ঢাকা     সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ

এনসিপির চকিত চমক

রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:৩৮, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৩:৩৬, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এনসিপির চকিত চমক

(উপরের বাঁ থেকে) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং (নিচে বাঁ থেকে) এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বছরও পূর্ণ হয়নি- এমন একটি নবদ্বীপ্ত দলের প্রথম নির্বাচনে জয় দিয়ে উত্থানের ঘটনা সত্যিই বিরল। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রথম অগ্নিপরীক্ষাতেই প্রমাণ করেছে, তারা জনআকাঙ্ক্ষার নতুন শক্তি; পুরোনো বন্দোবস্তের জন্য ‘চকিত চমক’। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ছয়টিতে দারুণ জয় পেয়েছে তারুণ্যনির্ভর দলটি। ১৯ জন প্রার্থী দাপটের সঙ্গে জামানত রক্ষা করে ভবিষ্যতে জয়ের জন্য দুয়ার খুলে রাখলেন, যা অনেক পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের জন্য এখন ঈর্ষণীয়। তবে নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের অসহযোগিতা ও নানা প্রতিকূলতার জন্য প্রথম ভোটে এনসিপির পাঁচ প্রার্থী জামানত খুইয়েছেন।

আরো পড়ুন:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির ‘চকিত চমক’ হয়ে এনসিপির এই উত্থান দেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী ‘থার্ড ফ্যাক্টর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

জামানত বাঁচিয়ে ভবিষ্যতের সঞ্চয় ১৯ প্রার্থীর
জামানত হলো নির্বাচনি নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ, যা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। টাকা জমাদানের প্রমাণ স্বরূপ ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয়। একটি নির্বাচনি এলাকায় যত ভোট পড়ে তার শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট প্রার্থীরা যদি না পান, তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারের খরচের খাতায় চলে যায়। 

এবারের নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা রাখতে হয়েছে। এই হিসাবে এনসিপির ১৯ প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন।

১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা) আসনে এনসিপির প্রার্থী ডা. মো. আব্দুল আহাদ ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫টি ভোট পেয়েছেন, এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪টি। মাত্র ৪ হাজার ২৮৯টি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন, অবশ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আহাদ। 

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী জামানত রক্ষার জন্য মোট বৈধ ভোটের ১২.৫ শতাংশ ভোটের প্রয়োজন ছিল আহাদের, যিনি জামানত রক্ষার সীমার চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়ে ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে নিজের ‌‘জাত’ চিনিয়েছেন।

২. সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে এনসিপির প্রার্থী এস. এম. সাইফ মোস্তাফিজ ১ হাজার ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মুহিত ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯০১টি। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী জামানত রক্ষার জন্য মোট বৈধ ভোটের সাড়ে ১২.৫ শতাংশ বা প্রায় ৩৫ হাজার ০০০ ভোটের প্রয়োজন ছিল। এনসিপি প্রার্থী এস. এম. সাইফ মোস্তাফিজ ১ লাখের বেশি ভোটই শুধু পাননি, বিএনপি ও অন্যান্য দলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কড়া বার্তা রেখে গেছেন।

৩.পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ড. মো. শামীম হামিদী ৩৬ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়েছেন। তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হামিদ-সাইফের মতো দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল ৬৩ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামানত রক্ষার ১২.৫ শতাংশ ভোটের চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন শামীম হামিদী। সেই সঙ্গে মঠবাড়িয়ার মাটিতে নিজের জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। 

৪. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে শাপলা কলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাইফুল্লাহ হায়দার ৩৪,৫৮৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থান রয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এস এম ওবায়দুল হক নাসির ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। 

এই আসনে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২০টি বৈধ ভোট পড়েছে, যার মধ্যে সাড়ে ১২.৫ শতাংশ (আট ভাগের এক ভাগ) ভোটের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৮০৩ ভোট। সাইফুল্লাহ হায়দার সেই সীমার ওপরে ভোটই শুধু পাননি, নির্বাচনি এলাকায় তারুণ্যের জোয়ার তুলেছেন; যা এনসিপির সামনের রাজনীতির জন্য সুখবরই বলা যায়।

৫. ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে শাপলা কলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এনসিপির ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি এই আসনে ২২ হাজার ১৯৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামানত রক্ষার ১২.৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার শর্তে তার চেয়ে ঢের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি।

৬. নেত্রকোণা-২ (সদর ও বারহাট্টা) আসনে এনসিপি ও ১১ দলের প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠান শাপলা কলি লড়াই করে ৬৭ হাজার ৩৬৭ ভোটারের রায় পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এখানে ধানের শীষের অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামানত রক্ষার ১২.৫ শতাংশ ভোটের সীমা ছাড়িয়ে ফাহিম তার জামানত রক্ষা করেছেন। সেই সঙ্গে নির্বাচনি মাঠে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

৭. মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী) আসনে এনসিপির প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এই আসনে বিএনপির আবদুস সালাম আজাদ ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামানত রক্ষার ১২.৫ শতাংশ সীমার চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ অর্থাৎ ৩২.১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন মাজেদুল। এনসিপির ভোটব্যাংক হিসেবে ভবিষ্যৎ রাজনীতির সমীকরণ সাজাতে সহায়ক হবে মাজেদুলের পাওয়া এই ভোট।

৮. ঢাকা-৮ (মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও শাহজাহানপুর) আসনটি নির্বাচনে ‘ভাইরাল’ আসনের তকমা পায়। এখানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘শাপলা কলি’র ঝড় তুলে ৫৪ হাজার ১২৭ ভোটারের রায় অর্জন করেছেন। ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে সামান্য ব্যবধানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাস নির্বাচিত হলেও তারণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে নাসীরুদ্দীন তার ‘জাত’ চিনিয়ে দিয়েছেন। জামানত রক্ষার ১২.৫ শতাংশের লড়াইয়ের বিষয়টি এখানে মুখ্য নয়; বড় কথা হলো ৩২.২ শতাংশ ভোট নিয়ে ঢাকার কেন্দ্রে এনসিপির জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেখিয়ে দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন। 

৯. ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া (রাসিন) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে মোট ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোটারের আস্থা অর্জন করেছেন, তাতে তার অবস্থান দুইয়ে থাকলেও ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত গড়ে তুলেছেন তিনি। এখানে বিএনপির হাবিবুর রশীদ হাবিব ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামানত রক্ষার ১২.৫ শতাংশ ভোটের শর্ত উতরে গিয়ে রাসিন মানুষের খিলগাঁও-বাসাবোর মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।

১০. ঢাকা-১৮ আসনে (উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ ও খিলক্ষেত) এনসিপির আরিফুল ইসলাম আদীব ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেলেও তাকে হারের ভয় ধরাতে পেরেছেন আদীব, যিনি ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে রাজনীতির নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন।

১১. ঢাকা-১৯ (সাভার ও আশুলিয়া) আসনে দিলশানা পারুল নিজের দলেই মতো নবীন প্রার্থী। তবু তিনি ‘শাপলা কলি’র জন্য ৪৭ হাজার ২০৫টি ভোট আদায় করতে পেরেছেন; অবস্থান তার তৃতীয়। এখানের বিএনপির ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন ২ লাখ ১২ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অবশ্য জামানত বাঁচিয়ে নতুন দিনের জন্য বার্তা রেখে গেছেন পারুল।

১২. ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে নাবিলা তাসনিদ ৬১ হাজার ৮৫২ নাগরিকের ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এই আসনে বিএনপির তামিজ উদ্দিন ১ লাখ ৩০ হাজার ৪২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামানত বাঁচিতে তাসনিদ রেখে গেছেন এনপিসির প্রতি মানুষের ভালোবাসার নজির।

