ঢাকা     রোববার   ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

কানাডাকে ‘গিলে খাবে’ চীন: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৪, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:৪৭, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
কানাডাকে ‘গিলে খাবে’ চীন: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের বিরোধিতা করায় কানাডাকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কানাডা যদি তাদের বর্তমান নীতি বজায় রাখে তাহলে খুব শিগগির চীন কানাডাকে ‘গিলে যাবে’ বা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে। 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি। 

আরো পড়ুন:

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট কানাডাকে সতর্ক করে বলেন, অটোয়া যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করে, তাহলে খুব শিগগির চীনের পেটে চলে যাবে কানাডা। 

ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেন, “গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ডোম নির্মাণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে কানাডা, যদিও এই গোল্ডেন ডোম কানাডাকেই সুরক্ষা দেবে। এর পরিবর্তে কানাডা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা তাদের প্রথম বছরের মধ্যেই ‘গিলে খাবে’!”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি গ্রিনল্যান্ডে একটি ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করতে চান এবং এর জন্য কৌশলগত কারণে দ্বীপটি ডেনমার্কের কাছ থেকে অধিগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার যুক্তি হলো, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে দাভোস-এ ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, কানাডার উচিত তাদের প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। এমনকি তিনি দাবি করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে।”

এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার দেশের সাফল্যের পেছনে দক্ষিণ প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন আধিপত্যের’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বব্যবস্থা বর্তমানে ‘একটি ভাঙনের মুখে’ রয়েছে।

কার্নির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তাকে তার নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ থেকে বাদ দিয়ে দেন। এই সংস্থাটি মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে, বেইজিং আর্কটিক অঞ্চলে অন্য কোনো দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত বৃহস্পতিবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “তথাকথিত ‘চীন আতঙ্ক’ ভিত্তিহীন। চীন ভিত্তিহীন গল্প তৈরি করা ও স্বার্থসিদ্ধির অজুহাত হিসেবে চীনকে ব্যবহার করার তীব্র বিরোধিতা করে।”

ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ধারণা ব্যক্ত করেছেন এবং সম্প্রতি একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন যেখানে কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, ভেনেজুয়েলা ও কিউবাকে মার্কিন ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি চীন সফর করেছেন এবং দেশটির সঙ্গে একাধিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। 

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়