যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশসহ আরো ২৫ দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরো ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। খবর রয়টার্সের।
নতুন সংযোজনের ফলে তালিকাভুক্ত দেশের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বণ্ড বা জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার ভিসা বন্ডের আওতায় আসবেন। ভিসা বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তালিকাভুক্ত ৩৮টি দেশের যারা বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাকে অবশ্যই ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার মূল্যের ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
ভিসা বন্ডের তালিকাভুক্ত দেশগুলো হলো-
এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ভিসা বন্ড আরোপিত দেশগুলো হলো-
আলজেরিয়া (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
অ্যাঙ্গোলা (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
বাংলাদেশ (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
বেনিন (২১ জানুয়ারী, ২০২৬)
ভুটান (১ জানুয়ারী, ২০২৬)
বতসোয়ানা (১ জানুয়ারি, ২০২৬)
বুরুন্ডি (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
কেপ ভার্দে (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (১ জানুয়ারি, ২০২৬)
আইভরি কোস্ট (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
কিউবা (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
জিবুতি (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
ডোমিনিকা (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
ফিজি (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
গ্যাবন (২১ জানুয়ারী, ২০১৬)
গাম্বিয়া (১১ অক্টোবর, ২০২৫)
গিনি (১ জানুয়ারি, ২০২৬)
গিনি বিসাউ (১ জানুয়ারি, ২০২৬)
কিরগিজস্তান (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
মালাউই (২০ আগস্ট, ২০২৫)
মৌরিতানিয়া (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)
নামিবিয়া (১ জানুয়ারি, ২০২৬)
নেপাল (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
নাইজেরিয়া (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
সাও টোমে এবং প্রিন্সিপে (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)
সেনেগাল (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
তাজিকিস্তান (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
তানজানিয়া (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)
টোগো (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
টোঙ্গা (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
তুর্কমেনিস্তান (১ জানুয়ারি, ২০২৬)
টুভালু (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
উগান্ডা (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
ভানুয়াতু (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
ভেনেজুয়েলা (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
জাম্বিয়া (২০ আগস্ট, ২০২৫)
জিম্বাবুয়ে (২১ জানুয়ারি, ২০২৬)
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি জারি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মক নির্বাসন অভিযান, ভিসা ও গ্রিন কার্ড প্রত্যাহার এবং অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট এবং অতীতের মন্তব্য যাচাই।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের অভিবাসন এবং ভ্রমণ-সম্পর্কিত নীতিগুলোর ব্যাপক সমালোচনা করে বলেছে, এটি যথাযথ প্রক্রিয়ার গ্যারান্টি এবং বাকস্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। ট্রাম্প ও তার মিত্ররা বলছেন, নীতিগুলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
ঢাকা/ফিরোজ