২১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি পুলিশ ব্যারাক নির্মাণ হচ্ছে
কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম
কেএমএ হাসনাত : পুলিশের আবাসন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে মোট ২১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ১২টি ব্যারাক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) একটি প্রস্তাব উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশের জনবল বাড়ানো হলেও পর্যাপ্ত ব্যারাক কিংবা আবাসিক সুবিধা না থাকার ফলে ওইসব জেলা বা পুলিশের ইউনিটে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্তা ও সদস্যরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। আর এ নিয়ে তারা চরম হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
জানা গেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদে পুলিশে জনবল বৃদ্ধি করা হলেও কর্মরত পুলিশ কর্তা ও সদস্যদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ব্যারাক ও আবাসিক ভবন নেই। পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সদস্যদের যোগদান করানো হলেও সেখানে ট্রাফিক, কোর্ট, ডিএসবি, সিআইডিসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালনকারীরা চরম সমস্যায় পড়েন এবং মানবেতর অবস্থায় তাদের থাকতে হয়।
এ অবস্থায় সরকার দেশের সাত বিভাগের ১০ জেলার ১২টি স্থানে ইউনিটের জন্য ১২টি নতুন ব্যারাক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছর শুরু হয়ে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে এসব ব্যারাক নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪টি ব্যারাক নির্মাণ করা হবে। ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় শিল্প পুলিশের জন্য একটি, গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদরে একটি পুলিশ লাইন নির্মাণ করা হবে। আর নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরে শিল্প পুলিশের জন্য এবং ফতুল্লায় একটি করে ২টি ব্যারাক নির্মাণ করা হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য ৩টি ব্যারাকের মধ্যে ডবলমুরিং ও খুলশিতে ২টি এবং কুমিল্লা কোতয়ালি পুলিশ লাইন্সে একটি ব্যারাক নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুরে একটি করে পুলিশ ব্যারাক নির্মাণ করা হবে।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত পুলিশ ইউনিটগুলোর মধ্যে শুধু খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটে ব্যারাক বিদ্যমান আছে। কিন্তু সেখানে বর্তমান জনবলের তুলনায় পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান না থাকা এবং অন্য ১১টি ইউনিটে কোন ব্যারাক না থাকায় প্রস্তাবিত ১২টি ইউনিটে নতুন ব্যারাক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২১৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর ব্যয় হবে ১০৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/হাসনাত/শাহনেওয়াজ
রাইজিংবিডি.কম
হামে আক্রান্ত-উপসর্গে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু