ঢাকা     শুক্রবার   ০৮ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩ || ২০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৪:৫১, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩
সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের

নিউ জিল্যান্ডের ডানেডিন ছেড়ে নেলসনে বাংলাদেশ। ছবির মতো একেকটি শহর প্রকৃতির প্রেমে পড়তে বাধ্য করে। নেলসনের সৌন্দর্যও যেন ভিউ কার্ডের মতো। সাজানো গোছানো এক স্বপ্নরাজ্য।

যে স্বপ্নরাজ্যেও অস্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ডানেডিনে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ম্যাচ হারের পর নেলসনে তাদের সামনে সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ। বুধবার ভোরে বাংলাদেশ সময় চারটায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামবে দুই দল। ম্যাচটা হারলে নিউ জিল্যান্ডে আরেকটি সিরিজ হারের দুঃস্মৃতি যোগ হবে। জিততে পারলে শুধু সিরিজেই সমতা আনবে না, নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো স্বাগতিকদের বিপক্ষে রঙিন পোশাকে ম্যাচ জিতবে বাংলাদেশ। এর আগে নিউ জিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কখনো ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে একটি ওয়ানডে জয় অবশ্য রয়েছে। নেলসনের স্যাক্সটন ওভালেই বাংলাদেশ ৩১৯ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

আরো পড়ুন:

এবারের লড়াইটা এতোটা সহজ নয় অবশ্য। প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড দারুণ ফর্মে। নিয়মিত অনেক খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে টম লাথামের নেতৃত্বে কিউইরা মাঠে নামলেও অভিজ্ঞতার অভাব বাকিরা বুঝতে দিচ্ছেন না। ব্যাট-বলের পারফরম্যান্সের দারুণ ধারাবাহিকতা। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিরুদ্ধ কন্ডিশনে খাবি খাচ্ছে বারবার। প্রথম ওয়ানডেতে ভালো অবস্থানে থেকেও ম্যাচ নিজেদের হাত থেকে ফসকে দিয়েছে। বিশ্বকাপের আগে থেকেই ব্যর্থতার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। কখনো পুরোপুরি ধস, কখনো ভালো শুরুর পর আটকে যাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও কাজে আসছে না। যা রীতিমত উদ্বেগের।

সমাধানের পথ জানা নেই বলে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে গণমাধ্যমের কাছে উত্তর চাইলেন, ‘বিশাল উদ্বেগের (ব্যাটসম্যানদের বড় রান না করা)। আপনার কাছে যদি উত্তর (সমাধান) থাকে বলবেন, তাদেরকে আমি জানাবো।’

সঙ্গে যোগ করেন, ‘সব সময় উন্নতির কথা বলি আমরা। যেভাবে পরিকল্পনা প্রয়োগ করেছি সেটা আরও ভালো হতে পারত। বোলিংয়ে কন্ডিশন অনুযায়ী লেন্থ-লাইন মানিয়ে নিতে পারি। ব্যাটিংয়ে শুরু করে বড় রান হয়নি। আমাদের এক-দুজনকে বড় রান করতে হবে।’

ব্যাটিং ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় নমুনাই হয়ে আছে সৌম্য সরকার। কোথাও পারফর্ম না করেই নিউ জিল্যান্ড সফরে সুযোগ পেয়ে যাওয়া সৌম্য যেন দলের অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন আরও। বিকল্প না থাকাতেই যে তাঁকে নিয়ে যেতে হয়। প্রথম ওয়ানডেতে ওপেনার এনামুলসহ চার ব্যাটসম্যান উইকেটে থিতু হওয়ার পরও বরাবরের মতো বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

বোলিংও হয়েছে ছন্নছাড়া। চার নিয়মিত বোলারের সঙ্গে সৌম্যকে দিয়ে পঞ্চম বোলারের অভাব পূরণ করতে চেয়েছিল দল। কিন্তু সিদ্ধান্ত হীতে বিপরীত হয়েছে। চারিদিকে খোলা এই মাঠে ৭ ওয়ানডেতে ৬টিতেই জিতেছে নিউ জিল্যান্ড। তাদেরকে হারাতে তাই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে।

ওয়ানডেতে লম্বা সময় ধরেই বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলতে পারছে না। দুয়েকটি জয় আসলেও সেগুলোতে মনে ধরার মতো পারফরম্যান্স নেই। নেলসনে সব প্রশ্নের উত্তর ঠিকানা খুঁজে পায় কিনা সেটাই দেখার।

ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়