RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৭ ||  ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সিলেটে ফাঁড়ির সামনে অনশনে রায়হানের মা ও স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১৯, ২৫ অক্টোবর ২০২০  
সিলেটে ফাঁড়ির সামনে অনশনে রায়হানের মা ও স্বজনরা

রায়হান হত্যা মামলায় সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন রায়হানের মা ও স্বজনরা।

রায়হানের আহমদে মা সালমা বেগম বলেন, ‘এই ফাঁড়িতে জানোয়ারের মতো আমাদের আদরের ধন রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে।  যেখানে তাকে হারিয়েছি, সেখানেই আমরণ অনশন শুরু করেছি।  এসআই আকবরসহ সকল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবেই।’

রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সেখানে বসে অনশন শুরু করেন। অনশনস্থলে তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুনও প্রদর্শন করছেন।

বেলা ১টা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি।  এ বিষয়ে রায়হানের মা সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ এখনও আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করে নাই।  ওরা নিজেরাই বুঝতেছে, তারা দোষি।  এজন্য ভয়ে হয়ত যোগাযোগ করতেছে না।  ওরা কুকুরের মতো কামড়িয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।’

সালমা বেগম বলেন, ‘রায়হান হত্যার ১৪ দিন হলেও এসআই আকবর এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।  তাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  এ ঘটনায় ফাঁড়ি থেকে আকবরসহ ৭ জনকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা হলেও তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।  এদের মধ্যে কেবল কনস্টেবল টিটু ও হারুনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসআই আকবরসহ  অভিযুক্ত সকলকে গ্রেপ্তারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন রায়হানের মা সালমা বেগম।  এ আল্টিমেটামে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ফের তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।  এ কর্মসূচি শনিবার শেষ হয়।  এরপরই আজ অনশনে বসেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর (রোববার) ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানের মৃত্যু হয়।  এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার।  ওই ফাঁড়ি ইনচার্জসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়।  মামলাটি এখন তদন্ত করছে পিবিআই।

সাময়িক বহিস্কৃতরা হচ্ছেন- ফাঁড়ি ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশীদ।  আর প্রত্যাহার করা ৩ জন হলেন সহকারী উপ-দর্শক (এএসআই) আশীক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন।

এছাড়া ফাঁড়ি ইনচার্জ সাময়িক বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরকে পালাতে সহায়তা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ গত বুধবার (২০ অক্টোবর) ফাঁড়ির এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত এসআই আকবর পলাতক রয়েছেন, আর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে দু'জনকে।  আর অন্যরা পুলিশের হেফাজতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে আছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট/নোমান/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়