বাংলাদেশকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান দিতে যাচ্ছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধানরা ঢাকার কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রিসহ একটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইসলামাবাদ বর্তমানে তাদের অস্ত্র সরবরাহের পরিধি বাড়ানো এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শীর্ষ এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে সংঘটিত আকাশ যুদ্ধে তাদের বিমান বাহিনীর সাফল্যকে কাজে লাগাতে চাইছে। দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গত তিন দশকের মধ্যে সেটি ছিল ভয়াবহতম সংঘাত।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল হাসান মাহমুদ খান চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, পাকিস্তান বাংলাদেশকে সুপার মুশাক ট্রেইনার বিমান দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক উষ্ণ হচ্ছে
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ বৈঠকটি সেই উন্নত সম্পর্কেরই ইঙ্গিত।
শেখ হাসিনার পতনের ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলেছে, “এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার শক্তিশালী ঐতিহাসিক বন্ধনকে গুরুত্বারোপ করেছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীরতর করার পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার যৌথ সংকল্পকে প্রতিফলিত করেছে।”
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই প্রথম ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার বৈঠকে বসেছেন।
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের চাহিদা বাড়ছে
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তিতেও এই যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে বলেন, “পাকিস্তানের অস্ত্র শিল্পের এই সাফল্য দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে।” তিনি বলেন, “আমাদের বিমানগুলো পরীক্ষিত এবং আমরা এত বেশি ক্রয়াদেশ পাচ্ছি যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের প্রয়োজন পড়বে না।”
ঢাকা/ফিরোজ