গত জুনে দলটির এমপিরা সংসদীয় পডিয়াম অবরোধ করেন এবং ইউরো চালু নিয়ে আলোচনার সময় সংসদে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

বুলগেরিয়ায় বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং বয়স্কদের মধ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি

বুলগেরিয়ায় গড় মাসিক বেতন প্রায় ১ হাজার ২৫০ ইউরো। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বুলগেরিয়ার মাথাপিছু জিডিপি সবচেয়ে কম (ইইউ গড়ের চেয়ে ৩৪ শতাংশ নিচে)। ফলে অনেক নাগরিকই চিন্তিত যে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামান্য বাড়লেও তা সামাল দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে।

ইইউ কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, ইউরো চালুর ফলে দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতির কোনো প্রমাণ নেই। তারা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে পণ্যের গায়ে দ্বৈত মূল্য প্রদর্শন এবং কঠোর তদারকিসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সমর্থকদের দাবি, ইউরোজোনে যোগ দিলে ঋণের খরচ কমবে এবং বুলগেরিয়ার ক্রেডিট রেটিং উন্নত হবে। এটি পর্যটন খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ জোগান দেয়।

তা সত্ত্বেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অব্যাহত রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফলকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। গত ডিসেম্বরে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী রোজেন জেলিয়াজকভের সরকার পদত্যাগ করেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে দেশটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়