শিক্ষাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে হবে: খালেদা জিয়া
নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
[বাংলাদেশে শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি শিক্ষাকে জাতীয় এজেন্ডা হিসেবে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করার তাগিদ অনুভব করেছিলেন। খালেদা জিয়ার শাসনামলে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা , শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি চালু করা, মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা এবং উপবৃত্তি চালু করার মতো বেশ কিছু প্রকল্প গৃহীত হয়েছিলো। খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন বাংলাদেশ যেন বিশ্বপল্লীর একটি বস্তি হিসেবে না থেকে চলমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। ‘দৈনিক দিনকাল’ পত্রিকায় ২০০০ সালের ১ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে এসব বিষয় জানা যায়। সাক্ষাৎকারটি দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হয় সৈয়দ আবদাল আহমদ এর ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ গ্রন্থে। রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্ত অংশ প্রকাশিত হলো।]
প্রশ্ন: একবিংশ শতাব্দী নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
খালেদা জিয়া: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবিত উন্নতিতে উন্নত-অনুন্নত নির্বিশেষে গোটা বিশ্বের দেশগুলো এখন গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বপল্লীর অংশ হয়ে গেছে। পৃথিবীর মানুষের এখন একটিই প্রত্যাশা তা হচ্ছে এই একবিংশ শতাব্দী মানুষ ও মানবতার জন্য অকল্পনীয় শক্তি ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। তাই সারা বিশ্বের মানুষ আশা আর স্বপ্ন নিয়ে নতুন শতাব্দীর আলোকিত পথে এগিয়ে যেতে প্রস্তুতি নিয়েছে। আগামী দিনের সাফল্যের আয়োজন নিয়ে তারা ব্যস্ত। এক্ষেত্রে আমাদেরও করণীয় আছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে বাংলাদেশের অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বপল্লীর অখ্যাত বস্তি হিসাবে রয়ে যাবে। কোনোভাবেই তা আমরা হতে চাই না। তাই আমি মনে করি একবিংশ রাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশতে শতাব্দীতে চলমান বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকেও টিকে থাকতে হলে একবিংশ শতাব্দীর কর্মকৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন: একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেই কর্মকৌশল কী হতে পারে?
খালেদা জিয়া: সমাজবিজ্ঞানীরা আঠারো শতাব্দীকে আবিষ্কারের যুগ, উনিশ শতাব্দীকে শোষণের যুগ এবং বিংশ শতাব্দীকে বিপ্লবের যুগ বলে চিহ্নিত করেছেন। তারা নতুন একবিংশ শতাব্দীকে বলছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড নলেজ এজ বা অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং জ্ঞানের যুগ। তথ্য এবং জ্ঞানই হলো একবিংশ শতাব্দীর শক্তি। অর্থাৎ জ্ঞাননির্ভর একটি শিক্ষিত জাতিই কেবল পারবে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে। তাই আমি মনে করি একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের জাতীয় এজেন্ডা হওয়া উচিত শিক্ষা। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় আমরা কীভাবে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব? তাই শিক্ষাকে আমাদের জাতীয় এজেন্ডা হিসেবে নিয়ে একে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে হবে এবং যতদূর সম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সমুদয় জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক স্কুল থেকে উপরের স্তরের সকল ছেলেমেয়েকে কম্পিউটার প্রযুক্তিতে শিক্ষিত করার কাজ এগিয়ে চলেছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা অসাধ্য সাধন করছে। বিশ্বায়নের সুযোগগুলো যতটা সম্ভব আমাদেরও কাজে লাগাতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষিত কর্মক্ষম নাগরিক শ্রেণি গড়ে তুলতে পারলে আমরাও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব। তাছাড়া আমাদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জসমূহ শনাক্ত করা এবং সেগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলায় আমরা কতটুকু সক্ষম তার সঠিক মূল্যায়ন করা। এর ভিত্তিতেই আমাদের প্রণয়ন করতে হবে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা। দারিদ্র্য এবং বেকারত্ব বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। ক্রমবর্ধমান এই সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের নিতে হবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কর্মসূচি। মানবসম্পদ উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নারীসমাজের উন্নয়ন আমাদের জন্য এক অপরিহার্য বিষয়। নারীদের জাতীয় জীবনের মূলধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে তাদের কর্মক্ষমতা ও সম্ভাবনা বিকাশের সর্বোত্তম ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সামাজিক বিশৃঙ্খলা যেমন সন্ত্রাস, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, যানজট ইত্যাদি সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসন অপরিহার্য। পরিবেশ বিপর্যয় এখন বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। বাংলাদেশের জন্য এ সমস্যা আরো প্রকট। বর্তমানে পরিবেশ সমস্যা আমাদের সকলের জীবনমরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকার কথা বিবেচনা করলেই বোঝা যাবে সমস্যাটা কত প্রকট। ঢাকায় পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঢাকা। এখন একটি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে। এখানে শ্বাস নেয়াও নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিককালে ঢাকার বাতাসে সিসার আধিক্য সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, পানি দূষণের শিকার বিপুল জনগোষ্ঠী। এর মধ্যে আবার বাংলাদেশে এক নয়া বিপদ দেখা দিয়েছে। এটি হচ্ছে ভয়াবহ আর্সেনিক দূষণ। দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠী এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ বংশধরদের জীবন বাঁচাতে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি জাতীয় ঐকমত্য ও অঙ্গীকার প্রতিষ্ঠা হওয়া প্রয়োজন। এটা শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিকাশ এবং সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে সত্যিকার গণতন্ত্রই অন্যতম পথ। সেই সত্যিকার গণতন্ত্রের জন্য সকল প্রকার ফ্যাসিবাসের অবসান ঘটাতে হবে। আমি মনে করি, একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকারই উপরোক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে পারে।
প্রশ্ন: সরকার পরিচালনাকালে আপনি কি এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন?
