ঢাকা     মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩ || ২৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জ্যোতিষ শাস্ত্রের আলোকে বিশ্বকাপ ফুটবলের ভবিষ্যদ্বাণী

এ, কে, এম, আতিকুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৬, ১৩ জুলাই ২০১৪   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
জ্যোতিষ শাস্ত্রের আলোকে বিশ্বকাপ ফুটবলের ভবিষ্যদ্বাণী

জার্মানি, আর্জেন্টিনার লোগো ও বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ম্যাচের ফল নিয়ে পূর্বাভাস। ফুটবল বোদ্ধাসহ বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে এসব পূর্বাভাস দিলেও এখন পর্যন্ত কেউই এক আসরে সবগুলো সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারেননি। তবে গত বিশ্বকাপে অক্টোপাস ‘পল’ ৮টি ম্যাচের সবগুলোর সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এরপর থেকেই যেন অঘোষিতভাবে চলছে ‘ফুটবল জ্যোতিষীদের’ গণনার খেলা। এসব ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েই এবার জ্যোতিষ শাস্ত্রের আলোকে লিখেছেন এ, কে, এম, আতিকুল ইসলাম

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত এক চরিত্রকে এবার খুব মনে করছে পুরো ফুটবল বিশ্ব। মাঠে নামা তো দূরের কথা, একটিও ম্যাচ না দেখেই যে হয়ে উঠেছিল গত বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বড় বড় ফুটবল পন্ডিতরা যেখানে বড় বড় ম্যাচের নির্ভুল ফলাফল বলে দিতে হিমশিম খান, সেখানে ফুটবলের ন্যূনতম জ্ঞান ছাড়াই পলের এমন নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন অগণিত ভক্ত-অনুরাগী। তবে দুঃখের বিষয় যে, সারা বিশ্বে হইচই ফেলে দেয়া সেই ‘পল দ্য অক্টোপাস’-এর চিরবিদায়ের পর এখন পর্যন্ত আর কোন নির্ভরযোগ্য  ফুটবল জ্যোতিষী খুঁজে পায়নি বিশ্ব। এখন তাই চলছে বিভিন্নভাবে পলের শূণ্যস্থান পূরণের চেষ্টা। হাতি, উট, কচ্ছপ, পান্ডা, ইঁদুর- এমন কত প্রাণী দিয়েই না চলল ম্যাচের নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা। শুধু এসব অবলা প্রাণীই বা কেন, ফুটবল জ্যোতিষীর এ তালিকায় যোগ হয়েছে, মাইক্রোসফটের ভার্চুয়াল কন্যা ‘কোর্টানা’ও। বিশেষ ধরণের এই সার্চ ইঞ্জিন বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ম্যাচের ফল আগাম জানিয়ে দিচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এত এত প্রাণী দিয়ে ফুটবল ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টার মধ্যেও কিন্তু কোন মানব জ্যোতিষীর নাম সেভাবে আলোচনায় আসছে না। ইতোমধ্যেই কয়েকজন জাদুকর তাঁদের জাদুমন্ত্রবলে সম্ভাব্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের নাম জানিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উপর জাদুটোনা করার দাবিদার ঘানার জনৈক ওঝা বোনসাম। আবার জাদুকরদের সবাই যে একই রায় দিচ্ছেন তা কিন্তু নয়। এক জাদুকরের সঙ্গে অন্য জাদুকরের পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। আর জাদুকরের বাইরে জ্যোতিষশাস্ত্র বিশারদদের অর্থাৎ জ্যোতিষীদের নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করছেন এমনটা তো দেখা যাচ্ছে না। তবে কি জ্যোতিষ শাস্ত্রে ফুটবল ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার কোন উপায় নেই?