১৩. গাজীপুর-২ আসনে (গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একাংশ ও সেনানিবাস এলাকা) আসনে এনসিপি ও ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়েছেন। মাত্র কয়েক মাস বয়সের একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এই বিপুল মানুষের জনরায় পাওয়া নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। এই আসনে বিএনপির এম মঞ্জুরুল করিম রনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট পেয়ে জিতেছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন নাছের খান, যিনি ৪৪.৬৯ শতাংশ ভোট নিয়ে শুধু জামানত রক্ষাই করেননি; এনসিপিকে ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথে তুলে দিয়েছেন।

১৪. রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি) আসনেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন এনসিপি ও ১১ দলের প্রার্থী জামিল হিজাযী, যিনি ৬৭ হাজার ২৯৯টি ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এখানে বিএনপির মো. হারুন-অর-রশিদ ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। অবশ্য তাতে হিজাযীর জামানত রক্ষায় কোনো প্রভাব পড়েনি।

১৫. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে এনসিপি ও ১১ দলের হয়ে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ৬২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এখানে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব (শ্যামল) ২ লাখ ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। শ্যামলের চেয়ে বেশ কম ভোট পেলেও আতাউল্লাহর জামানত রক্ষায় তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

১৬. নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে এনসিপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এখানে বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুক ৮৩ হাজার ৯৮২ নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের ব্যবধান খুব বেশি নয়; ফলে ১২.৫ শতাংশের হিসাব নিয়ে জাকারিয়ার মাথা ব্যথা নেই।

১৭. লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে এনসিপি ও ১১ দলের প্রার্থী মো. মাহবুব আলম ৫৬ হাজার ৪৩৭ ভোট পেয়েছে দ্বিতীয় হয়েছেন; যেখানে বিএনপির শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৫ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের ব্যবধান ৩০ হাজারের মতো হলেও মাহবুবের জন্য একে জামানত রক্ষার লড়াই একে বলা যাবে না।

১৮. বান্দরবান পুরো জেলা নিয়ে একটি আসন। এখানে ১১ দলের প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিনকে শাপলা কলিতে ২৬ হাজার ১৬২ মানুষ ভোট দিয়েছেন; হয়েছেন দ্বিতীয়। এখানে বিএনপির সাচিং প্রু জেরী ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; অবশ্য তাতে সুজাউদ্দিনের জামানাত রক্ষায় কোনো সমস্যা হয়নি।

১৯. এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদের একটি উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠ। এই পদে রয়েছেন পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনে এনসিপির প্রার্থী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা সারজিস আলম।

পঞ্চগড়-১ আসনে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান সারজিস। মাত্র ৮ হাজারের মতো ভোটের ব্যবধানে বিএনপির ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের কাছে হারলেও ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা রেখে গেলেন সারজিস। যেকোনো প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করার মতো ভোট পঞ্চগড়ের তিন উপজেলার মানুষ তাকে দিয়েছে। 

মাত্র পাঁচ প্রার্থী জামানত হারালেও এন‌সি‌পি নিচেছে মানুষ
এনসিপির ছয় প্রার্থী সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় প্রত্যেকে তাদের জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা করে জামানত খুইয়েছেন।

১. নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের দিকে তাকালে দেখা যায়, এখানে এনসিপি ও ১১ দলের প্রার্থী অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদির ২০ হাজার ২৬৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮১টি ভোট পড়েছে। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ অর্থাৎ ২৯টি ১৯৭টি ভোটের প্রয়োজন ছিল জার্জিসের। তবে তিনি প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তার জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা আর ফেরত পাবেন না; সরকারি খরচের খাতায় চলে যাবে তার জামানত। এই আসনে বিএনপির অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

২. নরসিংদী-২ আসনের (পলাশ উপজেলা ও সদরের আংশিক) কথা যদি বলা হয়, এখানে এনসিপি ও ১১ দলের হয়ে তারণ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত মো. গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার) শাপলা কলি প্রতীকে মোট ১৯ হাজার ২৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। তুষারের এখানে বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। 

