সাকিবের অলরাউন্ড জাদুতে ফাইনালে এমআই এমিরেটস
‘বড় ম্যাচের বড় তারকা’- কথাটি যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে আইএল টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আবুধাবী নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে বল ও ব্যাটে সমান আধিপত্য বিস্তার করে এমআই এমিরেটসকে ফাইনালের টিকিট এনে দিলেন এই বাংলাদেশি তারকা। তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ভর করে ৭ উইকেটের বড় জয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপার লড়াই নিশ্চিত করেছে এমিরেটস।
টস হেরে আগে বোলিং করতে নেমে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে এমিরেটস। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে সাকিবের নিয়ন্ত্রিত স্পিন ছিল নাইট রাইডার্স ব্যাটারদের জন্য এক ধাঁধার মতো। নিজের নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচ করে তিনি রানের চাকা অচল করে দেন। সাকিবের তৈরি করা এই চাপের সুযোগ নিয়ে অন্য বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিলে মাত্র ১২০ রানেই থমকে যায় নাইট রাইডার্সের ইনিংস।
১২১ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল এমআই এমিরেটস। এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে অভিজ্ঞ সাকিবের ব্যাট কথা বলে ওঠে। টম ব্যানটনকে সঙ্গে নিয়ে মাপা ঝুঁকিতে ইনিংস পুনর্গঠন করেন তিনি। ২৪ বলে ৩৮ রানের এক কার্যকরী ইনিংস খেলার পথে সাকিব হাঁকান ৫টি চার ও একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। তিনি যখন সাজঘরে ফিরছেন, জয় তখন এমিরেটসের হাতের নাগালে।
ম্যাচজয়ী এই অবদানের জন্য ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠে সাকিবের হাতে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪৬৯ ম্যাচে এটি সাকিবের ৪৬তম ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ খেতাব। এর মাধ্যমে তিনি এই ফরম্যাটে সর্বাধিক সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে কাইরন পোলার্ড (৪৮ বার) ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (৪৮ বার) টপকে যাওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। তবে ৬০ বার ম্যাচসেরা হয়ে এই তালিকার সবার ওপরে ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন ক্রিস গেইল।
এক নজরে সাকিবের ম্যাচ:
বোলিং: ৪ ওভার, ২০ রান, ০ উইকেট (ইকোনমি ৫.০০)।
ব্যাটিং: ২৪ বলে ৩৮ রান (৫ চার, ১ ছক্কা)।
অর্জন: ম্যাচসেরা ও ফাইনাল নিশ্চিত।
পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ের সুযোগ কম পেলেও নকআউটের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে সাকিবের এই জ্বলে ওঠা আবারও মনে করিয়ে দিল কেন তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার বলা হয়।
ঢাকা/আমিনুল