১৪ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা হোটেল-রেস্তোরাঁ কর্মীদের
সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর করার দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের কর্মচারীরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকরাও চরম দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। মালিকরা নিয়মিত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করছেন না। আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধানও উপেক্ষা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ত্রি-পক্ষীয় ও দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ৫ মে প্রকাশিত চূড়ান্ত মজুরি গেজেটও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হয়নি, যা শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।"
তিনি আরো বলেন, “গত ২০ অক্টোবর ও ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৪ ডিসেম্বর ত্রি-পক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশের সংগঠনসমূহকে নিয়ে গঠিত সংগ্রাম পরিষদ ১৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।”
আক্তারুজ্জামান খান বলেন, "সরকার চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করার পর তা আইনের রূপ নেয় এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। ঢাকা মহানগরীর স্টার গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২০২৫ সালের ৯ মার্চ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চাইছে।”
ঢাকা/রায়হান/ইভা