নরসিংদী-২ আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৬টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ২১ হাজার ২২৭ ভোট কিন্তু তুষার ন্যূনতম ভোটের চেয়ে ১ হাজার ৯৯১ ভোট কম পেয়েছেন। ফলে তার জামানত সরকারি খরচের খাতায় যোগ হয়ে গেছে।

৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে এনসিপি ও ১১ দলের মাওলানা আশরাফ মাহদী শাপলা কলি প্রতীকে ১১ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচনে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (হাঁস প্রতীক) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ৯৬ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে গৃহীত মোট ভোট ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৫০টি, যার ৮ শতাংশ হয় ১৭ হাজার ৩১৬টি। জামানত বাঁচাবার ভোটের কোটা পূরণ না হওয়ায় মাহদীকে হারাতে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

 ৪. চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে এনসিপি ও ১১ দলের মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ লড়াই করে শাপলা কলি প্রতীকে ২ হাজার ৯০৬টি টানতে পেরেছেন। যেখানে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৯ ভোট নিয়ে জিতেছেন। ১২.৫ শতাংশের শর্তে প্রায় ৩২ হাজার ৬০০ ভোট না পাওয়া খোয়া গেছে আরিফের জামানতের ৫০ হাজার টাকা।

৫. মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসনে এনসিপি ও ১১ দলের প্রার্থী প্রীতম দাসের অবস্থাও আরিফের মতো। শাপলা কলি প্রতীকে ৪ হাজার ৮৭৫ ভোট পেয়ে বিএনপির মুজিবুর রহমান চৌধুরীর কাছে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন প্রীতম দাস। মুজিবুর রহমান ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়ে প্রীতমকে ভোটের মাঠের শেষ সীমানা পার করে দিয়েছেন; ফলে জামানত রক্ষা হয়নি তার।

ছয় প্রার্থীর ঈর্ষণীয় জয়
পরাজিত হয়েও জামানত রক্ষা বা জামানত হারানোর গল্পের উল্টো পীঠে এনসিপির রয়েছে পাঁচ চমক সৃষ্টিকারী জয়ের গল্প। যেমন ঢাকা-১১ আসনের কথা বলা যায়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ঢাকার রামপুরা ও বাড্ডার মানুষের শুধু আস্থাই অর্জন করেননি; ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আলোচিত প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। নাহিদ ইসলাম মাত্র ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং জোটের অন্যতম নেতা হিসেবে ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছানার এই গল্প যেন রূপকথার মতো। 

ঢাকা-১১ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়, ভোটের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৫১৭টি। এই হিসেবে ঢাকা ১১ আসনে মোট বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫৩টি।

এনসিপির শীর্ষ পাঁচ পদের পাঁচজনকে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বললে ভুল হবে না হয়তো। তার মধ্যে অন্যতম শান্ত মেজাজের কৌশলী নেতা এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি রংপুর-৪ আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির দুর্গে বিজয়ের কেতন উড়িয়ে লাঙ্গলের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছেন। ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অবশ্য তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ ভোটারের এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৬৪টি। এই আসনে ভোট পড়ার হার ৬৪ দশমিক ৩৫।

কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ শাপলা কলি প্রতীকে নিয়ে রীতিমতো তুফান উঠিয়ে দিয়েছেন। ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষুরধার বক্তব্যের জন্য পরিচিতি পাওয়া অন্যতম এই তরুণ নেতা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন ট্রাক প্রতীকে ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়েছেন।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ আসনে শাপলা কলির শোভায় শোভিত করেছেন তার দলকে। ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট নিয়ে হারিয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান, যিনি ৬৪ হাজার ২১ ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিনের জয়ের ঘটনা নানা দিক থেকে উল্লেখযোগ্য। ‘খেলা হবে’ স্লোগান দেওয়া শামীম ওসমান এই আসনে ‘বিনা ভোট’ ও ‘রাতের ভোটের’ নির্বাচনে সংসদ সদস্য ছিলেন। অনেক বছর ভোট দিতে না পারা নারায়গঞ্জ-৪ আসনের মানুষ সুযোগ পেয়েই যেন সেই অতৃপ্তি মিটিয়ে নিলেন। ভোটবঞ্চিত নারায়ণগঞ্জের ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোটার রায় দিয়ে আল আমিনকে তাদের বৈধ জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠালেন। এখানে ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে ‘চকিত চমক’ হয়ে আবির্ভূতি হয়েছেন তিনি।