পাঠকবৃন্দ চলুন, দেখা যাক, জ্যোতিষ শাস্ত্রের আলোকে এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে। তবে সেই আলোচনার জন্য বিশ্বের তাবৎ ফুটবল অনুরাগী এবং জ্যোতিষীদের কাছে রক্তচক্ষু উপেক্ষা করার দুঃসাহস না দেখিয়ে উপায় নেই। সঙ্গত কারণে পরামর্শদাতা হিসেবে এখানে কোন জ্যোতিষীর নাম উল্লেখ করা হল না। আর জ্যোতিষ শাস্ত্রের আলোকে করা এ আলোচনায় ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা তাই এড়িয়ে যাওয়া হল। ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিনিয়ত কত শত-সহস্র লেখাই তো লিখছি আমরা ক্রীড়ালেখকরা।

যেকোন ব্যক্তির ভাগ্য গণনা করতে জ্যোতিষ শাস্ত্রে যেসব বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় সেগুলো হচ্ছে- রাশি নির্ণয়, হস্তরেখা পর্যালোচনা এবং সংখ্যাতত্ত্ব। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা এবং জার্মানির কোনটাই তো মানবজাতির সদস্য না যে তাদের জন্মতারিখ এবং হস্তরেখা পাওয়া যাবে। তাহলে উপায় কী? জ্যোতিষীদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সেই দেশের স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসকে জন্মদিন হিসেবে ধরা যায় (এটুকু পড়ে কোন জ্যোতিষী আবার ক্ষিপ্ত হবেন না যেন। কারণ কথায় বলে, নানা মুনির নানা মত)। এ ছাড়া দেশের নাম থেকে প্রাপ্ত সংখ্যা দিয়েও হিসাব-নিকাশ করা যায়। তাহলে দেখা যাক, আর্জেন্টিনা এবং জার্মানির ক্ষেত্রে জ্যোতিষ শাস্ত্রের বিদ্যা প্রয়োগ করে কী ফল পাওয়া যায়।

সংখ্যাতত্ত্ব সম্পর্কে অনেকেরই পরিস্কার ধারণা না থাকায় দেখা যায়, নিজেদের ইচ্ছেমত নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়ার চেষ্টা করেন। যেমন- ৮ বছর, ১২ বছর, ২৪ বছর ইত্যাদি বিভিন্ন সময় পর পর একই রেজাল্ট আশা করা। প্রকৃতপক্ষে সংখ্যাতত্ত্বের মূল ভিত্তি ১ থেকে ৯ পর্যন্ত অর্থাৎ মাত্র ৯টি সংখ্যা। তাই ৮, ১২, ২৪ ইত্যাদি সংখ্যাকে ভিত্তি করে হিসাব করলে তা নাও মিলতে পারে।
 
অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করেছেন সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা দিবস। অর্থাৎ ১৯৮ বছর আগের ৯ জুলাই (১৮১৬ সাল) আর্জেন্টিনার জন্ম হয়েছিল। রাশিচক্রের হিসাবে তা কর্কট রাশির অন্তর্ভুক্ত। আর ৯ জুলাই জন্ম হওয়ায় ৯ সংখ্যাটি আর্জেন্টিনার জন্য শুভ হিসেবে ধরা যায়। আর্জেন্টিনার (ARGENTINA) নাম থেকে যে সংখ্যা পাওয়া যায় সেটাও ৯। অর্থাৎ কাকতালীয় হলেও দেশটির জন্মসংখ্যা এবং নাম থেকে প্রাপ্ত সংখ্যা একই। আবার, কর্কট রাশির উপর চন্দ্রের আধিপত্য থাকায় ৭ সংখ্যাটিও আর্জেন্টিনার জন্য শুভ হিসেবে ধরা যায়। সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৪ সাল ৭ সংখ্যার (২+১+৪) বছর।

 প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, দেশটির প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ও ছিল ৭ সংখ্যার বছর ১৯৭৮-এ। সেবার স্বাগতিক আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটিও খেলেছিল ৭ সংখ্যার একটি দিনে (২৫ জুন)। যদিও ৭ সংখ্যাটি হচ্ছে ৯ এর বিকর্ষণীয় সংখ্যা।