খালেদা জিয়া: নিশ্চয়ই। বিএনপি সরকারে থাকাকালে গণতন্ত্রায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যক্তি উদ্যোগের প্রাধান্য, বাজার অর্থনীতি চালু, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো নির্মাণ, আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প জোরদার, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার ফলে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর কাছে তখন একটি বিকাশমান অর্থনীতির দেশ বা ইমার্জিং টাইগার হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। শিক্ষা বিস্তারে আমরা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলাম। প্রতিটি বাজেটেই আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ব্যয় বরাদ্দ রেখেছি।প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, দরিদ্র শিশুদের জন্য শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি চালু করা, মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা এবং উপবৃত্তি চালু করার ফলে শিক্ষার দ্রুত বিস্তার ঘটতে থাকে। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি চালু করার ফলে স্কুল গমনকারী ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। অনেক স্কুলে স্থান সংকুলান পর্যন্ত হতো না। ড্রপ আউট বা ঝরে পড়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও কমে আসে। নারীশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে মেয়েদের শিক্ষা আমরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করে দিয়েছিলাম এবং এইচএসসি পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালু করার পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। শিক্ষায় মেয়েদের উৎসাহিত করার জন্য দেশে চালু হয়েছিল মেয়েদের উপবৃত্তি কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় মেয়েদের বই কেনা এবং পরীক্ষার ফি বাবদও টাকা দেয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি জাগরণ এসেছিল। পাশাপাশি গণশিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়েছিল। এর ফলে লালমনিরহাটসহ কয়েকটি জেলা নিরক্ষরতার অভিশাপমুক্ত হয়েছিল। উচ্চশিক্ষার প্রসারেও আমরা নিয়েছিলাম ব্যাপক উদ্যোগ। দেশে নতুন স্কুল-কলেজ নির্মাণ, উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু আমাদের এই প্রচেষ্টাকে তৎকালীন বিরোধী দল ১৭৩ দিন হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও, অসহযোগ এবং অরাজকতার মাধ্যমে থামিয়ে দেয়। তাদের উন্নয়ন বিরোধী ও নাশকতামূলক তৎপরতায় দেশের স্থিতি ও অগ্রগতি চরমভাবে ব্যাহত হয়।
প্রশ্ন: আপনার সরকারের সময় নেয়া ওইসব কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা কী?
খালেদা জিয়া: দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও নীলনকশার মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গণরায় পাল্টে দিয়ে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। আমাদের নেয়া কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতো। কিন্তু আমাদের কর্মসূচিগুলো তারা তো বাস্তবায়ন করেইনি, নিজেরাও কোনো কর্মসূচি নেয়নি। শিক্ষাক্ষেত্রে চলছে এক নৈরাজ্যকর অবস্থা। শিক্ষাঙ্গনগুলো সরকারি দলের মাস্তানরা রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। সন্ত্রাস ও পরীক্ষায় নকলের অবাধ সুযোগ দিয়ে সরকার দেশের শিক্ষার মানকে নিম্নগামী করে চলেছে। পরীক্ষায় গণটোকাটুকি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এখন সংবাদপত্রের শিরোনাম হচ্ছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধের রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত। তারা দেশ শাসন করছে তুঘলকি কায়দায়। বর্তমান সরকার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে গণতন্ত্রের কাঠামোকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশে কায়েম করেছে স্বৈরতন্ত্র। এদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও আমরা সংসদে কথা বলতে পারি না। সংসদ আজ অকার্যকর। অথচ দীর্ঘ ১৬ বছর পর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আমরা পুনঃপ্রবর্তন করেছিলাম। জাতীয় সংসদ হয়েছিল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কাঠামো রচিত হয়েছিল। আজ বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের অধিকাংশ সময় পার হয়ে গেলেও দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক বা শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নতুন শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। তাই দেশের স্বার্থেই গণতন্ত্র বিরোধী ফ্যাসিবাদী সরকারের অবসান ঘটাতে সকল দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দল আজ ঐকবদ্ধ হয়েছে। সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে এক দফা দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের যৌথ ঘোষণায় সুস্পষ্টভাবে ভবিষ্যৎ সরকারের ২৪ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। যৌথ ঘোষণায় আমরা বলেছি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ন্যূনতম পর্যায়ের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতি গঠন প্রক্রিয়াকে সমুন্নত ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমাদের বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় শামিল হতে হবে। যথাসত্বর ব্যাপক ঐক্যের ভিত্তিতে একটি দেশপ্রেমিক ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল শক্তিশালী সরকার গঠন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
ঢাকা/লিপি