অবশ্য তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মোজাহিদ কুড়িগ্রাম-২ আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই নির্বাচনি মাঠে বড় চমক দেখিয়ে পুরোনোর ভোটের ধারায় নবসূচনা করেছেন মোজাহিদ।

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে চমক থেকে নতুন বন্দোবস্তের ডাক দিয়ে দেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষায় ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তরুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দল এনসিপির যাত্রা শুরু। উপদেষ্টার গদি ছেড়ে মানুষের কাতারে নেমে আসেন নাহিদ ইসলাম, তার কাঁধে ওঠে নতুন দলটির জোঁয়াল। ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে গিয়ে নিষ্কণ্টক হয়নি তাদের সরকারি ভূমিকা। উঠেছে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। যদিও তারা সেসব অস্বীকার করে দল গুছিয়ে ভোটের ময়দানে নামতেই ব্যস্ত ছিলেন। কয়েক মাসের প্রস্তুতিতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা দিন বদলের অঙ্গীকারের পক্ষে মানুষের সমর্থন পেয়েছেন; যা নতুন বাংলাদেশের পথে নবযাত্রা বলা যায়।

নির্বাচনে সার্বিক ফলাফল সম্পর্কে জানতে জাতীয় নাগরিক পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদের সঙ্গে যোগা করে রাইজিংবিডি ডটকম। সব কিছু পাশে রেখে নতুন দল হিসেবে যে ফল এসেছে, তাকে বড় করে দেখতে চান তিনি। 

আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, “নতুন দল হিসেবে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা সেভাবে দেখতে চাচ্ছি না। কারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে আমরা মাত্র কিছুদিন প্রচারের সুযোগ পেয়েছি। নতুন দল হিসেবে ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ছয়টি আসন জয় করেছি। এর মধ্যে কিছু কিছু আসনে সামান্য ভোটে আমরা হেরেছি। কিছু আসনে আমাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।”

“তবে আমরা এখানে একটি ভোটকেও মূল্যায়ন করতে চাই। দেশের ভোটাররা যে শাপলা কলিকে চিনতে পেরেছে, জানতে পেরেছে; এটাই আমাদের বড় পাওয়া। আশা করি, আগামীতে আমরা আরো ভালো করতে পারব। আর কয়েকটি আসনে জোটের প্রার্থীরা আমাদের দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেননি; এটাও জামানত হারানোর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে বিষয়টি প্রত্যেক দলের মধ্যেই থাকবে,” বলেন তিনি।

হার-জিত ও জামানত হারানোর এই পরিসংখ্যানকে নিছক অঙ্ক ছাড়া অন্য চোখে দেখতে রাজি নন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। তিনি মনে করেন, “নতুন দল হিসেবে আমাদের মূল্যায়ন হবে- এনসিপি অনেক ভালো করেছে।”

এনসিপির জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি ঐক্যে যাওয়া নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, এটি না করলেই বরং দলটির জন্য ভালো হতো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি তুলনামূলক অনেক ভালো ফলাফল করেছে। এই ফলাফল দিয়ে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করতে চায়। তারা যদি জোটে না গিয়ে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতেন, তাহলে তাদের আরো ভালো করার সুযোগ ছিল।”

“তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এনসিপির তৃতীয় শক্তি হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে,” যোগ করেন মাহবুবুর রহমান।

ঢাকা/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়