অন্যদিকে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ জার্মানির কিন্তু কোন স্বাধীনতা দিবস নেই। বিভিন্ন সময়ে ভাঙ্গা-গড়ার মধ্য দিয়ে জার্মানি আজকের অবস্থায় এসেছে। ১৮৭১ সালের ১৮ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত এক চুক্তিবলে তৎকালীন বিভিন্ন স্বাধীন রাজ্য মিলিতভাবে জার্মান সাম্রাজ্য (German Empire) গঠন করে। তবে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিকভাবে হওয়া এই একত্রীকরণ চুক্তি কার্যকর হয় ওই বছরেরই ১৬ এপ্রিল। আবার বর্তমানে দুই জার্মানির ঐক্যের স্মরণে সাড়ম্বরে যে Unity Day পালন করা হয়, তা মাত্র ২৪ বছর আগের ঘটনা (১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর)।

অর্থাৎ দেশটির ক্ষেত্রে তাই কোন নির্দিষ্ট বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে জন্মদিন না জানা কোন ব্যক্তির ভাগ্য গণনার মত। জার্মানি (GERMANY) নাম থেকে পাওয়া সংখ্যা হচ্ছে ৩। এই ৩ সংখ্যার জন্য ৭ সংখ্যা আকর্ষণীয় হওয়ায় ২০১৪ সাল জার্মানির জন্য ভালো যাওয়ার কথা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার চেয়ে জার্মানিকে পিছিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি এবার একগাদা রেকর্ড গড়ে জার্মানরা ইতোমধ্যেই চলতি বিশ্বকাপে অনেক কিছু অর্জনও করেছে।


এবার দেখা যাক, ফাইনাল ম্যাচের দিন দু’দলের ভাগ্যে কী কী ঘটতে পারে। ফাইনাল ম্যাচ হচ্ছে ১৩ জুলাই, যা ৪ সংখ্যার একটি দিন। এটি ৩ সংখ্যার বিকর্ষণীয় সংখ্যা। আবার সেদিন ৯ সংখ্যার প্রাধান্য থাকবে। ফলে তা আর্জেন্টিনার শুভ সংখ্যার (৯) সঙ্গে মিলে যায়। তবে একই সঙ্গে ৯ সংখ্যাটি ৩ এর আকর্ষণীয় সংখ্যা হওয়ায় তা জার্মানদের জন্যও কমবেশি শুভ ধরা যায়।

আবার ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়াম। রিও ডি জেনেইরো (RIO DE JENEIRO) এবং মারাকানা (MARACANA) দুটোই ৯ সংখ্যার। আর পুরো বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ব্রাজিলের নাম এবং স্বাধীনতা দিবস থেকে পাওয়া সংখ্যা হচ্ছে ৭।

এবার পাঠকবৃন্দ আপনারাই বলুন, ফাইনালের দু’দলের মধ্যে কার ঘরে যাবে শিরোপা। জটিল এই হিসাব-নিকাশ শেষে সিদ্ধান্ত যদি নিয়েই ফেলতে পারেন, তাহলে আপনিও হয়ে গেলেন ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবলের অনেক জানা-অজানা জ্যোতিষীর একজন। আর যদি এতসব হিসাব-নিকাশে মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে, তাহলেই বুঝুন জ্যোতিষ শাস্ত্রে ভাগ্য গণনা করা কতটা কঠিন। হয়তো এ কারণেই বিখ্যাত জ্যোতিষীরাও বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা থেকে সযত্নে দূরে থাকেন। পল, নেলি, শাহিনদের না হয় কারও কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। মানব জ্যোতিষীরা তো আর সে সুবিধাটুকুও পাবেন না!

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ জুলাই ২০১৪/আতিকুল/আমিনুল

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়