ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড মাস্টার প্ল্যানে টুরিজমের আগে সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৯, ৬ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৭:৪৯, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
‘সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড মাস্টার প্ল্যানে টুরিজমের আগে সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন উন্নয়নের আগে সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, “সেন্টমার্টিনকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে।তাই দেশের এই অনন্য ও বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ রক্ষায় সংরক্ষণকে সামনে রেখে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে হবে। কীভাবে এখানে আবার একটি সমৃদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেশ ফিরিয়ে আনা যায় সেটিই এই মাস্টার প্ল্যানের মূল উদ্দেশ্য।”

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায়, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সহায়তায় আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক কনসালটেশন ওয়ার্কশপ হেল্ড অন সেন্ট মার্টিনস আইল্যান্ড মাস্টার প্ল্যান’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “মাস্টার প্ল্যানে দ্বীপের সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং করণীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যাতে এটি সহজে অনুসরণযোগ্য হয়।সংরক্ষণের স্বার্থে সেন্টমার্টিনে পর্যটন অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আগত বহিরাগতদের ক্ষতিকর আধিপত্য রোধ করাও জরুরি।”

তিনি আরো বলেন, “মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপে বসবাসকারী মানুষের জন্য বিকল্প জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।মাছ ধরা, শুটকি উৎপাদন, হস্তশিল্প এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন এসবই স্থানীয়দের জন্য বিকল্প পেশা হতে পারে।”
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেন্টমার্টিন সংরক্ষণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই সময়েই মাস্টার প্ল্যানের একটি খসড়া প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে সহযোগিতাকারী সব অংশীজনকে ধন্যবাদ জানান।

কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় কমিউনিটি নেতাসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

অসাধারণ পরিবেশগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিন দ্বীপ বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, প্রবাল ও ঝিনুক আহরণ, টেকসই নয় এমন মৎস্য আহরণ পদ্ধতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে গুরুতর পরিবেশগত অবক্ষয়ের মুখে পড়েছে।এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও এর আশপাশের সামুদ্রিক এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করে।

প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যানে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটিভিত্তিক যৌথ ব্যবস্থাপনাকে একত্র করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (অন্তর্বর্তীকালীন) সোনালি দয়ারত্নে।

কর্মশালায় ড্রাফট সেন্টমার্টিনস আইল্যান্ড মাস্টার প্ল্যানের ওভারভিউ, ড্রাফট মাস্টার প্ল্যানের ওপর সংগৃহীত মতামত এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য বিষয়ে তিনটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করা হয়। পাশাপাশি সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ইকোলজি, ফরেস্ট্রি ও বায়োডাইভার্সিটির বিশেষজ্ঞ এইচ এম নুরুল ইসলাম, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রেজাউল করিম এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দল মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিনস আইল্যান্ড মাস্টার প্ল্যান ২০২৬ সালের প্রথম দিকেই চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ঢাকা/এএএম/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়